মৃত্তিকার pH মান ৪-৮ এর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়।
মাটির অম্লত্ব দূরীকরণে চুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি ব্যবহারে মৃত্তিকা দ্রবণের অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজের দ্রবনীয়তা কমে যায় এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের দ্রবণীয়তা বেড়ে যায়। চুন পটাশিয়ামকে বেশি কার্যকরি করে তোলে। মাটিতে বেশি পরিমাণ পটাশ থাকলে গাছ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গ্রহণ করে। চুন এই বেশি পরিমাণ গ্রহণ করাকে কমায়। এছাড়া এটি প্রয়োগে মাটিতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াসমূহ উৎসাহিত হয় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ চুন প্রয়োগে মাটির ক্ষয় কমে যায়।
উদ্দীপকে জসিম মিয়ার জমির pH মান ৮ এর ঊর্ধ্বে অর্থাৎ মাটির হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ ঋণাত্মক। উল্লেখ্য যে, ঋণাত্মক হাইড্রোজেন মান দ্বারা H' আয়নের মান কম বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ OH এর মান বেশি। তাই জমিটিতে ক্ষারীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
অনেক কারণে মাটিতে ক্ষারত্বের সৃষ্টি হতে পারে। নিষ্কাশনের অভাবে মৃত্তিকায় ক্ষারত্ব সৃষ্টি হয় বা অধিক পরিমাণে বাষ্পীভবনের ফলে ক্ষারত্ব দেখা দিতে পারে। জসিম মিয়ার জমির মাটি চুনাপাথর, ডলোমাইট ইত্যাদি ক্ষারীয় শিলা হতে সৃষ্টি হয়েছে। তাই মাটি ক্ষারীয় বিক্রিয়া প্রদর্শন করে। বাংলাদেশের বহু পলিমাটি অঞ্চলে চুন জাতীয় দ্রব্য বেশি। এ কারণে মাটির বিক্রিয়া ক্ষারীয়। অধিক তাপমাত্রা ও অল্প বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক স্থানের মৃত্তিকায় ক্ষারীয় বিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে রমিজ মিয়ার অধিক ক্ষারীয় সার ব্যবহারের ফলে জমিতে ক্ষারত্ব দেখা দেয়। মাটিতে অধিক পরিমাণে CaCO₃ উপস্থিত থাকলে মাটি ক্ষারীয় হয়। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের লোনা পানি দ্বারা কোনো ভূমি বারবার প্লাবিত হলেও মৃত্তিকায় সোডিয়ামের আধিক্য দেখা দেয়। ফলে মৃত্তিকা ক্ষারধর্মী হয়ে পড়ে।
উপরিউক্ত কারণে জমিতে ক্ষারীয় অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মাটির সমস্যা হলো এটি ক্ষারীয়। জিপসাম এবং জৈব সার প্রয়োগে উক্ত সমস্যাটি প্রশমন করা যায়। মাটিতে জিপসাম প্রয়োগ করলে তা ক্যালসিয়াম এবং সালফেট আয়নে রূপান্তরিত হয়ে মাটির সাথে মিশে যায়। পরবর্তীতে কদমকণার সাথে বিদ্যমান সোডিয়াম আয়ন ক্যালসিয়াম আয়ন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় এবং সোডিয়াম সালফেট পানির সাথে নিষ্কাশিত হয়।
অন্যদিকে জৈব সার হিসেবে বায়োফার্টিলাইজার, ট্রাইকোডার্মা ও বায়োপেস্টিসাইড প্রয়োগ করা হয়। Rhizobium, Azotobacter, ফসফেট ব্যাকটেরিয়া, সালফার ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি বায়ো ফার্টিলাইজারের অন্তর্ভুক্ত। কৃত্রিমভাবে চাষযোগ্য এসব উপকারী অণুজীব সার হিসেবে মাটিতে প্রয়োগ করা হয়। মাটিতে এরা বংশবিস্তার করে এবং মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বাড়িয়ে দেয়। ফলে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। মাটিতে অবস্থিত জৈব পদার্থ মাটির বাফার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির ক্ষারত্ব কমে যায়। এছাড়া এসব অণুজীব বিয়োজিত হয়ে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে এবং গাছের দেহে সংযোজন করে। জৈব পদার্থ প্রয়োগ করলে মাটির গুণাগুণ ও উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, ক্ষারীয় মাটির ক্ষেত্রে জিপসাম ও জৈব সার প্রয়োগ করে সমস্যাটি দূর করা যায়।
Related Question
View Allযেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।
নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত।
ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে।
iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম।
iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম।
V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়।
vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি।
vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না।
viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।
অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!