জন্মান্তরবাদের সাথে কর্মবাদ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে। জড়িত। আত্মার অবিনাশিতাবাদ ও জন্মান্তরবাদের ন্যায় কর্মবাদও হিন্দুধর্মের ভিত্তিস্বরূপ। কর্মবাদের মূলকথা হলো- বিশ্বজগৎ স্রষ্টার বড় কর্মক্ষেত্র। এখানে জীব ভাবনা, বাসনা ও চেষ্টার দ্বারা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেকটি কর্মে রয়েছে পৃথক পৃথক কর্মফল। হিন্দুধর্ম মতে কর্ম করলেই কর্মফল উৎপন্ন হবে। আর কর্মকর্তাকে তা ভোগ করতে হবে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

একবার জন্মগ্রহণ করে কর্মফল ভোগ শেষ না হলে সে কর্মফল ভোগের জন্য পুনরায় জন্মগ্রহণকে বলে জন্মান্তর। এ জন্মান্তর সম্পর্কে যে দার্শনিক চিন্তাভাবনা তাকেই বলে জন্মান্তরবাদ।

উত্তরঃ

জন্মান্তরবাদের সাথে কর্মবাদ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। কর্ম করলে কর্মফল উৎপন্ন হয়। কর্ম করলে কর্মকর্তাকে অবশ্যই কর্মফল ভোগ করতে হবে। এ কর্মফল ভোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি হবে না। আর এ মুক্তি লাভ না হওয়া পর্যন্ত বার বার দেহ ধারণ করে পৃথিবীতে আসতে হবে। মানুষের সবকিছুই নির্ভর করে কর্মের ওপর। তাই যে যেমন কর্ম করবে সে অনুযায়ী তার পরবর্তী দেহ হবে।

উত্তরঃ

ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। সকল কিছুর পরিচালক তিনি। জীবের জীবিকা অর্জনের জন্য কর্মও তিনি সৃষ্টি করেছেন। আমরা যা কিছু করি। সেসবই কর্ম। প্রত্যেক কর্মেরই ফল আছে। শুভ কর্মের ফল শুভ বা পুণ্য আবার অশুভ কর্মের ফল অশুভ বা পাপ। এ কর্মফল কিন্তু কর্মকর্তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হয়। ভোগ ছাড়া কোনো কর্মফল নষ্ট হয় না। এটাই হচ্ছে কর্মবাদ।

কর্মবাদের মূলকথা হলো, বিশ্বজগৎ স্রষ্টার বড় কর্মক্ষেত্র। এখানে জীব ভাবনা, বাসনা ও চেষ্টার দ্বারা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। মানবজীবনে কর্মবাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। মানুষ তাৎক্ষণিক কর্মফল লাভ করতে চায়। এর ফলে সে ঈশ্বরবিমুখ হয়ে পড়ে। কিন্তু কর্মবাদ সম্পর্কে জানার কারণে একজন মানুষ দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদন করে। ফলে জীব ও জগতের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উত্তরঃ

মানুষ যে কর্ম করে যে কর্মের ফল একাধিক জন্মে, ভোগ করতে হয়। এ জন্মের কর্মের ফল পরবর্তী কোনো জন্মে ভোগ করতে হয় একে বলে জন্মান্তর। হিন্দুধর্মের মতানুসারে দেহ নশ্বর, কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। মৃত্যুতে মানুষের দেহ নষ্ট হয়, কিন্তু আত্মার ধ্বংস হয় না। কর্মের ফল অনুযায়ী আত্মা নতুন দেহ আশ্রয় করে পুনরায় জন্মগ্রহণ করে, এ জন্মগ্রহণ হল জন্মান্তর। য়ে পর্যন্ত কর্মফল ভোগ বাকি থাকবে যে পর্যন্ত বারবার জন্মগ্রহণ করতে হবে।

দেহ ও আত্মার মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা এবং আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব হয়। দেহহীন আত্মার কোনো মূল্য নেই। আবার আত্মাহীন দেহ জড়। দেহের ভিতর যে আত্মার অবস্থান রয়েছে তা উপলব্ধি করা কঠিন। আত্মা যে দেহকে আশ্রয় করে যেটি নশ্বর।
যিনি জীবদেহ ধারণ করে এসেছেন তার দেহনাশ নিশ্চিত হয়ে রয়েছে। এ জীবাত্মা একদেহ ত্যাগ করে অন্য নতুন দেহে চলে যায়। মৃত ব্যক্তির জন্মও সুনিশ্চিত। জীবাত্মা পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। এ তত্ত্বই হচ্ছে জন্মান্তর প্রক্রিয়া।

117

হিন্দুধর্ম একটি সুপ্রাচীন ধর্ম। এ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কোনো একজন মাত্র ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না। বহু সাধকের সাধনায় এ ধর্ম বিকশিত হয়ে চলছে। ঈশ্বরের স্বরূপ, তাঁর প্রতি বিশ্বাস, কর্মবাদ, জন্মান্তর, অবতারতত্ত্ব, দেব- দেবীর পূজা, মোক্ষলাভ, নারীর প্রতি মর্যাদাবোধ এগুলো হিন্দুধর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এসকল বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়েই হিন্দুধর্মের স্বরূপ উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা করা যায়।

