যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয়েরই অণু সহজে চলাচল করতে পারে তাকে ভেদ্য পর্দা বলে।
কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষপ্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে। উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান, যেমন- স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি। এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করতে সক্ষম। শুকনো বীজ অঙ্কুরোদগমের সময় ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি শোষণ করে।
জারিফের বোনের রং ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানিতে ছড়িয়ে গেল। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
একই তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। জারিফের বোন যখন রংতুলি দিয়ে ছবি আঁকছিল তখন কিছুটা রং গ্লাসের পানিতে পড়লে রংটি ধীরে ধীরে গ্লাসের সমস্ত পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রক্রিয়ার নামই ব্যাপন। ব্যাপন অর্থই ব্যাপিত হওয়া বা ছড়িয়ে পড়া। যেহেতু রঙের ঘনত্ব পানির ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি। তাই এ রং পানিতে পড়ার সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছড়িয়ে পড়া ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, যতক্ষণ না রঙের অণুগুলোর ঘনত্ব সব স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হওয়া মাত্রই রঙের ব্যাপন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং জারিফের বোনের রং ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
জারিফের লক্ষ করা কিশমিশ ফুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি অভিস্রবণের ফল। নিম্নলিখিত কারণে উদ্ভিদ জীবনে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ-
১. বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লবণ উদ্ভিদদেহে দ্রবীভূত অবস্থায় জীবকোষে প্রবেশ করে। জীবকোষের আবরণ অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে কাজ করে। এ পর্দা দিয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ কোষের মধ্যে প্রবেশ করে বা বাইরে আসে।
২. উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে পানি পরিশোষণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে।
৩. পত্ররন্দ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই অভিস্রবণ প্রক্রিয়া প্রস্বেদনের হারও নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. কোষের স্বাভাবিক স্ফীতি অবস্থা বজায় রাখা এবং বৃদ্ধির জন্য কোষ স্ফীতি আবশ্যক। অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি গ্রহণ করে কোষ স্ফীত অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
৫. মূল থেকে পাতা পর্যন্ত বিভিন্ন জীবিত কোষে প্রয়োজনীয় পানি পৌছানোর পেছনে অভিস্রবণ প্রক্রিয়াই সক্রিয়।
৬. ফুলের পাপড়ি খোলা বা বন্ধ হওয়া, বীজের অঙ্কুরোদগম ইত্যাদির সাফল্যও অভিস্রবণের ওপর নির্ভর করে।
সুতরাং উদ্ভিদ জীবনের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allউদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি ও খনিজ লবণ মূলরোম দ্বারা শোষণ করে।
ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচের ছকে দেখানো হলো-
ব্যাপন | অভিস্রবণ |
১. ব্যাপন হচ্ছে কোনো পর্দার বাঁধা ছাড়া ঘন দ্রবণ থেকে দ্রব্যের অণুর পাতলা দ্রবণের দিকে ছড়িয়ে পড়া। | ১. অভিস্রবণ হচ্ছে অর্ধভেদ্য পর্দার ভেতর দিয়ে পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবকের চলন। |
২. ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রব ও দ্রাবক' উভয়ের ব্যাপন ঘটে। | ২. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শুধু দ্রাবকের ব্যাপন ঘটে। |
উদ্দীপকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেন্ট এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে তা হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
আমরা জানি সব পদার্থই কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনতযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই সেন্ট এর ঘ্রাণ ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
জীবের সব রকম শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এ অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।
উদ্ভিদ পরিবহনের পথ বলতে বুঝায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুকে।
কারণ জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক পরিবহন টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদে পরিবহন ঘটে। জাইলেম উদ্ভিদে ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। জাইলেমের মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় পৌছে। আর ফ্লোয়েম উদ্ভিদে নিম্নমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!