বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দুটি বিশ্বযুদ্ধের (প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ) ধ্বংসলীলা মানবসভ্যতাকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বনেতারা একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ১৯৪১ সালে রুজভেল্ট ও চার্চিলের 'আটলান্টিক চার্টার', ১৯৪৩ সালের 'মস্কো ও তেহরান সম্মেলন' এবং ১৯৪৪ সালের 'ডাম্বার্টন ওকস' সম্মেলনের নীতিমালার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সান ফ্রান্সিসকোতে একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা 'জাতিসংঘ সনদে' স্বাক্ষর করেন এবং ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে জাতিসংঘের মোট সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি; যার সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ২০১১ সালে 'দক্ষিণ সুদান' যোগদান করে।
Related Question
View Allমধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার এবং জ্বালানির সবচেয়ে বড় উৎস। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশের আমদানিকৃত খনিজ তেলের সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বা ইরান-ইসরায়েল উত্তজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন খরচ, কৃষি সেচ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর উচ্চ মূল্যস্ফীতির (Inflation) চাপ সৃষ্টি করে।
- আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধিঃ লোহিত সাগরে সংঘাতের কারণে সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচলকারী মালবাহী জাহাজগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করছে। এতে জাহাজ ভাড়া ও বীমা খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানিযোগ্য তৈরি পোশাক শিল্পের খরচ বাড়ছে এবং আমদানিকৃত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে।
- রেমিট্যান্স প্রবাহ ও শ্রমবাজার: মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নতুন জনশক্তি রপ্তানি থমকে যেতে পারে এবং বিদ্যমান কর্মীরা কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
- খাদ্য নিরাপত্তা: বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারের একটি বড় অংশ কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি হলে সার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা দেশের কৃষি উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
- ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের গভীর ধর্মীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সংঘাতের সময় বিভিন্ন দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা সরাসরি বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভএবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা মোকাবিলায় সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস ও নতুন শ্রমবাজার খোঁজার মতো দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
BIMSTEC পূর্ণরূপ: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation.
সদর দপ্তর: ঢাকা, বাংলাদেশ।
CIRDAP পূর্ণরূপ: Centre on Integrated Rural Development for Asia and the Pacific.
সদর দপ্তর: ঢাকা, বাংলাদেশ (চামেলী হাউস)।
SAARC পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation. সদর দপ্তর: কাঠমান্ডু, নেপাল।
জাতিসংঘের বিশ্বশান্তি রক্ষা এক গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৮৮ সালে 'UNIIMOG' (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) মিশনে মাত্র ১৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশের হাজার হাজার সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে (যেমন: কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, মালি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক) প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কেবল শান্তি রক্ষাই নয়, বরং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন বাংলাকে তাদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি করেছে, যা বৈশ্বিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
IMF এর পূর্ণরূপ হলো International Monetary Fund (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল)। এটি ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে সহায়তা করা। এর প্রধান কার্যক্রমসমূহ হলো:
প্রথমত, আর্থিক ঋণ প্রদান: কোনো সদস্য দেশ যখন গুরুতর বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা (Balance of Payments crisis) বা মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়ে, তখন আইএমএফ শর্তসাপেক্ষে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক নজরদারি (Surveillance): এটি নিয়মিতভাবে সদস্য দেশগুলোর মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেয়।
তৃতীয়ত, কারিগরি সহায়তা: সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালী করা, কর কাঠামো সংস্কার এবং পরিসংখ্যান ব্যবস্থার উন্নয়নে আইএমএফ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!