আল ফুরকান অর্থ পার্থক্যকারী। আল-কুরআন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করে বিধায় একে আল ফুরকান বলা হয়।
পরিভাষায় নুন সাকিন বা তানবিনের পর ইদগামের ছয়টি হরফ যথা

থেকে যেকোনো একটি হরফ থাকলে নুন সাকিন বা তানবিনের সাথে ঐ হরফকে মিলিয়ে পড়াকে ইদগাম বলে। ইদগামের ফলে উভয় হরফ একই সময়ে উচ্চারিত হয় এবং নূন সাকিন বা তানবিনের পরবর্তী হরফটি তাশদিদ (১) যুক্ত হয়। যেমন مَن رَبَّكَ
জামিল সাহেব আবিরকে তাজবিদ মেনে চলার পরামর্শ দিলেন। সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠের রীতিকে তাজবিদ বলে। আল-কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত লাভের জন্য সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন পড়ার বিকল্প নেই। এজন্য তাজবিদের জ্ঞানার্জন করা অত্যন্ত আবশ্যক। তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। তাজবিদ অনুসারে কুরআন না পড়লে পাঠকারী গুনাহগার হবে এবং তার নামাজ শুদ্ধ হবে না। আবিরের তিলাওয়াতে সমস্যা থাকায় তার পিতা তাকে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। যা উক্ত তাজবিদকেই ইঙ্গিত করে। তাজবিদ অনুসরণ করলে কুরআন মাজিদের প্রতিটি হরফের মাখরাজ ও সিফাত জানা যায় এবং মাদ্দ ও গুন্নাহ আদায় করার নিয়ম অবগত হওয়া যায়। মাখরাজ ও সিফাত জানা না থাকলে এবং তদনুযায়ী কুরআন অধ্যয়ন না করা হলে কুরআন মাজিদের আয়াতের অর্থের বিকৃতি ঘটবে। ফলে কুরআন তিলাওয়াতের যে ফযিলত তা পাওয়া যাবে না উপরন্তু গুনাহ হবে। এমনকি সালাতসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগিও আদায় হবে না। সুতরাং তাজবিদ জানা অত্যাবশ্যক। অতএব, আবিরকে শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে হলে তাজবিদের অনুসরণ করতে হবে।
জাকির সাহেব আল-কুরআনকে ইঙ্গিত করেছেন। তার শেষ উক্তিটি যথার্থ।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" (সূরা আল-বাকারা: ২) আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে বলেছেন- وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا تَزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسورة مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ
দেওয়ার জন্য ওঠে পড়ে লাগল। তারা সূরা কাউসারের প্রথম আয়াত إنا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ অনুরূপ একটি বাক্য গঠনের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা শুরু করল এবং অবশেষে একটি বাক্য তৈরিও করল। আর তা হলো لَيْسَ هَذَا كَلَامُ الْبَشر যার অর্থ হলো- এটি কোনো মানুষের বাণী নয়। অর্থাৎ তারা কুরআনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় চরমভাবে ব্যর্থ হলো এবং তাদের জবানিতে তারাই ঘোষণা করল-এটা কোনো মানুষের বাণী নয় বরং এটি ঐশী বাণী।
আল-কুরআন এমনি এক গ্রন্থ যা সর্বজনীন, সর্বকালীন, সংক্ষিপ্ত ও প্রামাণ্য গ্রন্থ। আল-কুরআন সকল প্রকার ভুলত্রুটির উর্ধ্বে। জাকির সাহেবের এ বক্তব্যটি সম্পূর্ণ সঠিক।
আর যেহেতু এটি আল্লাহর বাণী সেহেতু এতে কোনো ভুলত্রুটি থাকার প্রশ্নই উঠে না।
Related Question
View All'ইলমুল আহকাম্' হলো বিধিবিধান সম্পর্কিত জ্ঞান।
লাইলাতুল কদর বা কদর রাত অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাস একাধারে ইবাদত করার চাইতে উত্তম। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সীমিত। এ অবস্থায় এ রাতে ইবাদত করলে আমাদের নেকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতস্বরূপ। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে রহমত, বরকত ও শান্তির সওগাত দিয়ে প্রেরণ করেন। এ রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুখ-শান্তি ও রহমত বিরাজ করতে থাকে।
মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংসের তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
সূরা যিলযালে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের অভিনব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যখন সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস করে দেবেন তখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। কবর থেকে মানুষ বের হয়ে আসতে থাকবে। সমস্ত মানুষ সেই মহান দিনে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসাব প্রদান করতে থাকবে। প্রত্যেকে দুনিয়াতে করা তার প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাপপুণ্যের হিসাব দিতে থাকবে এবং তা অনুযায়ী প্রতিদানস্বরূপ পুরষ্কার অথবা তিরষ্কারে ভূষিত হবে। উক্ত অবস্থার সাথে মুহিবের দাদার বক্তব্যের মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, "কোনো এক সময় এমন এক ভূমিকম্প সংঘটিত হবে, তখন গাছপালা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, পাহাড়গুলো তুলোর মতো উড়বে; সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।" সুতরাং বলা যায়, মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংস সংক্রান্ত তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
মুহিবের দাদা 'মুক্তির সনদ' বলতে আল-কুরআনকে বুঝিয়েছেন। কেননা আল-কুরআনই বিশ্ববাসীকে হিদায়েতের সুপথ দেখাতে পারে।
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সার্বিক দিক ও বিভাগের একটি সুসংহত ও সুসমন্বিত বিধান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। এ মর্মে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- "এ হচ্ছে সমগ্র মানুষের বিধান, মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ ও পথনির্দেশনা।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৮) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, "আমি এ কিতাবে কিছুই বর্ণনা করা বাদ রাখিনি।" (সূরা আন-আম ৩৮) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "হে বিশ্বমানবতা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার প্রতিকার এবং বিশ্ববাসীদের জন্য পথনির্দেশস্বরূপ।" (সূরা ইউনুস: ৫৭) তিনি আরও
বলেন, "আমি তোমার প্রতি (হে মুহাম্মদ) এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা আত্মসমর্পণকারীগণের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ সুস্পষ্ট পথনির্দেশক ও সুসংবাদ।" (সূরা আন-নাহল: ৮৯) আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন- "এ কিতাব এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষদেরকে তাদের পালনকর্তা নির্দেশক্রমে বের করে নিয়ে আসতে পারে অন্ধকার থেকে আলোকময় জীবনে, তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত।" (সূরা ইবরাহিম: ১) উদ্দীপকের মুহিবের এক প্রশ্নের জবাবে তার দাদা বলেন, আমাদেরকে মুক্তির সনদ হিসেবে যে নির্ভুল গ্রন্থটি দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করা উচিত।
অতএব উক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায়, আল-কুরআনই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ। তাই এ গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
আবাবিল এক ধরনের ছোট ছোট পাখি। যা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে।
আয়াতুল কুরসি অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। রাসুল (স.) এ আয়াতকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। নবি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাই) অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সে বেহেশতের আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে শুরু করবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!