জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
ভূমিকা: কর্মব্যস্ত মানুষ জীবনের একঘেয়েমি দূর করে আনন্দ লাভ করতে চায়। আর খেলাধুলা হলো পরিপূর্ণ ও নির্মল আনন্দ লাভের একটি বড়ো নিয়ামক। তাই বলে খেলাধুলা শুধু আনন্দেরই সামগ্রী নয়, খেলাধুলা সুস্থতার বিষয়টিকেও নিশ্চিত করে। সুস্থ মনের জন্য সুস্থ দেহ চাই। জাতীয় জীবনেও আছে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা।
খেলাধুলার প্রকার: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে নানা রকম খেলাধুলার প্রচলন রয়েছে। ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণেও একেক দেশ একেক রকম খেলাধুলাকে গ্রহণ করে। আজকের বিশ্বে ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, হকি ইত্যাদি জনপ্রিয় খেলা। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট। বিশ্ব অলিম্পিক আসরে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ অংশগ্রহণ করে রকমারি খেলাধুলার ইভেন্টে। খেলাধুলার বহু প্রকারের মধ্যে 'হা-ডু-ডু' বাংলাদেশের জাতীয় খেলা।
খেলাধুলা ও শিক্ষা: একজন মানুষের পরিপূর্ণতার জন্য শিক্ষা জরুরি। খেলাধুলার মধ্যেও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকে। খেলাধুলার কলাকৌশল শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই আয়ত্তে আনতে হয়। বারবার অধ্যয়ন যেমন শিক্ষার্থীকে ভালো ফল করতে সাহায্য করে, তেমনি ক্রীড়ার বারবার অনুশীলন ক্রীড়াবিদকে দক্ষ করে তোলে। অনেক সময় ভালো ছাত্র না হয়েও ভালো ক্রীড়াবিদ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখা যায়।
খেলাধুলার গুরুত্ব: বর্তমান বিশ্বে খেলাধুলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্য ও মৈত্রীভাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খেলাধুলার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতি নির্বিশেষে পৃথিবীর সব দেশের মানুষ এসে পরম বন্ধনে মিলিত হয় খেলার মাঠে। বহু দেশ আজ সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ ও দ্বন্দ্ব ভুলে একে অন্যের নিকটবর্তী হতে পেরেছে খেলাধুলার কল্যাণেই। খেলাধুলার মানোন্নয়ন করে অনেক দেশ মর্যাদার উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত। পেলে, ডিয়াগো ম্যারাডোনা শুধু ব্যক্তিগতভাবেই পৃথিবীতে পরিচিত নন। তাঁদের দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাও বিশ্বে সকলের পরিচিত- এটি তাঁদের জন্য কম পাওয়া নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কা এবং ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত, এটি স্ব স্ব জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। তাই জাতীয় জীবনেও খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাধুলা: খেলাধুলা জাতীয় জীবনে বয়ে আনে আনন্দ ও গৌরব। সর্বোচ্চ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে বিজয় লাভের আনন্দই আলাদা। ক্রীড়াক্ষেত্রে আছে শৃঙ্খলা চর্চার একটি বড়ো সুযোগ। খেলার মাঠে ক্রীড়াবিদকে কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়, ফলে এ শৃঙ্খলা চর্চা খেলোয়াড়ের মানস গঠনে একটি বড়ো ভূমিকা পালন করে। তাই জাতীয় জীবনেও পড়ে এর ইতিবাচক প্রভাব। খেলাধুলা শুধু দেশের গণ্ডিতে এখন সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে খেলাধুলার নানা আয়োজন। বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, সাফ গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক গেমস প্রভৃতি ক্রীড়ানুষ্ঠান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে। ফলে ভেদাভেদ ভুলে সকলে এসে দাঁড়ায় সৌহার্দ ও সম্প্রীতির একই সমতলে।
সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন: মানুষের সুস্থ মনের পূর্বশর্ত হলো সুস্থ দেহ। খেলাধুলাতে মনের আনন্দ নিহিত বলে মানুষ সবসময় সুস্থ থাকার চেষ্টা করে। আর সুস্থ দেহ যার নেই তার মনে আনন্দ আশা করা যায় না। সুস্থ মন না থাকলে একজন ছাত্র পাঠে মনোনিবেশ করতে পারে না। ফলে সফলতা লাভ তার জন্য হয়ে ওঠে অসম্ভব। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশেও খেলাধুলার অবদান অস্বীকার করা যায় না।
পেশা হিসেবে খেলাধুলা: বর্তমানে বিশ্বের অনেককে পেশা হিসেবে খেলাধুলাকে বেছে নিতে দেখা যাচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত ক্রীড়ানৈপুণ্যকে পুঁজি করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে একজন খেলোয়াড়ের খ্যাতি। দেশ, ক্লাব, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এমনকি বিভিন্ন কোম্পানি খেলাধুলার পিছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। অনেক খেলোয়াড় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন কোনো ক্লাবের সঙ্গে মাত্র এক বছর বা দুই বছরের জন্য। এতে অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হচ্ছে একজন পেশাদারি খেলোয়াড়। তাই পেশা হিসেবেও খেলাধুলা দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
উপসংহার: সুস্থ-সবল ও আনন্দময় জাতি গঠনে খেলাধুলা একটি বড়ো নিয়ামক। এছাড়া জাতির মানসিক গঠন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি স্থাপনে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!