জামাল আব্দুল নাসের মিসরের জাতীয়তাবাদী নেতা। মিসর তখন ব্রিটিশ শাসনাধীনে। নাসের মিসরের জনগণকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেন। মিসরীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশরা মিসর ছাড়তে বাধ্য হয়। মিসর স্বাধীন হয়

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য ১৯৭১ সালে আত্মসমর্পণ করেছিল

উত্তরঃ

মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী-সাহিত্যিকরা অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
শিল্পী সাহিত্যিকরা পত্র পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস দিয়ে মনোবল সৃষ্টি করেছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সংবাদ পাঠ, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা প্রভৃতি অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বুদ্ধিজীবীরা তাদের বুদ্ধি ও মেধাশক্তি দিয়ে রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সহায়তা করেছেন।
এমনকি দেশের জন্য তাদেরকে প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হয়েছে।

উত্তরঃ

মিসরের জনগণ যেমন জাতীয়তাবাদী নেতা জামাল আব্দুল নাসেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, তেমনি বাঙালি জনগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানি জনগণ পশ্চিমাদের নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। এ প্রেক্ষিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ষাটের দশকে রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি বাঙালির বাঁচার চেতনাকে উদ্দীপ্ত করেন। স্বাধীনতা লাভের স্পৃহায় বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়, যেমনটি মিসরের জনগণের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
জামাল আব্দুল নাসের ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হতে যেমন জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, বাংলার অবিসংবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একই কাজ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েও তিনি যখন সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তখন বাঙালিকে নিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এ প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে জনগণকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
সুতরাং দেখা যায়, মিসরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেক্ষিত একইসূত্রে গাঁথা।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত মিসরবাসীর স্বাধীনতা আন্দোলনের মতো বাঙালির মুক্তিযুদ্ধও একটি গণযুদ্ধ ছিল বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে একটি গণযুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ববাসী। কারণ যুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে তুলেছে। দীর্ঘ নয় মাস চলতে থাকা মুক্তিযুদ্ধে এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছে। নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, প্রবাসী বাঙালি সর্বসাধারণ স্ব স্ব অবস্থানে থেকে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহিদ হয়েছে। প্রায় আড়াই লক্ষ নারী হারিয়েছেন তাদের সম্ভ্রম। অনেকে পঙ্গু হয়ে অসহায়ত্বের জীবন বরণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের এ পরিসংখ্যানই বলে দেয় এ যুদ্ধে কত অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশ শাসনের অধীনতা থেকে মুক্ত হতে সমগ্র মিসরবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেয়। তাদের আন্দোলনও গণযুদ্ধে পরিণত হয়েছিল।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে এত বেশি সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছে যে, একে গণযুদ্ধ বলাই যৌক্তিক।

209
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

Witness to Surrender' গ্রন্থের রচয়িতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সিদ্দিক সালিক।

650
উত্তরঃ

বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল।
১৯৭১ সালের অক্টোবর মাস থেকেই পাকিস্তানি সৈন্যরা মুক্তিবাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হতে থাকে। ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ বাহিনী' গঠিত হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একের পর এক যুদ্ধে পরাজয় বরণ করতে থাকে। চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট স্থানীয় বাঙালিদের নিয়ে গঠিত আল-শামস ও আল-বদর বাহিনী ১৪ ডিসেম্বর প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও যেন একটি মেধাহীন দেশ হয় তা নিশ্চিত করাই ছিল এর লক্ষ্য।

315
উত্তরঃ

উদ্দীপকে আলোচিত প্যারিস চুক্তির সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ চুক্তির মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতালাভের পর থেকেই দেশটির শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে এ বৈষম্যের পরিস্থিতি দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলে। পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান দল আওয়ামী লীগের বিজয়কে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে আলোচনার আড়ালে তারা পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে গণহত্যার প্রস্তুতি নিতে থাকে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্বর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এমন প্রেক্ষাপটেই আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় এবং তা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) পরাজিত পাকিস্তান বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সেদিন বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে নতুন স্বাধীন। রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয়।
উদ্দীপকে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমেরিকা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাস দেখতে পাই। ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকায় ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঔপনিবেশিক সরকার বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। ফলে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আমেরিকা ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে। অবশেষে ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে 'প্যারিস চুক্তির' মাধ্যমে আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষাপট ও ঘটনা আমেরিকার স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসের অনুরূপ। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, উদ্দীপকের চুক্তির সাথে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ চুক্তির মিল রয়েছে।

347
উত্তরঃ

উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মিল-এমিল উভয়ই লক্ষ করা যায়।
শুঙ্গীপকে দেখা যায়, আমেরিকা ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্তানের উপনিবেশ ছিল না; বরং একই দেশের পৃথক ভূখণ্ড ছিল। আমেরিকার জনগণ স্বাধীনতা লাভের জন্য ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর সাথে দীর্ঘ আট বছর যুদ্ধ করলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৯ মাস। এছাড়া আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাধীনতা চক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। অর্থাৎ তৃতীয় একটি দেশের রাজধানীতে। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই। অন্যদিকে আমেরিকার স্বাধীনতা লাভের সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের যে মিলগুলো পাওয়া যায় তা হচ্ছে- উভয় দেশের জনগণই শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল এবং স্বাধীনতা লাভের জন্য যুদ্ধে। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এছাড়া উভয় দেশের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রেই লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। তবে 'প্যারিস চুক্তি' ছিল সরাসরি আমেরিকার স্বাধীনতার স্বীকৃতি দান। অন্যদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চুক্তি ছিল একটি পরাজিত সেনাবাহিনীর হার স্বীকার করার দলিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রেক্ষাপটের দিক দিয়ে আমেরিকা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিল থাকলেও যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও স্বাক্ষরিত চুক্তির ধরনের দিক থেকে অমিল বিদ্যমান

236
উত্তরঃ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকান্ড শুরু করে, যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
২৫ মার্চ রাতে প্রথম হামলার শিকার হন ফার্মগেট এলাকার মিছিলরত বাঙালি ছাত্র-জনতা। একই সঙ্গে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পিলখানার ইপিআর হেডকোয়ার্টারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নির্বিচারে আক্রমণ শুরু করে। এভাবে তারা পুরো পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়

250
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews