শতকরা ২.৫০ টাকা হারে জাকাত দিতে হয়।
ইসলামি আদর্শ, বিশ্বাস ও ইসলামের অনুশীলনের ফলে মুসলিমদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে তাকে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বলে। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগণ পরস্পর ভাই ভাই। মহান আল্লাহর তাওহিদ এবং মহানবি (স) এর রিসালাত মুসলমানদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের যোগসূত্র। অর্থাৎ ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে, তা-ই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আয়াতে ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম দিক জাকাতের মাসারিফ বা ব্যয়ের খাতটি প্রকাশ পেয়েছে। জাকাত ইসলামের মৌলিক যে পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে তার অন্যতম। এটি একটি আর্থিক ইবাদত। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে অর্থাৎ ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাকাত অন্যতম হাতিয়ার। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে দুই শ্রেণির মানুষ তৈরি করেছেন। তার এক শ্রেণি হলো ধনী আর এক শ্রেণি গরিব। ধনীদের ধন বা সম্পদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন তারা ধন-সম্পদের মায়া ত্যাগ করে তার সম্পদ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিবকে প্রদান করে কি না। আর গরিবের হয় ইমানি পরীক্ষা। সে দুঃখ-কষ্ট, অভাব সহ্য করে আল্লাহর সাহায্যের জন্য ধৈর্যধারণ করে কি না।
উল্লিখিত আয়াতে ধনীদের সম্পদ যা আল্লাহ প্রদত্ত তা থেকে গরিব ও নিঃস্ব, অসহায় ব্যক্তিকে দান করার জন্য বলা হয়েছে। ইসলামি সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলে সমাজের গরিব ব্যক্তি ধনী ব্যক্তিদের নিকট এসে তাদের অধিকার অর্থাৎ জাকাতের টাকা চাইতো। কেননা ধনী তার সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট হারে জাকাত দিবে, এতে তার সম্পদ পবিত্র হবে এবং বৃদ্ধি পাবে। অপর দিকে গরিব তার সমস্যা দূর করতে পারবে। এক সময় সাহায্যের জন্য আর হাত বাড়াতে হবে না। খলিফা হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ (র) এর সময় জাকাত ব্যবস্থা ঠিকমতো কায়েম থাকার দরুন জাকাত নেওয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু বর্তমান সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে এই নির্দেশনা না থাকার দরুন গরিব তার অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে গরিব আরো গরিব হচ্ছে আর ধনী অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে উল্লিখিত জাকাতব্যবস্থা একটি কার্যকর এবং উত্তম পন্থা বলে আমি মনে করি। উদ্দীপকের আলোকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, জাকাত ইসলামের একটি সেতুবন্ধন। এর দ্বারা গরিব তার হক বা অধিকার পায় অপর দিকে ধনী তার ধন-সম্পদকে পবিত্র করে বা বৃদ্ধি করে। কেননা জাকাত দিলে সম্পদ বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলে ধনী ও গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়।
ধনী যখন তার কষ্টার্জিত ধন কোনো মুসলিম ভাইকে প্রদান করে তখন স্বভাবতই যে সম্পদ নেয় সে ঐ ধনী ব্যক্তির প্রতি দুর্বল ও অনুগত থাকে। বিপদে-আপদে তার পাশে থাকার চেষ্টা করে। ফলে একটি সুন্দর ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়। আর এই জাকাতই যখন বিশ্বের কোনো গরিব দেশ অথবা বিপদগ্রস্ত এলাকায় যেমন- নেপাল অথবা আফ্রিকা, আফগানিস্তান, সোমালিয়া ইত্যাদি দেশে যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সবাই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায় তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয় তখন সেটা একটি বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। আল্লাহ তায়ালা বিশ্বভ্রাতৃত্বের নির্দেশনায় কুরআনে উল্লেখ করেন-
হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন নর (অর্থাৎ আদম (আ) আর একজন নারী (অর্থাৎ হাওয়া (আ) হতে সৃষ্টি করেছি (সুরা হুজুরাত-১৩)।
এই আয়াতের আলোকে নেপাল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও হযরত আদম ও হাওয়া (আ)-এর বংশানুক্রমিকভাবে তারাও আমাদের ভাই। তাই সম্প্রতি ভূমিকম্প দ্বারা তারা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তাদের সাহায্যের জন্য যাকাতের অর্থ বা সম্পদ প্রদান করা যেতে পারে। আর এর দ্বারা বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। এমনকি মুসলমানদের সম্বন্ধে যদি তাদের কোনো ভিন্ন ধারণা থাকে তাও দূরীভূত হবে।
