উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হলো এমন একটি রেখা, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তি সাপেক্ষে দুটি উৎপন্ন দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।
ধনতন্ত্রের অর্থনৈতিক কাজকর্ম আপাতদৃষ্টিতে শৃঙ্খলহীন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা একটি অদৃশ্য শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। এ অদৃশ্য শক্তিই হলো স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা।
ধনতন্ত্রে দামব্যবস্থা অর্থনৈতিক কাজকর্মকে পরিচালনা করে থাকে উৎপাদকের উৎপাদনের পরিমাণ ও ভোক্তার ভোগের পরিমাণ দ্রব্যের দাম দ্বারা নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ, প্রতিটি পণ্য, সেবা ও উপকরণের দাম তাদের স্ব-স্ব চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। দাম নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় 'স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা'।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। এ অর্থব্যবস্থার বেশ কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। এজন্য বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করতে হয়। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া, সমাজতন্ত্রে ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত না থাকায় ভোক্তাকে বাধ্য হয়ে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পণ্য বা সেবা ভোগ করতে হয়।
উদ্দীপকে জনাব 'X' চাকরি সূত্রে 'A' দেশে বসবাস করেন। যেখানে সরকার সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। যার কারণে উক্ত অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগে জনগণ সঞ্চয়ের উৎসাহ হারায় এবং মানুষের সাধারণ কর্মস্পৃহা হ্রাস পায়। এছাড়া 'A' দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় প্রশাসনিক অদক্ষতা, বণ্টনে অসমতা, শ্রমিকের স্বাধীনতা হ্রাস, উৎপাদিত পণ্যের মান হ্রাস ইত্যাদি অসুবিধাসমূহ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশে সমাজতন্ত্র ও 'B' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। নিচে দুটি দেশের অর্থব্যবস্থার মাধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের উপর ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বজায় থাকে তাকে নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বলে। আর, ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সংমিশ্রণকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।
নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান। কিন্তু মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যগে পরিচালিত হয়। তাই এখানে উভয় খাতের সম্মিলিত উদ্যোগের দ্বারা পরিচালিত অর্থনৈতিক কাজকর্মে দক্ষতা ও ফলপ্রসূতা বাড়ে, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অনুপস্থিত। একটি 'অদৃশ্য হাত' মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ভোক্তা, উৎপাদনকারী, ক্রেতা এবং বিক্রেতার বহুমুখী কর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এ অদৃশ্য হাতের পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রণ মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সকল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করে। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দাম প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব 'X' চাকরি সূত্রে 'A' দেশে বসবাস করেন। । সেখানে সকল কিছু রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত যা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশে করে। অন্যদিকে, তার বড় ভাই 'B' দেশে বাস করেন যেখানে ব্যক্তি ভোগ ও উৎপাদন ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। যা মিশ্র অর্থব্যবস্থায়কে নির্দেশে করে। তাই বলা যায়, 'A' দেশ ও B' দেশের অর্থব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য
Related Question
View Allমানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছাকে অভাব বলে।
বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ দ্বারা উৎপাদিত দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দেশ করা হয় তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) বলে।
মনে করি, একটি সমাজ তার সীমাবদ্ধ সম্পদের সাহায্যে ১ লক্ষ বই অথবা ১ কোটি কলম তৈরি করতে পারে। সমাজ ইচ্ছা করলে কলম উৎপাদন হ্রাস করে বই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। আবার একই পরিমাণ সম্পদের সাহায্যে বই ও কলমের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করতে পারে। এভাবে সীমিত সম্পদের সাহায্যে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার (PPC) সাহায্যে দেখানো যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি দেশ A, C ও B-তে যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা যেখানে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আর এই দুই অর্থব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মিশ্র অর্থব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরকারি উদ্যোগে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, 'A' দেশে সবকিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিক্রয় হয় ফলে দ্রব্যাদির দাম বেশি। অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, 'C' দেশে সকল সম্পদের মালিক হলো 'কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার'। এখানে সরকারের অধীনে সকল পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। তাই বলা যায়, 'C' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে 'B' দেশে লক্ষ করা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষণীয়। সুতরাং 'B' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
ধনতান্ত্রিক কিংবা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনায় জনগণের কল্যাণের জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থাই উত্তম। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি মালিকানা বিদ্যমান থাকায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য না থাকলেও ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার উদ্ভব হয়। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উক্ত দুটি অর্থব্যবস্থার দোষগুলো পরিহার করে গুণগুলো গ্রহণ করা হয়। এজন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জনকল্যাণ সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'A' দেশে সকল কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদিত হওয়ায় ভোক্তাকে উচ্চ মূল্যে দ্রব্য বা সেবা ভোগ করতে হয়। অন্যদিকে উৎপাদনকারী অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে উৎপাদন পরিচালনা করে। এর ফলে জনকল্যাণ প্রাধান্য পায় না। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার, 'C' দেশে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হলেও ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকে না। অর্থাৎ, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে সমাজের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্বে কোথাও বিশুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায় না।
আর 'B' দেশে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি কিছু কিছু কারখানা সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত বলে যেমন অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়, তেমনি সরকার জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনবোধে দামব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে জনকল্যাণ সর্বাধিক হয়। তাই একটি দেশের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, 'A' ও 'C' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনায় 'B' দেশের অর্থব্যবস্থা তথা
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হচ্ছে এমন একটি রেখা যার বিভিন্ন বিন্দুতে সীমিত সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তি সাপেক্ষে দুটো উৎপাদিত দ্রব্যের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।
অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়া অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
অসীম অভাব পূরণের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি মানুষ অভাবের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। একটি অভাব পূরণ হলে আর একটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। মানুষ এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করে। কিন্তু অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। সীমিত এ সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভবপর হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!