মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি (পঞ্চাশ) অঙ্গরাষ্ট্র রয়েছে।
মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম উপাদান তার কারণ জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য অনেক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। অধ্যাপক গেটেল বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রের ঐক্যের ভিত্তি বাহ্যিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক, যে কারণে রেনান জাতীয়তাকে ভাবগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলোচনা শেষে এটাই প্রমাণিত যে জাতীয়তা একটি মনস্তাত্ত্বিক ঐক্যের ফল।
আরিফের দেখা অঞ্চলটিতে জাতীয়তাবাদের যে ধরনের উপাদান লক্ষ করা যায় তা হলো। জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক বা নৃতাত্ত্বিক উপাদান।
জাতীয়তা তাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক দিক থেকে গড়ে উঠতে পারে। একই বংশ, কুল, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতির বন্ধন, ধর্ম, রাজনৈতিক আদর্শ ইত্যাদি সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণের ঐক্যবোধে জাতীয়তা গড়ে উঠতে পারে, আবার নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাও শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ গড়ে তুলতে পারে, যেমন- বাঙালি, ইংরেজ, জার্মান, রুশ, পাঠান, মুঘল, আরবীয়, পশতুন মুসলিম, হিন্দু ইত্যাদি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী জনগণ বাঙালি। অনুরূপভাবে ইসলাম ধর্মের অনুসারী সকল জনগণ মুসলিম জাতি, তবে এগুলো রাষ্ট্রগঠনের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত দুর্বল উপাদান, যেমন- ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুটি অংশ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু দুর্বল ভিত্তির কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান) আলাদা রাষ্ট্র গঠন করে।
আরিফের দেখা বিষয়গুলো ছাড়াও ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জাতীয়তাবাদ নির্ধারিত হতে পারে। যেমন বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আমেরিকান, শ্রীলঙ্কান, ব্রিটিশ, ইরাকি ইত্যাদি। যখন অভিন্ন রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভৌগোলিক অবস্থান, রাষ্ট্রীয় পরিচয় ইত্যাদি জাতীয়তা নির্ধারণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। তখনই এরূপ জাতীয়তাবাদ, মুখ্য হয়ে ওঠে, আধুনিককালে জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এরূপ জাতীয়তাই শক্তিশালী, যেমন- ব্রিটেন, আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি দেশের লোকজন ইংরেজিতে কথা বললেও রাষ্ট্রীয় বিচারে এেেদর স্বতন্ত্র পরিচয় আছে। পৃথিবীর সব অঞ্চলের বাংলা ভাষাভাষীর রাষ্ট্রীয় পরিচয় অভিন্ন নয়। তেমনি সকল মুসলিমের রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদ এক নয়, সাংস্কৃতিক বা ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয়তাবাদ নির্ধারিত হলেও এর দ্বারা আলাদা আলাদা জাতীয়তাবাদী পরিচয় নির্ধারিত হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এর মধ্যে বিরোধ দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে এ দু মানদণ্ডের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। বাঙালি জাতীয়তা ও বাংলাদেশি জাতীয়তা।
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!