বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে ১৫৩৮ সালে।
সাধারণত এক দেশের মানুষ অন্য দেশের ওপর শাসন কর্তৃত্ব। প্রতিষ্ঠা করলে তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- দখলদার শক্তি চিরস্থায়ীভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসে না। অর্থাৎ ঔপনিবেশিক শাসকগণ কতিপয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অন্য দেশের ওপর শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং সুবিধামতো সময়ে তারা আবার নিজ দেশের ফিরে যায়। এভাবে অন্য কোনো দেশের ওপর কর্তত্ব প্রতিষ্ঠাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।
উদ্দীপকের ঘটনাটি, রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত ঐতিহাসিক 'দ্বৈত শাসন' ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৭৬৫ সালে ক্লাইভ দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন। এরপর তিনি বাংলার নবাবকে বৃত্তিভোগীতে পরিণত করে এই দ্বৈত শাসন চালু করেন। উদ্দীপকে হাশেম আলী জমিদার যেমন তার নিজ পুত্র ও সৎ পুত্রকে দায়িত্ব ভাগ করে দেন যথাক্রমে রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষা এবং শাসন ও বিচার বিভাগ। তদ্রুপ ক্লাইভ তার দ্বৈত শাসন নামক অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এ ঐতিহাসিক ঘটনাটি এবং উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনা তথা দ্বৈত শাসনের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। - ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ বিচারে বক্তব্যটি সঠিক।
দ্বৈত শাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং তা আদায়ের প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। কোম্পানি এবং কর্মচারিদের অর্থের লালসা দিন দিন বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত করের চাপে যখন জনগণ ও কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা সে সময় দেশে পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৭৭০ সালে বাংলায় নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া। দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ লোক খাদ্যের অভাবে মারা গেলেও কোম্পানি করের বোঝা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। ইতিহাসে এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
অতএব বলা যায়, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ ও সঠিক।
Related Question
View Allউপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।
বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!