কআইন বিভাগ কর্তৃক পাসকৃত আইন বলবৎকরণ, জনকল্যাণে সরকারি নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নে নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংস্থাকে নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত।
আধুনিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের সুনাম ও পারদর্শিতার ওপর একটি সরকারের অবস্থান ও স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে। ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নটি জরুরি হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়নীতি ও শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিচারকদের নিয়োগ, বিচারকদের কার্যকাল, বিচারকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, বিচারকদের পদোন্নতি, অপসারণ পদ্ধতি, উপযুক্ত বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা প্রভৃতি কার্যসম্পাদন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। মূলত ব্যক্তিস্বাধীনতার সংরক্ষণ, আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি প্রদান এবং সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতা অপেক্ষা সরকারের উৎকৃষ্ঠতা পরিমাপে আর কোনো শ্রেষ্ঠ মানদণ্ড নেই।
জামিলুর রহমান যে প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন তা বাংলাদেশের আইনসভাকে নির্দেশ করে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় আইনসভার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরের কেন্দ্রস্থলে যেমন পানিকেন্দ্র স্থাপন করে শহরের আনাচে-কানাচে পানি সরবরাহ করা হয়, আইন পরিষদ তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সর্বত্র শক্তি, উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয় এবং জাতীয় জীবনকে উজ্জীবিত করে তোলে। অতীতে স্বেচ্ছাচারতন্ত্রে আইন পরিষদের স্থান ছিল গৌণ এবং রাজতন্ত্রে তা ছিল বৈঠকি আসর সাজানোর উপকরণের মতো। কিন্তু জনমতের প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়ার পর থেকে এর সুদিন ফিরে এসেছে। জনসাধারণের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত আইন পরিষদকে জনমতের সংস্থাও বলা হয়। এ পরিষদ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, সংশোধন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও প্রয়োজনে বাতিল করে নতুন আইন ও সংবিধান প্রণয়ন করতে পারে। আইন পরিষদের সদস্যগণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইনসভাকে বিশেষ মর্যাদাদানে অবদান রাখে না।
আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ, মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভূমিকা রাখে। সুতরাং, সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভার গুরুত্ব অপরিসীম।
উপর্যুক্ত ব্যাখ্যা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের জামিলুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের উল্লিখিত কার্যক্রম যথা- আইন প্রণয়ন, সংশোধন, সরকারি নীতি প্রণয়ন, শাসনসংক্রান্ত কর্মকান্ড প্রভৃতি উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জামিলুর রহমান আইনসভার একজন সদস্য।
উদ্দীপকে নির্দেশিত জামিলুর রাহমানের প্রতিষ্ঠান তথা আইনসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আইন প্রণয়ন: আইন প্রণয়ন বিভাগের প্রধান কাজ। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় মূলনীতির আলোকে আইন বিভাগ প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে থাকে। আইনসভা নতুন আইন প্রণয়ন ছাড়াও পুরাতন আইনের সংস্কার ও সংশোধন করে থাকে। এছাড়া আইন বিভাগ শাসন বিভাগ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ করে থাকে।
শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ : আইনসভার অন্যতম কাজ শাসন বিভাগের অগণতান্ত্রিক কাজ বাধা প্রদান করা। সংসদে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা.বিভাগের কাজের যৌক্তিকতা যাচাই করা, চুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে আইন বিভাগ শাসন বিভাগকে সর্বদা জাগ্রত রাখে। ফলে শাসন বিভাগ নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে পারে না।
প্রশাসনিক কাজ: কোনো কোনো রাষ্ট্রে আইন বিভাগ প্রশাসনিক কাজও করে থাকে। বিশেষ করে সংসদীয় পদ্ধতিতে আইন বিভাগের সদস্যরাই মন্ত্রী হয়ে থাকেন। মার্কিন সিনেট সন্ধি, চুক্তি, যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তি স্থাপন এবং উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদন দিয়ে থাকে। এগুলো সিনেটের প্রশাসনিক কাজ।
অর্থসংক্রান্ত কাজ: দেশের সকল অর্থব্যবস্থা আইনসভার অনুমোদদ্বারা কার্যকর হয়। আইনসভা আর্থিক বাজেট অনুমোদন করে থাকে। শাসন বিভাগের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে যেসব মঞ্জুরি দেওয়া হয় তা আইনসভা অনুমোদন করে।
নির্বাচনসংক্রান্ত: আইনসভার নির্বাচনসংক্রান্ত কাজও রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে থাকে। বাংলাদেশের সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন আইনসভা নির্বাচন করে থাকে।
এছাড়াও অনুসন্ধানমূলক কমিটি গঠন, 'সরকারি নীতিনির্ধারণ, বিচারসংক্রান্ত কাজ, সংবিধান রচনা ও সংশোধনসংক্রান্ত কাজ, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা, জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে, অভিযোগ সম্পর্কিত আলোচনা প্রভৃতি কার্যাবলি আইনসভা খুব গুরুত্বের সাথে সম্পাদন করে থাকে।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!