পুকুর হচ্ছে ছোট ও অগভীর বদ্ধ জলাশয় যেখানে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে মাছ চাষ করা যায় এবং প্রয়োজনে এটিকে সহজেই সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে ফেলা যায়।
পুকুরের পাড়ে ও ভিতরে বিভিন্ন আগাছা থাকে যেমন- কচুরিপানা, খুদিপানা, হেলেঞ্চা, শেওলা ও কলমিলতা ইত্যাদি। আগাছা পুকুরে দেওয়া সার শোষণ করে নেয়, সূর্যের আলো পড়তে বাঁধা দেয় এবং মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত করে। আগাছার মধ্যে মাছের শত্রু যেমন- রাক্ষুসে মাছ, সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি লুকিয়ে থাকতে পারে। জৈবিক পদ্ধতিতে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চাষকালীন সময়ে পুকুরে গ্রাসকার্প, সরপুঁটি এই জাতীয় উদ্ভিদভোজী মাছ ছেড়ে জৈবিক পদ্ধতিতে আগাছা দমন করা যায়।
জসিম সাহেব মাছ চাষের জন্য একটি আদর্শ মাছ চাষ উপযোগী পুকুর খনন করলেন। তিনি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনায় এনে পুকুর খনন করেছেন-
খননের সময় পুকুরটি যথাসম্ভব আয়তাকার রাখার চেষ্টা করেন। পুকুরের গভীরতা এমনভাবে করেন যেন বছরে ১.৫ থেকে ২ মিটার, পানি থাকে। খননের সময় পুকুরের পাড়ের ঢাল ন্যূনতম ১.৫:২ রাখেন। খননের স্থানের উপরের উর্বর মাটি আলাদা করে সরিয়ে রাখেন এবং খনন শেষে তলায় বালু মাটির উপরে তা বিছিয়ে দেন।
এতে পুকুরের পানির ধারণক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পুকুরের পাড়ের উপরিভাগ ২.৫ মিটার চওড়া রাখেন। পুকুরের তলা সমান অথচ একদিকে কিছুটা ঢালু করেন। এতে পানি সেচ ও মাছ আহরণে সুবিধা হয়। খননের পর দরমুজ দিয়ে পাড়ের মাটি পিটিয়ে শক্ত করে ঘাস লাগিয়ে দেন। এতে পাড় ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা ও বর্ষায়
পাড়ের মাটি ক্ষয়ে যাওয়া হ্রাস পায়।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে জসিম সাহেব একটি আদর্শ পুকুর খননে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেছিলেন তা জানা যায়।
মাছ চাষ উপযোগী আদর্শ পুকুর খনন করার পর জসিম সাহেব নির্দিষ্ট দিনে পোনা সংগ্রহ ও শোধন করে বিকেলে পুকুরে ছাড়লেন।
সংগৃহীত পোনা সরাসরি পুকুরে ছাড়া উচিত নয়। পোনা ছাড়ার পূর্বে পোনাগুলোকে প্রথমে শোধন করে নিতে হয়। এজন্য বালতিতে বা পাতিলে ১০ লিটার পানিতে ১ চা চামচ পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা ২০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে তাতে প্রতিবারে ৩০০-৫০০টি পোনা আধা মিনিট গোসল করাতে হয়। একবার তৈরিকৃত মিশ্রণে ৪-৫ বার শোধন করা যায়। এতে পোনা ক্ষতিকারক পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত থাকলে মুক্ত হয়, রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ও মৃত্যু ঝুঁকি কমে যায়। এরপর সকালে বা বিকেলে বা দিনের ঠান্ডা আবহাওয়ায় পোনা পুকুরে ছাড়তে হয়। এজন্যই পোনাকে পুকুরের পানির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পোনাভর্তি পলিব্যাগ বা পাত্র পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভাসিয়ে রাখতে হয় এবং অল্প অল্প করে পুকুরের পানি মেশাতে হয়। উভয় পানির তাপমাত্রা সমান হলে পলিব্যাগ বা পাত্র কাত করে পুকুরের পানিতে ঢেউ দিলে পোনাগুলো ধীরে ধীরে পুকুরে চলে যায়। এভাবে জসিম সাহেব পোনা শোধন করেন এবং বিকেল বেলায় পুকুরে পোনা ছাড়েন।
পরিশেষে উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, পোনা ছাড়ার পূর্বে জসিম সাহেবের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক ছিল।
Related Question
View Allগবাদিপশু যে সকল উপাদান খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে দেহে শক্তি উৎপাদন করে তাকে গো-খাদ্য বলে।
যে খাদ্যে কম পরিমাণ আঁশ এবং বেশি পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায় তাকে দানাজাতীয় খাদ্য বলে।
দুধাল বা মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। কারণ দানাজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ থাকে যা গবাদিপশুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস শুকিয়ে হে তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি হে তৈরির জন্য মে সঠিক পূর্ণতাপ্রাপ্ত গাছ (ফুল আসার আগে) কেটেছিলেন। কেননা সুগিত মানের হে তৈরির জন্য কম বয়সের গাছ বেশি উপযুক্ত। এরপর ঘাসগুলোকে সঠিকভাবে শুকিয়েছিলেন যাতে এটি মোল্ডমুক্ত ও অতিরিক্ত তাপমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যের আলো পরিহার করে ঘাসগুলোকে দ্রুত শুকিয়েছিলেন। ঘাসগুলোকে কেটে রৌদ্রে এমনভাবে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছিলেন যেন এগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না যায়। এরপর এগুলো শুষ্ক অবস্থায় (১৫-২০% আর্দ্রতায়) সংরক্ষণ করেছিলেন।
উল্লিখিত উপায়ে কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেছিলেন।
কনক বড়ুয়া তার গবাদিপশুর সারাবছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেন।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে কনক বড়ুয়ার গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কনক বড়ুয়া তার চারণ ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যারা পশু পালনের সাথে জড়িত তাদের সবার উচিত এভাবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ বা হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ, কনক বড়ুয়ার কার্যক্রমটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারি ছিল।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!