তাজবিদ শব্দের অর্থ সুন্দর করা, সাজানো ইত্যাদি।
শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ পদ্ধতির নাম মাদ্দ। মাদ্দ শব্দের অর্থ দীর্ঘ করা। তাজবিদের পরিভাষায় মান্দের হরফের ডানদিকের হরকত যুক্ত হরফ লম্বা করে পড়াকে মাদ্দ বলে।, মাদ্দের হরফ তিনটি, যথা- ১. ওয়াও (১), ২. আলিফ (১), ৩. ইয়া (৫)। মাদ্দ সাধারণত দুই প্রকার, যথা- ১. মাদ্দে আসলি ও ২. মাদ্দে ফারঈ।
জহির জাবেদকে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাজবিদের অনুসরণ করতে বলেছে। কারণ শুদ্ধরূপে কুরআন তিলাওয়াত করতে হলে অবশ্যই তাজবিদের নিয়মকানুন অনুযায়ী তিলাওয়াত করতে হবে।
কুরআন তিলাওয়াতের জন্য বেশকিছু নিয়মকানুন রয়েছে। যেমন-মাখরাজ, সিফাত, মাদ্দ, ওয়াকফ, গুন্নাহ ইত্যাদি। এসব নিয়মকানুন সহকারে শুদ্ধরূপে কুরআন তিলাওয়াত করাকেই তাজবিদ বলে।
তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর নির্দেশ। এ মর্মে তিনি বলেছেন, আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।" (সূরা আল মুয়াযাম্মিল: ৪) অথচ জাবেদ খুব দ্রুত কুরআন তিলাওয়াত করে এবং শুদ্ধতার দিকে খেয়াল রাখে না। এজন্যই জহির জাবেদকে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে বলে। অর্থাৎ তাজবিদ অনুসারে তিলাওয়াত করতে বলে।
জহিরের শেষ বক্তব্যটি হলো- "কুরআন শুদ্ধ করে তিলাওয়াতের অনেক গুরুত্ব ও ফযিলত রয়েছে।" জহিরের এ বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যন্ত বেশি। এর প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতেই নেকি পাওয়া যায়। নবি করিম (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভকরবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ। (তিরমিযি) বস্তুত কুরআন তিলাওয়াত উত্তম ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত। (বায়হাকি)
কুরআন হলো নুর বা জ্যোতি। এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়।
প্রকৃতপক্ষে, যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে। শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করলে এবং এর মর্মার্থ বুঝে সে অনুযায়ী আমল করলে মানুষ প্রভূত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে সূর্যের চাইতেও উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে (আহমদ ও আবু দাউদ)। উপরিউক্ত আলোচনা হতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, জহিরের বক্তব্যটি যথার্থ ও সম্পূর্ণ সঠিক।
Related Question
View Allআরবি হরফ উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলে।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে অত্যধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন।
নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে فِيهَا )ফিহা) তিলাওয়াতের সময়ে ও বর্ণ এবং বর্ণ (তাজবিদ অনুযায়ী) সঠিক নিয়মে পড়েনি। এখানে নাবিহা মাদ্দ-এর নিয়ম অমান্য করেছে।
আমরা জানি, মাদ্দের হরফ মোট তিনটি- আলিফ, ওয়াও, ইয়া )۱...ي( এ তিনটি হরফ নিম্নলিখিত অবস্থায় মাদ্দের হরফ হিসেবে উচ্চারিত হয়-
১.। (আলিফ) এর পূর্বের হরফে যবর থাকলে। যেমন-
২. , (ওয়াও) এর ওপর জযম এবং তার ডান পাশের হরফে পেশ থাকলে। যেমন-
৩. ৬ (ইয়া) এর ওপর জযম এবং এর ডান পাশের অক্ষরে যের থাকলে। যেমন-
উপরিউক্ত তিনটি অবস্থায় ডু...। মাদ্দের হরফ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর পূর্বের অক্ষর একটু দীর্ঘ করে পড়তে হয়। সুতরাং নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে তাজবিদের মাদ্দের বিষয়টি ত্যাগ করেছে।
উদ্দীপকে নারিহাকে তার বাবা নির্ভুল তিলাওয়াতের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
আমরা জানি, কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াতে ফজিলত অপরিসীম। কুরআন তিলাওয়াতের এসব ফজিলত লাড করা যায় শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এজন্য তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত জরুরি। তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। তিনি বলেছেন-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا অর্থ : আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও
সুস্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল: ৪)
তাজবিদ না জেনে কুরআন পাঠ করলে তা শুদ্ধ হয় না। আর কুরআন পাঠ শুদ্ধ না হলে নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না। এরূপ তিলাওয়াতকারী কোনো সওয়াবও লাভ করবে না।
সুতরাং বলা যায়, মাওলানা আহমাদ সাহেব তার মেয়ে নাবিহাকে যে বিষয়টি তাগিদ দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে তাজবিদ অনুসরণ। কাজেই নাবিহা তাজবিদ মেনে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কুরআন পাঠ করবে। আর এজন্য প্রথমেই তাজবিদ শিক্ষা করবে। এরপর কুরআন পাঠের সময় এ নিয়মগুলোর অনুশীলন করবে।.
বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়।
আমাদের সমাজে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, সুস্থ-অসুস্থ, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবরকমের লোকদের নিয়েই আমাদের সমাজ। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলের মধ্যে = ঐক্য ও সহযোগিতা না থাকলে কোনো সমাজ উন্নতি লাভ করতে - পারে না। আর এর জন্য প্রয়োজন মানুষের প্রতি প্রীতি, দয়া-মায়া, ভালোবাসা। আর এটাই মানবপ্রেম, যা মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!