⇨জন্ম: ১৮৫৮ খ্রিঃ ফ্রান্স

⇨প্রধান গ্রন্থ: "The Suicide"

⇨ প্রবক্তা: ক্রিয়াবাদ

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'The Communist Manifesto' জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কসের লেখা।

উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞান হলো জ্ঞানের এমন একটি শাখা যা সমাজ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ নিয়ে নিরপেক্ষভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে। 

সমাজবিজ্ঞান সামাজিক বিজ্ঞানের পর্যায়ভুক্ত একটি বিজ্ঞান যা সমাজে অবস্থানরত মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, কার্যাবলি, রীতিনীতি, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। সর্বোপরি সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে এমিল ডুর্খেইম-এর পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কারণ ছকে যে মনীষীর কথা বলা হয়েছে তিনি ১৮৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সামাজিক তত্ত্বের প্রবক্তা, Suicide গ্রন্থের প্রণেতা এবং ক্রিয়াবাদের জনক এসব তথ্য এমিল ডুর্খেইমকে নির্দেশ করে।

এমিল ডুর্খেইম ১৮৫৮ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের এপিনালে এক ইহুদি পণ্ডিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে প্রাইমারি শিক্ষা সমাপ্ত করে ডুর্খেইম ১৮৭৯ সালে বুদ্ধিজীবীদের কেন্দ্রস্থল 'Normal Superieure'-এ ভর্তি হন। তিনি কৃতিত্বের সাথে ১৮৮২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৯৩ সালে তিনি ফরাসি থিসিস 'The Division of Labour'-এর ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। এ বিষয়ে তার বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ডুর্খেইম সামাজিক ঘটনাকে প্রাকৃতিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি সামাজিক ঘটনাকে সমাজবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, 'Suicide' গ্রন্থের প্রণেতা এমিল ডুর্খেইম সমাজবিজ্ঞানের বহুবিদ গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব প্রণয়ন করে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গিয়েছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের বিক্যাত মতবাদসমূহের মধ্যে অন্যতম আত্মহত্যা সম্পর্কিত মতবাদ।

সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম তার 'The Suicide' গ্রন্থে পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আত্মহত্যার সামাজিক উপাদানগুলোকে ব্যাখ্যা কর। তার মতে আত্মহত্যা হলো একটি ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার একটি সামাজিক ঘটনা। সমাজবিজ্ঞানী ডুর্খেইমের মতে, “প্রতিটি মৃত্যুতে যিনি মারা গেলেন তার দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পাদিত কাজ যা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। এরকম কোনো কাজের ফলশ্রুতিতে কেউ মারা গেলে সে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে।”

'আত্মহত্যা সম্পর্কিত মতবাদ অনুযায়ী আত্মহত্যা ব্যক্তিগত, মনস্তাত্ত্বিক, ভৌগোলিক বা দৈহিক কারণে ঘটে না বরং এটি একটি সামাজিক ঘটনা এবং সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব। 'The Suicide' গ্রন্থে তিনি তিন ধরনের আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: ১. আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা ২. পরার্থপর আত্মহত্যা, ৩. নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা। তার মতে সমাজ বা গোষ্ঠীর মধ্যে সংহতির অভাব দেখা দিলে আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা সংঘটিত হয়। আবার ব্যক্তির সাথে সমাজের অতিরিক্ত সংহতির কারণে পরার্থপর আত্মহত্যা ঘটে এবং নৈরাজ্যজনক বা বিশৃঙ্খল অবস্থায় যখন ব্যক্তির ওপর সমাজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না ও ব্যক্তি নিজেকে সমাজের সাথে যুক্ত করতে পারে না তখন নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা ঘটে।

উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ডুর্খেইমের আত্মহত্যা মতবাদটির সমাজতাত্ত্বিক ভিত্তি রয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনাবলির পরিসংখ্যান গ্রহণ করা যায় এবং এর পরিমাণ নিরূপণ করা যায়। ফলে এটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচ্য থাকে না, একটি সামাজিক ঘটনায় পরিণত হয়।

326
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের সমাজ বিশ্লেষণের পদ্ধতি হলো আদর্শ নমুনা।

ওয়েবারের মতে, কোনো সামাজিক প্রপঞ্চ কিংবা ঐতিহাসিক সত্তাকে জানতে বা বিশ্লেষণ করতে হলে তার আদর্শ নমুনা তৈরি করতে হবে। আর এ নমুনা তৈরির জন্য বিজ্ঞানীকে অন্তর্দৃষ্টির আশ্রয় নিতে হবে। বিশেষ করে একটি প্রপঞ্চের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও যৌক্তিকতাকে আদর্শ ধরে নিয়ে অন্য প্রপঞ্চকে তার সাথে মিল বা অমিলের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। ম্যাক্স ওয়েবারের 'আদর্শ নমুনা' সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতির প্রবর্তন। তিনি আমলাতন্ত্রকে 'আদর্শ নমুনা' তত্ত্বের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেছেন।

