জানবিল একটি সাম্রাজ্যের একটি অঞ্চলের শাসনকর্তা। তিনি - যেমন কঠোর তেমনি নিষ্ঠুর। কিন্তু তিনি আবার একই সাথে সাম্রাজ্যবাদী ও উচ্চাভিলাষী। নতুন দেশ, রাজ্য ও জনপদ জয়ে তিনি আনন্দ লাভ করতেন। টগবগে তরুণ ভ্রাতুষ্পুত্র নাভিদকে দিয়ে নিজের স্বপ্ন পুরণের আকাঙ্ক্ষা। সীমান্তে বিরোধের ঘটনা যেন তার স্বপ্ন পূরণকে একধাপ এগিয়ে দিল। সীমান্তে দুটি অভিযান পাঠিয়ে ব্যর্থ হলেন। অবশেষে তাঁর সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত রূপ দিতে তরুণ নাভিদ এগিয়ে এলো এবং জয়মাল্য এনে দিল।

Updated: 3 months ago
উত্তরঃ

রাজা দাহিরের পত্নীর নাম রানিবাঈ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিপুল ধন-ঐশ্বর্য সংগ্রহ করা।
গজনির শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং এটিকে সমৃদ্ধিশালী ও আকর্ষণীয় নগরীতে পরিণত করা সুলতান মাহমুদের উদ্দেশ্য ছিল। এছাড়া একটি বিশাল সেনাবাহিনী পোষণের মানসে তার অনেক অর্থের দরকার পড়েছিল। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশকে তিনি তার প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার মনে করে সেখানে ১৭ বার অভিযান পরিচালনা করেন। আর ভারত হতে সংগৃহীত অর্থ তিনি স্বীয় রাজধানী গজনির উন্নতিকল্পে ব্যয় করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি ভারতবর্ষে আরবদের সিন্ধু বিজয়াভিযানের সাথে সংগতিপূর্ণ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সাম্রাজ্যের একটি অঞ্চলের সাম্রাজ্যবাদী ও উচ্চাভিলাষী শাসনকর্তা সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ জয়ের চেষ্টা করেন। তার প্রথম দুটি অভিযান ব্যর্থ হলে তৃতীয় অভিযানে নিকটাত্মীয় জায়েদকে প্রেরণ করেন এবং জায়েদের সামরিক প্রতিভা দ্বারা জয়লাভ করেন। অনুরূপভাবে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ খলিফা ওয়ালিদের অনুমোদনক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমে ওবায়েদুল্লাহ ও পরে বুদাইলের নেতৃত্বে রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযান প্রেরণ করেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দুইটি অভিযানই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলার জন্য হাজ্জাজ ৭১১ খ্রিস্টাব্দে স্বীয় ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুতে তৃতীয় অভিযান পাঠান। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম 'দেবল' বন্দরে এসে উপস্থিত হন, যা ব্রাহ্মণ ও রাজপুত্রদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। তিনি দুর্গটি অবরোধ করলেন এবং 'মানজানিকের' সাহায্যে বৃহদাকার প্রস্তর নিক্ষেপ করে শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করে দেবল অধিকার করেন।
দেবল দখলের পর মুহাম্মদ বিন কাসিম নিরুন, সিওয়ান, সিসাম জয় করে রাজা দাহিরের মুখোমুখি হন। রাওয়ারে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করেও রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হন। অতঃপর মুহাম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদ এবং সিন্ধুর রাজধানী আলোর অধিকার করে ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধশালী শহর মুলতান অবরোধ ও দখল করেন। মুলতান বিজয়ের মধ্য দিয়ে রাজা দাহিরের সমগ্র রাজ্যের ওপর আরবদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফলকে শুধু উপাখ্যান বলা যথাযথ হবে না। কারণ মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর পর সিন্ধু ও মুলতানে আরব শাসন দেড়শ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাছাড়া তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সুলতান মাহমুদ ও মুহাম্মদ ঘুরী ভারতে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।