আবার হিন্দুধর্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা হিন্দুধর্মের ভিত্তিস্বরূপ কতিপয় বিশ্বাস ও ধর্মকৃত্যের সঙ্গে পরিচিত হই।

এ অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদে যথাক্রমে হিন্দুধর্মের স্বরূপ ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • হিন্দুধর্মের স্বরূপ-বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করতে পারব
  • হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ঈশ্বরতত্ত্ব, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাসের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • হিন্দুধর্মের কতিপয় মৌলিক বিশ্বাসের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব (যেমন-কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ জগতের কল্যাণ এবং মোক্ষ)
  • ধর্মকৃত্য হিসেবে উপাসনা পদ্ধতি, পূজা, ধর্মাচার ও সংস্কার ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ধর্মবিশ্বাস হিসেবে কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ ধারণা দুটি ব্যাখ্যা করতে পারব
  • কর্মফল ও জন্মান্তর সম্পর্কে একটি ধর্মীয় উপাখ্যান ও তার শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে নারীর মর্যাদার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নারীর মর্যাদা প্রদানে করণীয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব
  • কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস রেখে ত্যাগী হয়ে শুভকর্মে লিপ্ত থাকব
  • নারীর প্রতি মর্যাদা ও শ্রদ্ধা পোষণ করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

কর্মবাদ ও জন্মান্তর হিন্দুধর্মের দুটি ভিত্তি।
চলতি জন্মে কর্মফলের ভোগ যদি শেষ না হয় তাহলে কৃতকর্মের ফল ভোগের জন্যই মানুষের পুনরায় জন্ম হয়। এটিই কর্মবাদ। আর জন্মের পর মৃত্যু, মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম এটি জন্মান্তর। তাই বলা হয়, জন্মান্তরের পেছনে রয়েছে কর্মবাদ।

173
উত্তরঃ

ঈশ্বরের বিশ্বাস আত্মমুক্তি ও জগতের হিতসাধন এগুলো হচ্ছে হিন্দুধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য।

উদ্দীপকের অধীর বাবু তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন সকলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। সবার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। এসব বৈশিষ্ট্য হিন্দুধর্মে প্রতিফলিত হয়েছে। হিন্দুধর্ম পবিত্রভাবে জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে। সৎ, মহৎ, সহনশীল ও মনুষ্যত্ব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। এক প্রকৃত ধর্ম পালনকারীর মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সেগুলোর সব বৈশিষ্ট্যই অধীর বাবুর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।

হিন্দুধর্ম আমাদের মঙ্গল এবং জীবজগতের কল্যাণে নিবেদিত। এসব বৈশিষ্ট্য থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কেউ তার জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে ও সর্বদা মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করে পরম শান্তি লাভ করতে পারে।

191
উত্তরঃ

যে পরিবারে নারীর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান বা মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়, দেবতারা সে পরিবারে আনন্দে বাস করে।

উদ্দীপকের অধীর বাবুর মা, বোন ও স্ত্রীর প্রতি রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। যা পঠিত বইয়ে নারীর মর্যাদার কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বামী হিসেবে অধীর বাবু স্ত্রীকে যথেষ্ট ভালোবাসেন এবং তাকে যথেষ্ট মর্যাদা দেন। অপরদিকে মা ও বোনকে সে প্রাণাধিক ভালোবাসেন। হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের প্রকৃতি বা শক্তি হচ্ছে নারী। এ শক্তিকে বলা হয় আদ্যা শক্তি বা মহামায়া। শক্তি ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আর সেই শক্তির দেবী হচ্ছেন নারী। এভাবে নারী শক্তির প্রতি হিন্দুধর্মে যথেষ্ট মর্যাদা দান করা হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে অধীর বাবু তার মা, বোন ও স্ত্রীকে যথেষ্ট মর্যাদা দিয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের উচিত ধর্মগ্রন্থের অনুশাসন মেনে নারীর প্রতি সমতাপূর্ণ আচরণ করা। নারীর মধ্যেও আত্মারূপে - ঈশ্বর অবস্থান করেন, তাই নারীর প্রতি মর্যাদা প্রকাশ তো ঈশ্বরের - প্রতি মর্যাদা প্রকাশ করারই নামান্তর।

139
উত্তরঃ

প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হিন্দুধর্মেরও বিশেষ তত্ত্ব, কতকগুলো ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মকৃতা রয়েছে। যেগুলো হিন্দুধর্মের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। যেমন- ঈশ্বরতত্ত্ব, ঈশ্বরে বিশ্বাস ও ভক্তি, কর্মবাদ ও জন্মান্তর, অবতারবাদ, মোক্ষলাভ, জীব ও জগতের কল্যাণ ভাবনা ইত্যাদি। আর এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে হিন্দুধর্মের স্বরূপ।

162
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews