মিনুর হাতুড়ির নাম গদাই।
শুকতারা মিনুর মতোই খুব ভোরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই মনে করে।
পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে আশ্রিত। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভোরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর তার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তো তার মতোই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই মনে করে।
উদ্দীপকের ফজলুর এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর জীবনের পথচলার দিক থেকে অমিল দেখা যায়।
শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও দেখা যায় যে, অনেকেই পড়ালেখা করে নিজেদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সমাজের সব স্তরের মানুষের উচিত এদের পাশে দাঁড়ানো।
উদ্দীপকের ফজলুর প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে নিজেকে তুলে ধরেছে সবার সামনে। সে দুই হাত ও এক পা না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে লিখে পিএসসি ও জেএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে এগিয়ে চলার মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাকে গ্রহণ করেছে। কিন্তু মিনু তা করেনি। মিনু সেই সুযোগটুকুও পায়নি কারণ সে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত। তাই সে এগিয়ে চলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে তার যষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে। আর তৈরি করেছে নিজের আলাদা জগৎ। তাই বলা যায়, ফজলুর ও মিনুর জীবনের পথচলার দিক থেকে অমিল রয়েছে।
"উদ্দীপক এবং 'মিনু' গল্পের মধ্যে অমিল থাকলেও গল্পের উদ্দেশ্য ও মূলভাব এক।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সব মানুষের জীবনের গতি এক নয়। সবাই যার যার জায়গায় নিজেদের মতো করে জীবনের সংগ্রাম করে। সবার অবস্থান পৃথিবীতে সমান নয়। তাই প্রত্যেকের জায়গা থেকে প্রত্যেকের সংগ্রাম শ্রদ্ধা ও সম্মানের দাবিদার।
উদ্দীপকে ফজলুর দুই হাত ও এক পা না থাকা সত্ত্বেও এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলে যায়। এমনকি সে পা দিয়ে লিখে পিএসসি ও জেএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। এত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। 'মিনু' গল্পের মিনু কথা বলতে পারে না এবং কানেও শুনতে পায় না। কিন্তু এরপরও সে বাড়ির সব কাজ করে। সে অন্যের ঠোঁট নাড়ানো দেখেই সব কথা বুঝে নিতে পারে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে সে তার মনের মতো জগৎ তৈরি করে নিয়েছে।
ফজলুরের এবং মিনুর পথচলার মাঝে পার্থক্য থাকলেও উদ্দীপক এবং 'মিনু' গল্পের মূলভাব এক। কারণ তারা নিজ নিজ জায়গায় নিজেদের মতো করে সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। সংগ্রামের পথটা আলাদা হলেও তারা নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী নিজেদেরকে গোছানোর চেষ্টা করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক এবং গল্পের মূল বিষয় এক। কারণ দুটি জায়গাতেই প্রতিবন্ধীদের জীবনসংগ্রাম ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allমিনু তার এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকত।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের বাইরে মানুষের তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
ছোট মেয়ে মিনু বোবা ও বধির। চিৎকার করে বললে সে কথা শুনতে পায়। ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। মিনু তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি দিয়ে এমন সব জিনিস বুঝতে পারে, এমন সব জিনিস সৃষ্টি করে যা সাধারণের দ্বারা কষ্টসাধ্য। মিনুর এ অনুভূতিশক্তিকেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্যা ও মিনুর মধ্যে 'বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
পৃথিবীতে ভালো-মন্দ দু'রকম মানুষেরই সংমিশ্রণ রয়েছে। ভালো মনের মানুষ পরকেও আপন করে নেয়। আবার মন্দ মনের মানুষ আপনকেও সহজেই পর করে দেয়।
উদ্দীপকের বন্যা মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে। সালমা তার আত্মীয় নয়, কিন্তু বন্যাকে স্কুলে পড়াশুনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বন্যার গুণে তিনি তাকে পরিবারের একজন সদস্য মনে করেন। অন্যদিকে 'মিনু' গল্পের মিনু তার দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকলেও তাকে নানা রকম কাজ করতে হয়। সেখানে বন্যার মতো মিনু পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। মিনু ও বন্যা উভয়কেই অন্যের সংসারে কাজ করতে হয়। কিন্তু অবস্থানগত কারণে বন্যা বেশি সুযোগ-সুবিধা পায় আর মিনু বঞ্চনার শিকার হয়- উভয়ের মাঝে এই বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা মানবজীবনের অপরিহার্য সম্পদ। শিক্ষাগ্রহণ মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে এবং সেটাকে সে তার যাপিত জীবনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে।
উদ্দীপকের বন্যা এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রের পার্থক্য রয়েছে। বন্যা সারা সকাল মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে দিবা শাখার স্কুলে পড়ালেখা করে। সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পেলেও বাইরের জগতের শিক্ষা পায়নি। অপরপক্ষে মিনু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও প্রকৃতির কাছ থেকে সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।
'মিনু' বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি রয়েছে। সেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে। প্রকৃতি তার শিক্ষা গ্রহণের পাঠশালা। উদ্দীপকের বন্যার মতো মিনুর বন্ধুত্ব না হলেও প্রকৃতির মাঝে সে শিক্ষা ও সাহচর্য খুঁজে নেয়। তাই বলা যায় বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
শুকতারা মিনুর মতোই খুব ভোরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই বলেছে।
পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভোরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তো তার মতোই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই বলেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