আরব সৈন্যদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে ভারতে বসতি স্থাপন করে। বিজিত অঞ্চলে বহু রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছিলেন তাদের কীর্তি আজও বিদ্যমান। ইতিহাসবিদ টড 'রাজস্থানের ইতিহাস' গ্রন্থে আরবদের সিন্ধু বিজয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর ধর্মীয় ফলাফল ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ বিজয়ের ফলে অসংখ্য পির-দরবেশ ভারত উপমহাদেশে ধর্ম প্রচারের জন্যে আগমন করেন; যাদের প্রভাবে সাম্য, মৈত্রী, উদারতা ও সহিষ্ণুতার প্রতীক ইসলাম ধর্মে দলে দলে নির্যাতিত সম্প্রদায় যোগদান করতে থাকে।
সিন্ধু ও মুলতানে আরব প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবার পর আরবদের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয় এবং উভয় দেশের বাণিজ্য সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে আরবগণ সর্বপ্রথম হিন্দু সম্প্রদায়ের নিবিড় সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। ফলে উভয়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সমঝোতা ও আর্য ও সেমেটিক জাতির এ মহামিলন ভারতবর্ষে নতুন সমাজব্যবস্থার সৃষ্টি করে। আরবদের কল্যাণমুখী শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো সংরক্ষণ উভয়ের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে হিন্দু-মুসলিমের এ সহাবস্থানই পরবর্তীতে ভারতে নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, আরবদের সিন্ধু অভিযান কোনো নিষ্ফল বিজয় নয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
27
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রাচীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত স্বামীর শবদেহের সাথে জীবিত বিধবা স্ত্রীকে একই চিতায় দাহ করার রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
মৃত স্বামীর প্রতি বিধবা স্ত্রীর চূড়ান্ত আনুগত্য প্রদর্শনের একটি আচার হিসেবে প্রাচীন সমাজে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সতীদাহ প্রথা মেনে চলত। তখন স্বামীর মৃত্যু হলে বিধবা স্ত্রী স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিত। কিন্তু কালক্রমে এটি হিন্দু সমাজে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতায় রূপ নেয়। এক সময় ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজপতিরা বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে সহমরণ বরণ করে নিতে বাধ্য করে। তারা জোর করে অনেক বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারতে শুরু করে। হিন্দু সমাজের এ জঘন্য ও নিষ্ঠুর রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
114
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত শাসক সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে।

যেকোনো দেশ, রাজ্য বা অঞ্চলকে সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিত করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- এই অর্থের প্রয়োজনে অনেক শাসক বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছেন। উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান এবং ইতিহাসখ্যাত সুলতান মাহমুদ উভয়ের মধ্যেই এ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান সুলেমান নিজ রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার জন্য বিভিন্ন দেশে অভিযান প্রেরণ করেন। সেসব অভিযান থেকে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি তার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন। তাছাড়া শিক্ষা বিস্তার ও দেশের উন্নয়নে তিনি ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদও ধন-ঐশ্বর্যে ভরপুর ভারতবর্ষে বারবার আক্রমণ করে সুলতান সুলেমানের মতোই প্রচুর ধন-সম্পদ আহরণ করেছিলেন। তার উদ্দেশ্যও ছিল নিজের রাজ্যের উন্নয়ন ঘটানো। তাই তিনি ভারতবর্ষকে তার প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার মনে করে সেখানে ১৭ বার (১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) অভিযান প্রেরণ করেন এবং প্রতিবারই জয়লাভ করে প্রচুর সম্পদ হস্তগত করেন। তিনি আহরিত অর্থ-সম্পদ কাজে লাগিয়ে গজনি রাজ্যকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। শিল্প ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি সুলতান সুলেমানের মতোই উদার ও আন্তরিক ছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান ও গজনির শাসক সুলতান মাহমুদের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
108
উত্তরঃ

উত্ত শাসক তথ্য সুলতান মাহমুদ শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের একজন প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।

বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। শত্রুপক্ষের অধীন সকল রাজ্য জয় করে তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত বিলোপ সাধনই ছিল সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য এবং তিনি তা অর্জনে সক্ষম হন। পাঞ্জাবে তার শাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষুদ্র গজনি রাজ্যকে তিনি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।

ভারতীয় ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "সুলতান মাহমুদ ছিলেন বড় মাপের নৃপতি।" একটি পার্বত্য ক্ষুদ্র রাজ্যতে শুধু বাহুবলে বিশাল ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে পরিণত করা অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচায়ক। তার পূর্বে এশিয়ার অন্য কোনো আরব বা তুর্কি শাসক হিরাত, কাবুল ও গজনির বাইরে অগ্রসর হতে পারেননি। তিনি যে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা বাগদাদের সমসাময়িক আব্বাসীয় খলিফার সাম্রাজ্য অপেক্ষা বিশাল ছিল বলে মনে করা হয়। মুসলিম শাসকদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পথে তিনিই প্রথম ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম রাজবংশ প্রতিষ্ঠায় কৃতিত্বের অধিকারী না হলেও তারই দেখানো পথে মুহাম্মদ ঘুরী এদেশে এসে মুসলিম শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু কৃতী সেনানায়ক নয়, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও সুলতান মাহমুদ খ্যাতি অর্জন করেন। অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা বলেই তিনি ক্ষুদ্র গজনিকে বিশাল সাম্রাজ্যে রূপায়িত করেছিলেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
82
উত্তরঃ

আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থা শোচনীয় ছিল।
প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজে সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল। তাছাড়া বিধবা বিবাহ প্রথার বিলোপ ঘটেছিল। তাই নারীরা সমাজে অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। তারা সব ধরনের অধিকার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এ চিত্র নিম্ন শ্রেণির নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যেত। অভিজাত পরিবারের নারীরা শিক্ষাগ্রহণ ছাড়াও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
69
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews