জলবায়ু প্রভাবিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর মহাবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এক এক ধরনের সম্প্রদায় এক এক স্থানে গড়ে ওঠে। এ ধরনের এক একটি একককে একেকটি বায়োম বলে।
যেসব জীব বেঁচে থাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল তাদেরকে পরভোজী জীব বলে।
সকল প্রাণী গোষ্ঠী, ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। যে কারণে এ সকল জীব বেঁচে থাকার জন্য স্বভোজী জীবের উৎপাদিত খাদ্যের মাধ্যমে আহরণ করে। কিছু পরভোজী জীব আবার পরোক্ষভাবে স্বভোজী উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে জামিরা কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যে বনভূমি দেখে মুগ্ধ হলো সেটি ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি।
এ বনভূমি অঞ্চলে গাছের পাতা বছরে অন্তত একবার ঝরে যায় কিন্তু - সকল পাতা এক সঙ্গে ঝরে পড়ে না। এ জন্য এ অঞ্চলের বনভূমি চির সবুজ থাকে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ি এলাকায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী এই বনভূমি অবস্থিত।' এ - বনভূমির আয়তন ১৫,৩২৬ বর্গ কিলোমিটার। এ বনভূমির অধিকাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এ দেশের উত্তরাঞ্চলে এ বনভূমির পরিমাণ খুবই কম। এ বনভূমিতে দুই ধরনের বৃক্ষ জন্মে।
এদের একটি হলো চিরহরিৎ বৃক্ষ এবং অন্যটি হলো পতনশীল পত্রযুক্ত -বৃক্ষ। এ বনভূমি অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ অঞ্চলে জনবসতি কম এবং রাস্তাঘাট খুবই অনুন্নত।
উদ্দীপকে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির ঈঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ বনভূমি অঞ্চলে চিরহরিৎ বৃক্ষের মধ্যে চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, গামারী, শিমুল, কড়ই, সেগুন ইত্যাদি বৃক্ষ দেখা যায়। এছাড়াও অন্যান্য বৃক্ষের মধ্যে জলপাই, কদম, ছাতিম, চম্পা, আমলকি, পিটারী ও কাঞ্চন প্রভৃতি। বেলে পাথর ও কর্দম শিলা হতে গঠিত বাংলাদেশের পাহাড়িয়া মৃত্তিকায় পরিমিত উত্তাপ (৩৪০ সে.), অত্যধিক বৃষ্টিপাত (৩০০ সেন্টিমিটারের বেশি), স্বল্প জনবসতি, অনুন্নত যাগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি বর্তমান থাকায় এ বনশ গড়ে উঠেছে। তবে পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিযুক্ত পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allবাস্তুতন্ত্রের এক বা একাধিক উপাদানের কোনো ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তনকে দূষণ বলে।
প্রকৃতির কার্বন যে প্রক্রিয়ায় গ্যাসরূপে পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে প্রকৃতিতে কার্বনের সমতা বজায় রাখে তাই কার্বনচক্র।
যেমন- উদ্ভিজ্জাত পদার্থ (কাঠ, কয়লা, পেট্রোল ইত্যাদি) দহন ক্রিয়ায় কার্বন যৌগ ভেসে CO₂ গ্যাস নির্গত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়।
' অঞ্চলে বিশেষ ধরনের যে বনভূমি সৃষ্টি হয়েছে, তা হলো সুন্দরবন বা স্রোতজ বনভূমি।
সুন্দরবন সৃষ্টির প্রধান কারণ লবণাক্ততা। বালি ও কাদার বিভিন্ন স্তরে গঠিত নদী বাহিত উর্বর পলল মৃত্তিকা, সমুদ্রের জোয়ার ভাটা ও লোনাপানি, পরিমিত উত্তাপ, প্রচুর বৃষ্টিপাত, বিরল জনবসতি প্রভৃতির প্রভাবে এ বনভূমি গড়ে উঠেছে। সুন্দরবনের উত্তরাংশ মৃদু লবণাক্ত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং এই অঞ্চল মিঠাপানি ও লবণাক্ত পানির মিলিত স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিবছর নদীবাহিত পলি এসে জমা হয় বলে এখানে লবণাক্ততা কম। এ এলাকার প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী।