পরিশেষে এটাই প্রমাণিত হয় যে, জাকাতের মধ্যে স্পষ্টত বিশ্বভ্রাতৃত্বের দিক নির্দেশনা বিদ্যমান। আর এর দ্বারাই একটি সুন্দর, অনাবিল শান্তিময় পৃথিবী গঠন করা সম্ভব।
Related Question
View Allউখওয়াত অর্থ ভ্রাতৃত্ব, হৃদ্যতা, সৌহার্দ্য ইত্যাদি।
'আমার বিল মারুফ' অর্থ সৎকাজের আদেশ অর্থাৎ কোনো মানুষকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনার জন্য যে আহ্বান করা হয় তাকে সৎকাজের আদেশ বলে। 'নাহি আনিল মুনকার' অর্থ অসৎকাজে নিষেধ অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহ যা করতে অথবা যে পথে চলতে নিষেধ করেছেন, সেই দিক নিদের্শনা দেওয়াকে অসৎকাজে নিষেধ বলে। প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য হলো সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়া।
সাকিবের কাজটির জন্য তাকে দাঈ বা ধর্ম প্রচারক বলা হবে। সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়া নামাজ-রোজার মতোই একটি ফরজ ইবাদত। আর যারা এ ধরনের কাজ করে থাকেন তাদেরকে দাঈ বলা হয়। অর্থাৎ ইসলামি আদর্শের প্রতি মানুষকে আহ্বানকারীকে দাঈ বলা হয়। সমাজে সৎকাজের আদেশদান ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার জন্য সবসময়ই কিছু সংখ্যক লোক বিদ্যমান থাকতে হয়। অন্যথায় সমাজ অন্যায়- অত্যাচার, সন্ত্রাস প্রভৃতি খারাপ কাজে ছেয়ে যায়। তাই মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা এবং সৎকাজে অনুপ্রাণিত করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত এবং এ ধরনের মুমিনকে দাঈ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকের সাকিব শিক্ষকের কাছ থেকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের গুরুত্ব বুঝতে পেরে ঠিক করল যে, সে প্রতিদিন তার সময় ও সুযোগ বুঝে মানুষকে আল্লাহ ও রাসুলের পথে কাজ করার আহ্বান করবে এবং নিজেও সেই মোতাবেক চলবে। আর এক্ষেত্রে সে সর্বপ্রথম টার্গেট বা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তার বন্ধু-বান্ধব ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যেই সে প্রথম দাওয়াতি কাজ করবে। এক্ষেত্রে সে দাওয়াতি কাজটি একাই করবে না বরং তার বন্ধু-বান্ধবদেরকেও করতে উৎসাহিত করবে যাতে এটি প্রসারতা লাভ করে। সাকিবের এই কাজটি মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় তাকে দাঈ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।
উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্যের আলোকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ একটি ফরজ কাজ। যার নির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য আয়াতের মাধ্যমে দিয়েছেন। আর এটাই আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মিশন ছিল। তার দাওয়াতি কাজই ছিল মানুষকে সৎপথে তথা কল্যাণের পথে আহ্বান করা আর অসৎপথে বাধা দেওয়া। শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী- যে ব্যক্তি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দিবে না এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে না সে একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না।
শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মুমিন হওয়ার জন্য আল্লাহর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ মানা আবশ্যক। আর এর মধ্যে সৎকাজের আদেশ প্রদান ও অসৎকাজে বাধা প্রদান অন্যতম। এর গুরুত্ব সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ইমান তথা বিশ্বাস রাখবে (সুরা আলে ইমরান-১১০)'।
উল্লিখিত আয়াতের দিকে লক্ষ করলে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আমর বিল মারুফ অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ আর নাহি আনিল মুনকার তথা অসৎকাজে নিষেধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এটির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী প্রত্যেকে তার সাধ্যমতো মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখবে। আর এটি একজন মুমিন ব্যক্তির জন্য অবশ্য কর্তব্য।
শতকরা ২.৫০ টাকা হারে জাকাত দিতে হয়।
ইসলামি আদর্শ, বিশ্বাস ও ইসলামের অনুশীলনের ফলে মুসলিমদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে তাকে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বলে। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগণ পরস্পর ভাই ভাই। মহান আল্লাহর তাওহিদ এবং মহানবি (স) এর রিসালাত মুসলমানদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের যোগসূত্র। অর্থাৎ ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে, তা-ই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!