জাফর আহমেদ 'ধানসিঁড়ি' নামক একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তিনি বিভিন্ন সঙ্গীতের আসর, সাহিত্য আসর, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ সমাজের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ নিয়ে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রযোজনা করেন। তিনি অভিনেতাদের পোশাক-পরিচ্ছদসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পশ্চিমা রীতির চেয়ে দেশীয় রীতিকেই বেশি প্রাধান্য দেন।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

মানব সমাজের সকল রীতিনীতি, প্রথা, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহারের উৎকর্ষই সংস্কৃতি।

উত্তরঃ

ভৌগোলিক উপাদান বলতে প্রাকৃতিক জলবায়ু ও তাপমাত্রা, মৃত্তিকা, জলের অবস্থান ও গতি, বনাঞ্চল, পশু-পাখি, ঋতু, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প ইত্যাদিকে বোঝায়।

এ সকল উপাদানের তারতম্যের প্রভাবে পৃথিবীর নানা দেশের মধ্যে সমাজব্যবস্থার বিচিত্র রূপ, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নতির পর্যায়ভেদ, জাতি ও ভাষাগত প্রভেদ বা সমন্বয়ের মাত্রা, জীবন-ধারণের অসম মান ইত্যাদির সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে জাফর আহমেদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি সমাজজীবন গঠনের সাংস্কৃতিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

সংস্কৃতি প্রত্যয়টিকে বিভিন্ন মনীষীরা বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেন। সাহিত্যিকগণ সংস্কৃতি বলতে মানুষের চিন্তা, ভাবনা, আশা- আকাঙ্ক্ষা, কামনা, বাসনা, কল্পনা ইত্যাদিকে কোে অন্যদিকে নৃবিজ্ঞানীরা যেকোনো নতুন উদ্ভাবনকেই সংস্কৃতিরূপে গণ্য করেন। আর সমাজবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতিকে জীবনপ্রণালি হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ ব্যক্তি তার জীবনে যা কিছু করে সবই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। মানুষ তার অস্তিত্ব রক্ষা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে যা কিছু সৃষ্টি করছে সেসবের সম্মিলিত রূপই সংস্কৃতি। মানবসংস্কৃতি সামাজিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম বা এক যুগ থেকে অন্য যুগে প্রবাহিত হয়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত জাফর আহমেদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, সংগীতের আসর, সাহিত্য-আসর, কুইজ প্রতিযোগিতা, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, পোশাক-পরিচ্ছদ এগুলো সবই আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। কারণ পাঠ্যবই অনুযায়ী মানুষের চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা, মূল্যবোধ, দর্শন, জীবনপ্রণালি, শিল্পকলা, সাহিত্য, পোশাক-পরিচ্ছদ এসবই মানুষের সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, জাফর আহমেদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি সাংস্কৃতিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তরঃ

সমাজজীবন গঠনে সাংস্কৃতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

সামাজিক সম্পর্ক নির্ধারণে সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব খুবই কার্যকর। সমাজজীবনে যুগে যুগে সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে উৎপাদন কৌশল বা সাংস্কৃতিক উপাদান ক্রিয়াশীল।

সমাজজীবনের অর্থব্যবস্থার ওপর সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অপরিসীম। কৃষিকাজের সূচনার মাধ্যমে সমাজে যখন স্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয় তখন মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আগমন ঘটে। আবার যখন শিল্পসমাজের উত্তরণ ঘটে তখন ব্যক্তিগত মালিকানার প্রভাবে অর্থ-ব্যবস্থার উন্নয়নে মানুষ তৎপর হয়ে ওঠে। এর মূল কারণ হিসেবে সাংস্কৃতিক উপাদানই সক্রিয়ভাবে সমাজকে প্রভাবিত করেছে।

যুগে যুগে ভিন্ন পেশায় আসার ক্ষেত্রে মানুষকে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাবিত করেছে। আবার সাংস্কৃতিক উপাদানের দ্বারাই মানুষ প্রভাবিত হয়ে একই জাত-বংশ উদ্ভুত পেশা ধরে রাখার মতো প্রবণতা বজায় রেখেছে। তেমনি আধুনিক সমাজে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি উন্নয়নের ফলে নিত্যনতুন পোশাক গ্রহণ করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সামাজিক উন্নয়ন ও গতিশীলতার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্বও অনেক। সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রত্যক্ষ প্রভাবে মানুষের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণায় পরিবর্তন সূচিত হয়। তাছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে মানুষের মধ্যে আধুনিক চিন্তা ও চেতনার প্রবণতা লক্ষ করা যায় যা মূলত সাংস্কৃতিক উপাদানেরই ফল। যেমন- একসময় লাঙল দিয়ে চাষ করা হলেও বর্তমানে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে অধিক উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, সমাজজীবনে গতিশীলতা আনয়ন বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদান কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