সমুদ্র তীর ও নদীর মোহনা নিয়ে মধ্যম লবণাক্ত অঞ্চল গঠিত। এখানকার পানির লবণাক্ততা পরিমিত তবে বর্ষাকালে লবণাক্ততা কিছুটা কমে যায়। এ এলাকার প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী ও গেওয়া।
সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা নিয়ে অধিক লবণাক্ত অঞ্চল গঠিত। সারাবছর চরম লবণাক্ত অবস্থা বিরাজমান থাকায় এটি অন্য দুটি অঞ্চলের ন্যায় উদ্ভিদ সমৃদ্ধ নয়। এ এলাকায় যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের মধ্যে গেওয়া, বাইন, গরান ইত্যাদি অন্যতম। এভাবে লবণাক্ততার তারতম্যের কারণে সুন্দরবনের বনভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
'উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলের বনভূমিন্বয় হলো যথাক্রমে কান্তীয় চিরহরিৎ ও পতনশীল পত্রমুক্ত বৃক্ষের বনভূমি এবং স্রোতজ বনভূমি। নিচে এ দুই ধরনের বনভূমিতে উদ্ভিদের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়িয়া এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি অবস্থিত। চিরহরিৎ বৃক্ষের মধ্যে চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি প্রধান। পতনশীল পত্রযুক্ত (বা পর্ণমোচী) বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার, কড়ই, সেগুন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এ বনভূমির বৃক্ষসমূহ অর্থনৈতিকভাবেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কাগজ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল এ বন থেকে পাওয়া যায়, গর্জন ও জাবুল রেলওয়ের স্লিপার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এ বন থেকে সংগ্রহীত বেত দিয়ে চেয়ার টেবিল, শীতল পাটি, চাটাই মাদুর প্রভৃতি তৈরি হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত ও জোয়ার ভাটাপূর্ণ জৈবনিকভাবে শুষ্ক নিবাসের উদ্ভিজ্জকে গরান বা স্রোতজ বনভূমি বলা হয়। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্রোতজ বৃক্ষের বনভূমি। এ অঞ্চল উদ্ভিদকুলে সমৃদ্ধ এবং সুন্দরি, গরান ও ভেন্না প্রধান বৃক্ষ। তাছাড়া গেওয়া, ধুন্দল, পসুর, কেওড়া, ওড়া, আমুর ও গোলপাতা প্রভৃতি বৃক্ষও প্রচুর জন্মে। সমুদ্র তীরের অতি নিকটে এ বনে গেওয়া, সুন্দরি এবং গরান বৃক্ষসহ বিভিন্ন গাছ জন্মে। পেন্সিল তৈরিতে ধূন্দন ব্যবহৃত হয়। গোলপাতা ঘরের চালের ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয়, সুন্দরী বৃক্ষ বৈদ্যুতিক খুটি গৃহ নির্মাণ, নৌকা নির্মাণ প্রভৃতি কাজে ব্যবহৃত হয়। গেওয়া কাঠ নিউজপিন্ট কাগজ ও দিয়াশলাই তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত বনভূমির মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য রয়েছে।
উদ্ভিদ, প্রাণিজগৎ, মাটি ও জলবায়ুর সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে বাস্ততান্ত্রিক একক গড়ে উঠে তাকে বায়োম বলে।
কোনো স্থানের উদ্ভিদ, প্রাণী এবং এদের জড় পরিবেশ নিজেদের মধ্যে এবং পরস্পরের মধ্যে ক্রিয়া-বিক্রিয়া করে অবস্থান করার কারণে এদের গঠন ও কার্যের বিভিন্ন পরিবর্তন সাধিত হয়ে থাকে। এভাবে কোনো স্থানে জীব ও এদের জড় পরিবেশ নিজেদের মধ্যে এবং পরস্পরের মধ্যে ক্রিয়া-বিক্রিয়ার গতিময় পদ্ধতিই হলো ইকোসিস্টেম বা পরিবেশতন্ত্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!