রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন দান করাকে জারণ এবং ইলেকট্রন গ্রহণ করাকে বিজারণ বলে। আমরা আরো জানি, যে রাসায়নিক সত্তা ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে এবং যে রাসায়নিক সত্তা ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
1 নং বিক্রিয়াটি হলো
বা,
জারণ অর্ধ বিক্রিয়া: 4AI → 4A13+ + 12e-
বিজারণ অর্ধ বিক্রিয়া : 3O2 + 12e- → 6O2-
এখানে AI ইলেকট্রন দান করে অর্থাৎ এটি বিজারক, কিন্তু জারণ বিজারণের সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি জারিত হয়েছে।
তদ্রুপ এখানে O2 ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাই এটি জারক, তবে এটি বিজারিত হয়েছে। ২নং বিক্রিয়া নিম্নরূপঃ
FeCl2 + Cl2→ FeCl3
বা, 2FeCl2 + Cl2 → 2FeCl3
জারণ অর্ধবিক্রিয়া: 2Fe2+ → 2Fe3+ + 2e-
বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: Cl2 + 2e- → 2CI-
এখানে Fe2+ ইলেকট্রন দান করে, অর্থাৎ এটি বিজারক, কিন্তু জারণ বিজারণের সংজ্ঞানুযায়ী এটি জারিত হচ্ছে। তদ্রুপ, এখানে Cl2 ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হচ্ছে এবং এটি এই বিক্রিয়ায় জারক।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, জারক বিজারিত হয় এবং বিজারক জারিত হয়।
Related Question
View Allযে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থগুলো উৎপাদে পরিণত হয়, কিন্তু উৎপাদ পদার্থগুলো পুনরায় বিক্রিয়কে পরিণত হয় না তাকে একমুখী বিক্রিয়া বলো হয়।
কোন বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিক্রিয়ার বেগ বৃদ্ধি পায়। অতএব, একটি উভমুখী বিক্রিয়ার শুরুতে সম্মুখ বিক্রিয়ার বেগ সবচেয়ে বেশী থাকবে এবং সময়ের সাথে বিক্রিয়ার পরিমাণ কমতে থাকবে ও উৎপাদের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। কাজেই সময়ের সাথে সম্মুখ বিক্রিয়ার বেগ কমতে থাকবে এবং বিপরীত বিক্রিয়ার বেগ বাড়তে থাকবে। এক সময় সম্মুখ ও বিপরীত বিক্রিয়ার বেগ সমান হবে। এই অবস্থাকে রাসায়নিক সাম্যাবস্থা বলে।
আমরা জানি, কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে। এ বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অপু ও সেতু উভয়ের বাসায় রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় তার রাসায়নিক নাম মিথেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে বা দহন করে তাপ উৎপন্ন করা হয়।
তাই সেতুর বাসায় জ্বালানির দহনে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ থাকায় জ্বালানির পূর্ণ দহনে দহন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
CH4(g) + 2O2 (g) → CO2(g) + 2H2O(g) + তাপশক্তি।
আবার অক্সিজেনের সরবরাহ কম হলে জ্বালানির আংশিক দহনেও দহন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। তাই অপুর বাসায় মিথেনের দহনে বিক্রিয়াটিও দহন বিক্রিয়া।
CH4(g) + O2(g) →CO(g) + 2H2O (g) + শক্তি
CH4(g) + O2 (g) → C(s) + 2H2O(g) + শক্তি
উপরিউক্ত সকল বিক্রিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেনকে বায়ুর উপস্থিতিতে পোড়ানো হয়। কাজেই রান্নায় সময় বাসায় সম্পন্ন বিক্রিয়া মূলত দহন বিক্রিয়া।
উদ্দীপকের আলোকে অপুর বাসায় রান্নার সময় পাত্রের নিচে কালো দাগ পড়ে। কিন্তু সেতুর বাসায় পাত্রের নিচে কোনো দাগ পড়ে না।
আমরা জানি, প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেনকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে পোড়ালে কার্বন-ডাই অক্সাইড, পানি ও প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। তবে দহনকালে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হলে মিথেনের আংশিক দহনে কার্বন মনো অক্সাইড/কার্বন ও কম তাপ উৎপন্ন করে এবং পাত্রের নিচে কালো দাগ সৃষ্টি হয়।
শক্তি
শক্তি
অন্যদিকে অক্সিজেনের সরবরাহ পর্যাপ্ত হলে জ্বালানির পূর্ণ দহন হয় এবং উৎপাদ হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় কিন্তু পাত্রের তলায় কোন কাল দাগ সৃষ্টি করে না।
CH4 (g)+2O2 (g) CO2(g) + 2H2O + শক্তি।
তাই উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, অপুর বাসায় রান্নার কাজে গ্যাসের অপচয় হয়।
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া বলে।
যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌলের অন্য মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে তার যোজনী বলে। অপরদিকে, কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা হলো মৌলটির চার্জযুক্ত যোজনী। ভিন্ন ভিন্ন যৌগে একই যোজনী বিশিষ্ট মৌলের জারণ মান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন- CH4 এবং CCl4 উভয় যৌগে C এর যোজনী 4 কিন্তু CH4- এ C এর জারণ সংখ্যা -4 ও CCl4 এ +4 । অর্থাৎ, যোজনী ও জারণ সংখ্যা এক নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!