87

Related Question

View All
উত্তরঃ

কটি. বি. বটোমোর- এর মতে "সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সমাজের শ্রেণি বা স্তরভিত্তিক বিভাজন যা মর্যাদা ও ক্ষমতা গঠন করে।"

690
উত্তরঃ

মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাই হচ্ছে মার্কসবাদ। কার্ল মার্কসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে 'মার্কসবাদ'।

মার্কসবাদ হলো একটি সামগ্রিক চিন্তাধারা, একটি সমাজদর্শন। মার্কসবাদ হলো দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। এটি একটি সামগ্রিক তত্ত্বচিন্তা। যেকোনো জ্ঞান শৃঙ্খলাতেই এর প্রয়োগ সম্ভব। একে পৃথকভাবে কেবল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি অথবা ইতিহাস বা দর্শন তত্ত্ব বলা ঠিক নয়। জগৎকে ব্যাখ্যা করা নয়, তাকে বদলে দেওয়াটাই আসল কথা-মার্কসবাদী চিন্তার সারকথা এটাই।

2.5k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। কিছুসংখ্যক মানুষ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘকাল বসবাস করতে থাকলে তাদের মধ্যে অভিন্ন চিন্তাভাবনা, সামাজিক বিষয়াদিতে অভিন্নতা, ঐতিহ্যগত অভিন্নতাবোধ, গভীর সংহতিবোধ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর এভাবে সুসংহত সামাজিক জীবনযাপনের সূত্রেই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী যারা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে সমজাতীয় জীবনযাপন করে এবং যার ফলে সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংহতিবোধ বিরাজ করে। একই নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্প্রদায় সৃষ্টি হতে পারে, যেমন- মুসলিম সম্প্রদায়। আবার ঐতিহ্যবাহী সমজাতীয় পেশা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করেও সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে। যেমন- তাঁতি ও জেলে সম্প্রদায়। উদ্দীপকেও এমন একটি শ্রেণি লক্ষণীয়।

উদ্দীপকের সনু রানি দাস নারায়ণগঞ্জের হরিজন সমাজের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। অর্থাৎ সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। যারা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা ও সমজাতীয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তারা একটি পৃথক সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। উপরের আলোচনা ও উদ্দীপকের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায় সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় নামক প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

270
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদাগত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যা সাংস্কৃতিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত।

বাংলাদেশের সমাজ শ্রেণিভিত্তিক বা স্তরায়িত সমাজ। অর্থাৎ এ সমাজ শ্রেণিবিভক্ত। এ শ্রেণি বিভাজন কখনো উৎপাদনের উপায়ের মালিকানা, কখনো উঁচু-নিচু মর্যাদা আবার কখনো ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে ক্রমোচ্চভাবে বিভক্ত। একটি শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনাচরণ এবং জীবনধারণের পদ্ধতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনধারণের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। এ ধরনের স্তরবিন্যাস মূলত শিক্ষা, অর্থ, প্রতিপত্তি, বংশ মর্যাদা, পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে হয় এবং সংস্কৃতি দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত।

উদ্দীপকের সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমাজব্যবস্থায় সুইপার সমাজের মানুষকে নিম্ন মর্যাদার মনে করা হয়। অন্যদিকে রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তী ধনী ব্যক্তি। আমাদের সমাজে ধনী শ্রেণির মর্যাদাগত অবস্থান উঁচু স্তরে। তাই দেখা যায়, সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর মধ্যে একটি মর্যাদাগত ব্যবধান রয়েছে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের পাশাপাশি সংস্কৃতির ভূমিকাকে তুলে ধরে।

উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাব বিস্তার করেছে।

252
উত্তরঃ

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের জীবনে খেলার মাঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিবারের নির্দিষ্ট ও সীমিত গণ্ডি পেরিয়ে শিশু খেলার মাঠে প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে আসে। খেলার মাঠে সঙ্গী-সাথীদের মাধ্যমে সে প্রভাবিত হয়। নিজেও অন্যান্যদের প্রভাবিত করে। এতে করে তার মধ্যে নেতৃত্ব, নিয়ম-শৃঙ্খলা, দায়িত্ব-কর্তব্য, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলির সূচনা ও বিকাশ ঘটে। তাই সমাজজীবনের রূপায়ণ ও সামাজিকীকরণে মানুষের জীবনে খেলার মাঠের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

603
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews