কোনো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত সকল দ্রব্যের পরিমাণকে নিজ নিজ দাম দ্বারা গুণ করে তার সমষ্টি বের করে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP নির্ণয় করা হয়।
GNP ও GDP-এর মধ্যকার সম্পর্ক নিচে উল্লেখ করা হলো-
GNP-এর ক্ষেত্রে কেবল দেশের নিজস্ব জনগণের অবদান রয়েছে। কিন্তু GDP-তে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের কথা বলা হয় এবং সেই উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদেশিদের মূলধন ও বিনিয়োগজনিত অবদান থাকে। এছাড়াও GNP তে GDP অন্তর্ভুক্ত। তাই GDP-এর তুলনায় GNP একটি প্রসারিত ধারণা। GNP ও GDP কখনো সমান আবার কখনো অসমান হয়। এই অসমতার কারণ হিসেবে রপ্তানি ও আমদানি মূল্যের ব্যবধানকে উল্লেখ করা যায়।
উদ্দীপকের তথ্য দ্বারা জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিটি নির্দেশিত হয়েছে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী জাতীয় আয় হলো উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উৎপাদনের উপাদানগুলো একটি অর্থবছরে তাদের পারিতোষিক হিসেবে যে অর্থ আয় করে তার সমষ্টি। উৎপাদনের প্রধান উপাদানগুলো হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। অতএব একটি দেশে কোনো এক বছরে এসব উপাদানের আয় যথাক্রমে মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সামগ্রিক আয় বলা হয়।
Y = Στ + Σw + Σί + Σঙ্গ সমীকরণটি জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। যেখানে r, w, i ও হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। অন্যদিকে, ∑ = সমষ্টি। সুতরাং বলা যায়, প্রদত্ত উদ্দীপকে জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিটিই নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকটিতে জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতি (Income approach) নির্দেশিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে খুব বেশি কার্যকর হয় না।
জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিটি অন্যান্য পদ্ধতি অপেক্ষা উত্তম হওয়ায় অনেক উন্নত দেশে এ পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়। আর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর নয়। তবে বাংলাদেশে সামগ্রিক জাতীয় আয় পরিমাপের ক্ষেত্রে দুইটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। যেমন- আয় পদ্ধতি ও উৎপাদন পদ্ধতি।
আয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় চাকরি, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে। জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় চাকরি ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আয় যোগ করে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়।
চাকরিজীবীদের আয়ের হিসাব পাওয়া যায় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যের মাধ্যমে। আবার উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণে কৃষি, শিল্প, খনিজ সম্পদ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আয় পরিমাপ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে মোট উৎপাদনের আর্থিক মূল্য যোগ করে জাতীয় আয় নিরূপণ করা হয়। বৃহদায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের আয়ের হিসাব নিজেরাই কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করে। ক্ষুদ্রায়তন ও কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত মূলধন ও অর্থের পরিমাণকে ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে মোট উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। কৃষি শুমারির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের আয় পরিমাপ করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশে উপরিউক্ত উপায়ে কোনো ক্ষেত্রে আয় পদ্ধতি এবং কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে জাতীয় আয় পরিমাপ • করা হয়। তবে উভয় পদ্ধতির মধ্যে উৎপাদন পদ্ধতির ব্যবহার অধিক হয়ে
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
CCA-এর পূর্ণরূপ হলো Capital Consumption Allowance.
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!