'অনিমেষ' শব্দের অর্থ অপলক, পলকহীন।
সুভার মনের ভাব তার চোখে ফুটে ওঠে, তাই তার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
আমরা কথার মধ্য দিয়ে যে ভাষা প্রকাশ করি তা আমাদের নিজ চেষ্টায় গড়ে নিতে হয়। ঠিক কোনোকিছু তর্জমা করার মতো, যা সব সময় ঠিক হয় না। সুভার বড়ো বড়ো কালো চোখের যে ভাষা, যে উজ্জ্বলতা তাতে, অবর্ণনীয় ভাবের প্রকাশ রয়েছে, যেগুলোর দিকে তাকালে আর কোনো তর্জমা করার দরকার হয় না। তার চোখ দুটোই কথা বলে। সুভার মনের ভাব তার চোখের উপরে কখনো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠত, আবার কখনো ম্লানভাবে নিভে আসত। কখনো চঞ্চল বিদ্যুতের মতো, আবার কখনো ডুবে যাওয়া চাঁদের মতো হয়ে তার মনের ভাব প্রকাশ করত। সুভার মুখের ভাষা না থাকলেও দৃষ্টির গভীরতা স্পর্শ করা যায়। তাই সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
উদ্দীপকের সুলতানার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজে স্বাভাবিক মানুষের সঙ্গে কিছু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষও দেখা যায়। তারা শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক সময় অবহেলার শিকার হয়। অথচ তারাও আমাদের মতো স্বাভাবিক মানুষ। স্বাভাবিক মানুষের সহযোগিতা পেলে তারাও সমাজে অবদান রাখতে পারে। তাদের জীবন আরও সুন্দর হতে পারে।
উদ্দীপকের সুলতানা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার ডান হাত এবং ডান পা এক রকম অকেজো। স্বাভাবিক মানুষের মতো হাঁটাচলা, কাজকর্ম সে করতে পারে না। তাকে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। আর এ কারণে তার সঙ্গে কেউ মিশতে চায় না, খেলাও করে না। 'সুভা' গল্পের সুভা ব্যাকপ্রতিবন্ধী বলে সমবয়সি ছেলে-মেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না, খেলায় নেয় না। মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সমাজের মানুষের কাছে সুভার মা-বাবাকে নানা অপমান ও গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের সুলতানার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার মিল রয়েছে।
"উদ্দীপকের সুলতানা চরিত্রের যে দিকটি সুভার মধ্যে অনুপস্থিত, সেটিই তার করুণ পরিণতির মূল কারণ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করা, তাদেরকে দেশের উন্নয়নের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা উচিত।
'সুভা' গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী; সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সিরা তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পরিবারে বাবা সহ্য করলেও সুভার মা সুভাকে সহজভাবে গ্রহণ করেনি। মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ মনে করেছেন। স্বাভাবিক মানুষের মতো বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন হয়েও সুভা সমাজ ও পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে নিজেকে আলাদা করে রেখেছে। সে নির্বাক প্রকৃতি, গৃহপালিত পশু-পাখির সঙ্গেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সুলতানা ব্যতিক্রম। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও স্বাভাবিক মানুষের মতো শিক্ষাগ্রহণ করতে চেয়েছে। ডান হাতে শক্তি না থাকলেও সে বাম হাতে লেখালেখি করে নিজের পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছে এবং স্নাতকে ভর্তি হয়েছে, যা সুভার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
'সুভা' গল্পের সুভার কথা বলতে না পারাটাই তার জীবনের করুণ পরিণতির মূল' কারণ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই সে সমাজ ও পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে মনোবল হারিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সুলতানা মনোবল হারায়নি। সে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে। সুভা তার অনুভূতিকে সেভাবে প্রকাশ করতে পারেনি। সে কল্পনা করেছে প্রতিবন্ধিতা কাটিয়ে উঠতে কিন্তু বাস্তবে তা করতে পারেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ
শঙেখর মাঝে সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!