উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ১৯৫৫ সাল থেকে। কারণ দক্ষিণ সুদানের মানুষ কখনই স্বাধীনভাবে বসবাসের সুযোগ পায়নি। দেশটির রাজধানী ছিল উত্তর সুদানের খার্তুমে। তাই সুদানের সামগ্রিক উন্নয়ন উত্তর সুদানকেন্দ্রিক হয়েছে। দক্ষিণ সুদানের উন্নয়নে দাতা দেশগুলো প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্রদান করে। এর প্রায় পুরোটাই সরকার খার্তুমের উন্নয়নে ব্যয় করে। এমতাবস্থায় দক্ষিণ সুদানের শ্রমিক নেতা জন গ্যারাং ১৯৭২ সালে আনইয়া-নিয়া নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। জন, গ্যারাং সুদান সরকারের নিকট স্বায়ত্তশাসন, নিজেদের একটি সংসদ এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার দাবি করেন। কিন্তু উত্তর সুদানের শাসকগোষ্ঠী তা প্রত্যাখ্যান করে।

জন গ্যারাং-এর দাবিতে বঙ্গবন্ধুর যে দাবির চিত্র ফুটে উঠেছে তা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বেগবান করেছে- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ, করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

জন গ্যারাং-এর দাবিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বেগবান করেছে।
পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কুশাসন, শোষণ ও বৈষম্যের হাত থেকে বাঙালিদের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। এ দাবিনামায় তিনি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, সর্বজনীন ভোটাধিকার, পৃথক মুদ্রাব্যবস্থা চালু, কর, শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রদেশগুলোর নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী গঠন প্রভৃতি দাবি উল্লেখ করেন।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জন গ্যারাং সুদান সরকারের কাছে স্বায়ত্তশাসন, নিজেদের সংসদ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা দাবি করেন যা বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে গৃহীত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এ প্রস্তাবকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' নামে আখ্যায়িত করেন। ছয় দফা দাবির পক্ষে দ্রুত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। এ দাবিতে পূর্ব বাংলার জনগণ আন্দোলন শুরু করলে আইয়ুব সরকার তা দমনে জেল-জুলুম, নির্যাতন চালাতে থাকে। সরকার ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিলে এর প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও ছয় দফা দাবি ছিল মূল ইশতেহার। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বরং গণহত্যা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবি বাঙালিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখায়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভকে ত্বরান্বিত করেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
100

পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসনব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায় । এছাড়া এর সাথে যুক্ত হয় সেনাবাহিনীর প্রভাব । পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ক্রমেই বাড়তে থাকে । সেনাবাহিনী শাসন ক্ষমতা দখল করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন। তার সময়কালে সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখতে শুরু করে । ইস্কান্দার মির্জা নানাভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেন । তার ষড়যন্ত্রে কয়েকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পতন হয় । পূর্ব বাংলা আইন পরিষদে বিরোধী দল কৃষক-শ্রমিক পার্টির আক্রমণে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী মাথায় আঘাত পেয়ে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক জটিলতা ইস্কান্দার মির্জার পক্ষে সেনাশাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরি করে দেয় ।

 

এই অধ্যায় শেষে আমরা-

  • পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে সৃষ্ট পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং এর ফলাফল বর্ণনা করতে পারব;
  • তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে ৬ দফার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব;
  •  ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  •  ১১ দফা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  •  ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল বর্ণনা করতে পারব;
  •  দেশের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সচেতন হব ।

 

Related Question

View All
উত্তরঃ

জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
মৌলিক গণতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ, তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), জেলা পরিষদ, বিভাগীয় পরিষদ এ চারটি স্তরে বিভক্ত ছিল। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০০০০ করে মোট ৮০০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। বিডি মেম্বারগণ বা মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খানকে ১৯৬০ সালে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
246
উত্তরঃ

উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। আর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০ জন।
আর ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে। তাছাড়া ১৯৬৬ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১৩৩৮ ও ৩৭০৮ জন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬৩১০ ও ৮২৯৪৪ জন।
এ বিষয়গুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
520
উত্তরঃ

ছকে বর্ণিত বৈষম্য তথা প্রশাসনিক বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ নয় বলে আমি মনে করি।
প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের আরো অনেকগুলো বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। লাহোর প্রস্তাবে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানি শাসকেরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। তারা ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। এছাড়া সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য। ১৯৫৫ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৮২ জন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। তাছাড়াও শিক্ষা, সামজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর বৈষম্যের স্টিম রোলার চালিয়েছিল।
এসব বৈষম্যের শিকার হয়েই বাঙালি স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
338
উত্তরঃ

সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
516
উত্তরঃ

১৯৬৯ সালের আসাদ হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে মতিউর নিহত হয়।
আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২৪ জানুয়ারি তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
537
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews