পানি পছন্দকারী উদ্ভিদ হলো ধান।
কোনো প্রজাতির তার নিজস্ব পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশলকে অভিযোজন বলে।
ফসলের অভিযোজন পরিবেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুর উপাদান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঐ স্থানের উচ্চতা এবং শারীরিক গঠন ও দৈহিক অবস্থার ওপর ফসলের অভিযোজন নির্ভর করে। অভিযোজনের এসব উপাদান মোকাবিলা করেই ফসল তার অবস্থানে টিকে থাকে।
জাভেদ সাহেব একজন কৃষি কর্মকর্তা। তিনি তার বন্ধুকে উত্তরবঙ্গের খরা পীড়িত এলাকায় খরা এড়ানোর কৌশল শিখিয়ে দেন।
দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হলে জমিতে পানি ঘাটতি দেখা দেয়। একে খরা বলে। খরার ফলে ফসলের মারাত্মক ফলন হ্রাস হয়। খরা অবস্থায় ফসলের অভিযোজনের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো খরা অবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়া। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়া ও খরা অবস্থা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে জীবনচক্র শেষ করে খরা কবলিত না হওয়ার কৌশলকে খরা এড়ানো বলে। ফসল নির্বাচনের মাধ্যমে খরা এড়ানো যায়। আবাদকৃত ফসলের মধ্যে কিছু কিছু জাতের ফসল রয়েছে যাদের ফুল, ফল ধারণ ও জীবনকাল স্বল্প। তাছাড়া ফসলের আগাম জাত যেগুলো অল্প সময়ে পরিপক্ক হয় সেগুলো খরা এড়াতে পারে। যেমন- ফেলনের ফুল ফোটা হতে দানা পরিপক্ক হতে ১৭-২০ দিন সময় লাগে। ফলে খরা প্রবণ এলাকায় ফেলন চাষ করে খরা এড়ানো সম্ভব।
জাভেদ সাহেব উত্তরবঙ্গের খরা কবলিত এলাকায় তার বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যান। খরার হাত থেকে বাঁচার জন্য তিনি তার বন্ধুকে ফসলের খরা পরিহারকরণ কৌশল সম্পর্কে জানান।
খরাকবলিত অবস্থায় ফসলের টিকে থাকার জন্য বিবিধ খরা পরিহার করণ কৌশল রয়েছে। অনেক ফসল পত্ররন্দ্র খোলা ও বন্ধ হওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানির অপচয় হ্রাস করে খরা অবস্থা মোকাবিলা করে। যেমন- যব ও গম ফসল সকালের দিকে অল্প সময়ের জন্য পত্ররন্ধ খোলা রাখে এবং দিনের বাকি সময় পত্ররন্ধ বন্ধ রাখে। কিছু ফসল খরার সময় পাতার উপর লিপিড জমা করে ফসলের প্রস্বেদন হার কমিয়ে দেয়। যেমন- সয়াবিন। কিছু ফসল পাতার আকার হ্রাস করে প্রস্বেদন কমিয়ে দেয়। যেমন- ফেলন। খরার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কোন কোন ফসল নিজ থেকে পুরাতন পাতা ঝড়িয়ে প্রস্বেদন হ্রাস করে। যেমন- তুলা, চিনাবাদাম, পেয়ারা, ফেলন।
কিছু ফসল পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রস্বেদন কমিয়ে ও কার্বন- ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ বাড়ায় ও খাদ্য তৈরি করে জমা করে রাখে। যেমন- ভুট্টা, আখ। কিছু ফসল মূলের দৈর্ঘ্য, সংখ্যা ও ঘনত্ব বাড়িয়ে অধিক পরিমাণে পানি আহরণ করে খরা মোকাবেলা করে। যেমন- ভুট্টা, তুলা, আম। অনেক দানা ফসল পাতার আকার হ্রাস করা ছাড়াও খরা অবস্থায় পাতা কুঞ্চিত করে। যেমন- জোয়ার, কাউন।
অনেক উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাথে পাতার দিক পরিবর্তন করে প্রস্বেদন কমায়। যেমন- চিনাবাদাম, তুলা, ফেলন।
অর্থাৎ উদ্ভিদ উল্লিখিত খরা পরিহারকরণের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখে।
Related Question
View Allযেসব ফসল বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে সেসব ফসলকে লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসল বলে।
তাপমাত্রা হলো ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যতম জলাবায়ুগত উপাদান।
বীজ বপনের পর মাটির তাপমাত্রা হ্রাস পেলে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয় না। ফসলের দৈহিক বৃদ্ধির সময় তাপমাত্রা হ্রাস পেলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়াও তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধিতে ফসল বিভিন্ন পোকা ও রোগে আক্রান্ত হয়। এভাবে তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করে।
সুজিত বাবুর সিদ্ধান্ত ছিল বিনা ধান-৮ চাষ করা।
সুজিত বাবুর বাড়ি সমুদ্র উপকূলবর্তী সাতক্ষীরা জেলায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততার মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সরাসরি লবণাক্ত পানি দ্বারা জমি ডুবে যাওয়ায় মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মাটির নিচের লবণ উপরে উঠে আসে। উপকূলীয় এলাকায় ধান উৎপাদন করতে হলে উন্নত জাতের ধান চাষ করতে হবে যা লবণাক্ততা সহিষ্ণু। এসব জাতের ধান গাছ কোষের রসস্ফীতি বজায় রেখে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পানি শোষণের মাধ্যমে লবণাক্ত পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে। এসব লবণাক্ততা সহনশীল জাতের মধ্যে একটি হলো বিনা ধান-৮। এ জাতটির জীবনকাল ১৩০-১৩৫ দিন। লবণাক্ত এলাকায় এ জাতটি চাষ
করে হেক্টর প্রতি প্রায় ৫ টন ধান উৎপাদন করা সম্ভব। কাজেই সুজিত বাবুর বিনা ধান-৮ চাষের সিদ্ধান্তটি সঠিক।
সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব খুব বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ধারা আরও বাড়ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরও অনেক এলাকায় লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ফসল সম্পর্কে ধারণা নেই বলে তারা স্থানীয় জাতের ফসল চাষ করে। ফলশ্রুতিতে তারা ভালো ফলন পেতে ব্যর্থ হয় এবং লাভবান হতে পারে না। লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসলের চাষ উপকূলীয় এলাকায় জনপ্রিয় করতে সেসব ফসলের চাষ পদ্ধতি চিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শনের কার্যক্রমটি বেশ
কার্যকরী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুজিত বাবুর এলাকায় আমন মৌসুমে লবণাক্ত সহিষ্ণু বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৪৭, বিনা ধান -৮ এবং বারি আলু-২২, বারি মিষ্টি আলু ৬ ও ৭, আখের জাত-ঈশ্বরদী ৩৯ ও ৪০ ইত্যাদি বিভিন্ন ফসলের চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে। এতে এলাকাবাসী নিজে উৎসাহিত হয়ে এসব নতুন জাতের ফসল চাষ করে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং অন্যকেও উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে।
তাই বলা যায়, সুজিত বাবুর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সঠিক ছিল।
কোনো স্থানের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যকিরণ, বায়ুর চাপ, কুয়াশা প্রভৃতির দৈনিক সামগ্রিক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার একটি ক্ষতিকর দিক হলো খরা। শুষ্ক মৌসুমে একটানা ২০ দিন বা তার অধিক দিন কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে উদ্ভিদ দেহে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা যায়। ফলে শতকরা ১৫- ৯০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়ে থাকে। খরার ফলে মাাটির উর্বরতা কমে এবং পরিবেশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!