2.7k
উত্তরঃ

জাউদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষের শ্রমবিভাজন ও আত্মহত্যাতত্ত্ব ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের।

উনিশ শতকের অন্যতম সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম তার 'The Division of Labour in Society' গ্রন্থে আধুনিক শিল্পসমাজে শ্রমবিভাজনের অস্বাভাবিক রূপ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এর দু'টি প্রধান অস্বাভাবিক রূপকে চিহ্নিত করেন। এগুলো হলো, নৈরাজ্যমূলক এবং বাধ্যতামূলক শ্রমবিভাজন। নৈরাজ্যমূলক শ্রমবিভাজনটি শ্রমের চরম বিশেষীকরণের ফল। এক্ষেত্রে ব্যক্তি তার বিশেষীকৃত কর্মক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বাধ্যতামূলক শ্রমবিভাজন হলো এমন একটি অবস্থা, যাতে ব্যক্তি তার পছন্দ অনুযায়ী বৃত্তি নির্বাচনের সুযোগ পায় না। ফলে বাধ্যতামূলকভাবে তাকে যেকোনো একটি বৃত্তি গ্রহণ করতে হয়। ডুর্খেইম বলেন, ব্যক্তির যোগ্যতাকে অস্বীকার করে এভাবে তার ওপর শ্রম চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক সংঘাতের মূল কারণ।

এমিল ডুর্খেইম তার 'The Suicide' গ্রন্থে আত্মহত্যা সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যা হলো ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার সামাজিক ঘটনা। কারণ আত্মহত্যা ঘটনাবলির পরিসংখ্যান গ্রহণ এবং এর পরিমাণও নিরূপণ করা যায়। ফলে এটি কেবল আত্মহত্যা হিসেবেই বিবেচ্য থাকে না, বরং তা সামাজিক ঘটনায় পরিণত হয়। ডুর্খেইম আত্মহত্যাকে তিনভাগে ভাগ করেছেন। যথা- আত্মকেন্দ্রিক, পরার্থমূলক এবং নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উনিশ শতকের অন্যতম পথিকৃৎ সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম প্রদত্ত শ্রমবিভাজন ও আত্মহত্যাতত্ত্বের উল্লেখ রয়েছে।

403
উত্তরঃ

লাউদ্দীপকে উল্লিখিত মুসলিম মনীষী হচ্ছেন ইবনে খালদুন।

খালদুন ১৩৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিউনিসের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অর্থাৎ জন্মসাল অনুযায়ী তিনি চৌদ্দ শতকের মনীষী। এছাড়া ইবনে খালদুনই সর্বপ্রথম মানুষ সম্পর্কে একটি বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব এবং সামাজিক বা গোষ্ঠী সংহতিকে ব্যাখ্যা করেন, যেমনটা উদ্দীপকে বলা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে আমি ইবনে খালদুনকে পথিকৃৎ দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে মূল্যায়ন করব।

ইবনে খালদুন বিশ্বের ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে 'কিতাবুল ইবার' নামে যে গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন তার ভূমিকা 'আল-মুকাদ্দিমা' নামে পরিচিত। এ গ্রন্থটিতে তিনি তার সমসাময়িককালের ইতিহাসবেত্তাদের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ত্রুটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ইবনে খালদুন বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু রাজনৈতিক ঘটনার নিছক বর্ণনা ইতিহাসের বিষয়বস্তু হতে পারে না। তাই তিনি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এজন্য ইবনে খালদুন একটি নতুন বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। এ নতুন বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি হবে সুনির্দিষ্ট, যা সত্যিকারের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনায় সাহায্য করবে। ইবনে খালদুন তার এ নতুন বিজ্ঞানের নাম দেন 'আল-উমরান' বা সংস্কৃতির বিজ্ঞান। এ বিজ্ঞান সব ধরনের মানব প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি, প্রকৃতি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করবে। ইবনে খালদুন প্রদত্ত 'আল-উমরান'কে সমাজবিজ্ঞান বলা যেতে পারে। কারণ মানবসমাজই এ বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। এছাড়া 'আল আসাবিয়া' ইবনে খালদুনের সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারার কেন্দ্রীয় প্রত্যয়। 'আসাবিয়া' প্রত্যয়টির অর্থ হলো সামাজিক বা গোত্র সংহতি। ইবনে খালদুনের মতে, সমাজের  ভিত্তি হচ্ছে গোত্র সংহতি। সমাজ সম্পর্কে তার এ চিন্তাধারা পরবর্তীকালে পৃথক শাস্ত্র হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছিল। এ কারণেই মহান এই মুসলিম মনীষীকে সমাজবিজ্ঞানের 'আদি জনক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞানের মূলভিত্তি রচনায় ইবনে খালদুনের অবদান অপরিসীম।

560
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews