জাতীয় ফুল শাপলা

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

জাতীয় ফুল শাপলা

সূচনা: নদীনালা, হাওড়-বাঁওড়ের দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। এদেশের অসংখ্য খাল, বিল, পুকুর ও ডোবার পানিতে নানা জাতের ফুল ফোটে। শাপলা তার মধ্যে অন্যতম। এ ফুল বাংলাদেশের মানুষের নিকট অতি পরিচিত। এ ফুল বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ। গ্রামবাংলার কৃষক-মজুরের হৃদয়ের ছবি এর মাঝেই যেন প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। তাই শাপলা যথার্থভাবেই আমাদের জাতীয় ফুল।

বর্ষাকাল ও শাপলা ফুল: বদ্ধ পানিতেই শাপলা ফুলের জন্ম ও বৃদ্ধি। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বাংলাদেশের জলাভূমি, অগভীর বিল, পুকুর প্রভৃতি স্থানে শাপলা ফুল প্রচুর পরিমাণে জন্মে। বর্ষার সময় শাপলার অঙ্কুর মাটি থেকে গজিয়ে ওঠে। মাটির মূল অংশ থেকে শাপলার দণ্ড বের হয়ে পানির ওপর পাতা মেলে ভাসতে থাকে। এ ভাসমান অবস্থায় পানির ওপরে ফুল ফোটে। শাপলা ফুল ঝরে যাওয়ার সময় ফুলের ডিম্বকোষ অংশের মধ্যে বীজগুলো পেকে ফেটে যায় এবং বীজগুলো পানির ওপর ভাসতে থাকে। পানি শুকিয়ে গেলে বীজগুলো মাটিতে মিশে যায় এবং বর্ষাকালে নতুন লতা জন্মে। মূল অংশ মাটির মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। একে শালুক বলা হয়। শালুক হতে আবার নতুন গাছ জন্মে।

শরৎকাল ও শাপলা ফুল: শাপলা ফুল শরৎকালের একটি বিশিষ্ট সম্পদ। অল্প জলে আপন অস্তিত্বে শাপলা অপূর্ব সুন্দর। লাল, সাদা এবং নীল রঙের প্রত্যেকটিই অতি উজ্জ্বল এবং নয়নাভিরাম। স্বর্ণের পবিত্রতা যেন তার প্রত্যেক পরতে। সারা পৃথিবীর সমস্ত শিল্প-চারুকলার এক পরম নিদর্শন এ শাপলা ফুল।

শাপলা ফুলের উপযোগিতা: পল্লি অঞ্চলের শিশুরা শাপলা দিয়ে এক প্রকার মালা তৈরি করে। মালাটি লকেটের কাজ করে। সোনার বাংলার ছেলেমেয়েদের কাছে এ মালা স্বর্ণহারের চেয়েও বেশি মূল্যবান। আবার শাপলার ডাঁটার দড়ি ও ফুল দিয়ে তারা খেলা করে। গ্রামবাংলার শিশুরা এ খেলায় অনাবিল আনন্দ লাভ করে এবং আনন্দে নৃত্য করতে করতে ছড়া কাটে-

'শাপলা ফুল শাপলা ফুল

তোমার পেটে দড়ি,

যত পার ঘোরো এবার

দেখি মজা করি।'

শাপলা ফুল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবর্ধনে সহায়ক। এ ছাড়া শাপলা ফুল খাদ্য তালিকায় সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পল্লি অঞ্চলে অনেকেই শাপলা বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করে। শাপলা সৌন্দর্যবর্ধক, উপকারী এবং অর্থকরী ফুল।

উপসংহার: জাতীয় জীবনের গৌরবময় আসনে আসীন হওয়ার পর শাপলা ফুল আজ বাংলাদেশে সমাদৃত। বাংলাদেশের মুদ্রায় শাপলা ফুলের ছাপ স্থান পেয়েছে। শাপলা ফুল বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক।

1.3k

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল

প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-

১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।

২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।

৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।

৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।

৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।

৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews