জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যতা লক্ষণীয়। আর এ ধরনের বৈচিত্র্যতাকেই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বলে।
যেসব সাংস্কৃতিক বিষয় ধরা বা ছোঁয়া যায় না অর্থাৎ মানুষের চিন্তা থেকে জন্ম নেয় এবং মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে তাকে লোকসংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদান বলা হয়। অবস্তুগত উপাদানের প্রধান বিষয়টিই হচ্ছে সাহিত্য। এসব সাহিত্যের লিখিত রূপ নেই। মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে আছে। যেমন- লোককাহিনী বা কিসসা, লোকগীতি, লোকচিকিৎসা, লোকক্রীড়া, ছড়া, ধাঁধা, লোকনাটক ইত্যাদি।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের জাফর আগে লাঙল গরু দিয়ে জমি চাষ করতেন। এখন তিনি ট্রাক্টর বা কলের লাঙল দিয়ে জমি চাষ করেন এবং শ্যালো মেশিন বা ডিপ মেশিন দিয়ে পানি সেচ করেন। অর্থাৎ এর দ্বারা গ্রামীণ সংস্কৃতির চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
গ্রামীণ জীবন প্রধানত কৃষির সাথে জড়িত। এখানকার মানুষের জীবন কৃষি ছাড়াও কোনো না কোনো পেশার সাথে জড়িয়ে আছে। আর এভাবে সে যে আচরণ করে যা সৃষ্টি করে বা যে ভূমিকা রাখে তার একত্রিত রূপটি গ্রামীণ সংস্কৃতি। বাংলার গ্রামের মানুষ কৃষির সাথে জড়িত বিধায় তারা লাঙল গরু দিয়ে জমি চাষ করে। দেহের শ্রম দিয়ে জমিতে সেচ দেয়। আর এ বিষয়টিই উদ্দীপকেও লক্ষ করেছি যে, জাফর লাঙল গরু দিয়ে জমি চাষ করে এবং সেচ দেয়।
উদ্দীপকে গ্রামীণ সংস্কৃতিতে শহুরে সংস্কৃতির প্রভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে। কারণ উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে জাফর সাহেব পূর্বে লাঙল দিয়ে জমি চাষ করতেন কিন্তু বর্তমানে তিনি ট্রাক্টর বা কলের লাঙল দিয়ে জমি চাষ করেন। পানি সেচ দেন শ্যালো মেশিন বা ডিপ মেশিন দিয়ে এবং তিনি রিকশায় চড়ে জমিতে যান। এখানে গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিবর্তন অর্থাৎ শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব যে পড়েছে তা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। বর্তমানে গ্রামীণ সমাজে অনেক পরিবর্তন ঘটছে। আর এর জন্য শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি দায়ী। বর্তমানে গ্রামের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি পরিবর্তনই ঘটছে। নেতিবাচক হিসেবে বলা যায়, 'মাছে ভাতে বাঙালি' এ কথাটি গ্রামের মানুষের জন্য প্রযোজ্য ছিল। যা বর্তমানে সংস্কৃতির পরিবর্তনে আর প্রযোজ্য নয়। আর ইতিবাচক পরিবর্তন বলতে, একসময় সাধারণ মানুষ সাধারণ পোশাক পরত। লুঙ্গি পরে খালি গায়ে অথবা গেঞ্জি বা ফতুয়া পরে কৃষিকাজ করতেন। মেয়েরা সুতি শাড়ি পরত। শহুরে প্রভাবে এখন ছেলেমেয়েরা প্যান্ট শার্ট, ফ্রক, সালোয়ার কামিজ আর শাড়ি পরছে। আগে গ্রামের মানুষ মাটির ঘর, বাঁশ, কাঠ ও ছনের ছাউনি দেওয়া ঘরে বসবাস করত। এখন টিনের দোচালা, চৌচালা ঘর এবং ইটের দালানও তৈরি করছে। আগে গ্রামের মানুষ পায়ে হেঁটে বা গরুর গাড়িতে বা বর্ষায় নৌকায় যাতায়াত করত। এখন রাস্তাঘাটের উন্নতি হওয়ায় রিকশা ও মোটর গাড়িতে চলাচল করছে।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!