ইউসেফের প্রতিষ্ঠাতার নাম লিন্ডসে অ্যালান চেইনি।
রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মূল কাজ হলো সারাবিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত, অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণ সাধন করা।
রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা। অসহায়, দুস্থ, পীড়িত ও বিপদাপন্ন মানুষের উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি জরুরি ত্রাণ ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কর্মসূচি প্রভৃতির আয়োজন করে। সর্বজনীনতা, একতা, পক্ষপাতহীনতা, মানবতা প্রভৃতি মূলনীতির ভিত্তিতে সংস্থাটি এ সকল কর্মসূচি পালন করে।
উদ্দীপকে জালাল হোসেন জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফ-এ কর্মরত।
আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ বিশ্বের অসহায় শিশুদের রক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধীনে শিশুকল্যাণে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে। উদ্দীপকের বর্ণনায় এই প্রতিষ্ঠানটিরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উদ্দীপক অনুসারে জালাল সাহেব জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত একটি মানবকল্যাণধর্মী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাজ করে। এ থেকেই বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ, যেটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশুকল্যাণে তাদের সেবাকর্ম পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বে শিশুদের সার্বিক কল্যাণে ইউনিসেফের কার্যক্রম বিশেষভাবেউল্লেখযোগ্য। এ প্রতিষ্ঠানটি শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতি, শিশু ও মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ, তাদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম, মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি সারাবিশ্বের শিশুদের জন্য একটি কল্যাণমূলক সেবাপ্রদানকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে শিশুকল্যাণে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময় থেকে ইউনিসেফ বাংলাদেশে কাজ করে আসছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও পুষ্টি কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের শিশুদের কল্যাণে খাদ্য, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি, টিকা ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে থাকে।
বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় ইউনিসেফের গৃহীত কর্মসূচিগুলো হচ্ছে-স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা, যক্ষা, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি থেকে প্রতিকার ও প্রতিরোধ। আমাদের দেশের শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ইউনিসেফ পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান দান এবং WHO-এর সাথে যৌথভাবে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। শিক্ষাক্ষেত্রেও ইউনিসেফের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি ইউনিসেফ নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুরাতন প্রতিষ্ঠান সংস্কার, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাছাড়া ইউনিসেফের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম, এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের জন্য কার্যক্রম, জন্ম নিবন্ধন, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি।
তাই বলা যায়, উপর্যুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইউনিসেফ বাংলাদেশে শিশুদের কল্যাণে কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখে চলেছে। Activate
Related Question
View All১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মানবহিতৈষী ব্যক্তি হেনরি ডুনান্ট (Henri Dunant) এর উদ্যোগে Red Cross Society প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৪ জুন, ১৮৫৯ সালে ইতালির সলফ্যারিনো গ্রামে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে হেনরি ডুনান্ট A Memory of Solferino' নামক বইতে বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে যুদ্ধাহতদের সেবার জন্য একটি বিশ্ব সংস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ১৮৬৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হেনরি ডুনান্ট অপর ৪ জন জেনেভাবাসীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। ১৮৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর তারিখে এ কমিটি ১৬টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেনেভায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানায়। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক রেডক্রস প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
সুরমার উপসর্গগুলো এইডস রোগকে নির্দেশ করে।
এইডস একটি প্রাণঘাতী রোগ। এইডস রোগের ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে।
এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের ওজন দ্রুত কমতে থাকে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ততা, বিরতিহীন ডায়রিয়া, খাবারে অরুচি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ফুলে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
উদ্দীপকের সুরমার ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলোই দেখা দিয়েছে।
উদ্দীপকের সুরমার সন্তান জন্মের পর দ্রুত ওজন কমতে থাকে। প্রায় সপ্তাহখানেক জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ আরওউপসর্গ নিয়ে সুরমা ডাক্তারের কাছে যায়। তখন রক্ত পরীক্ষায় জানা যায় সে একটি প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। সুরমার প্রাণঘাতী রোগটির উপসর্গগুলো ওপরে বর্ণিত এইডস রোগের লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, সুরমার উপসর্গগুলো এইডস রোগকে নির্দেশ করে।
সুরমার সন্তানের সহযোগিতায় সেভ দ্যা চিলড্রেন ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।
এইডস এর বিস্তৃতি বন্ধে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সেভদ্যা চিলড্রেন বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশুর এইডস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি তাদের জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সংস্থাটি যেসব কাজ করে তা হলো সমষ্টিকেন্দ্রিক সাহায্য প্রদান, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সমর্থন, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ ইত্যাদি। অসহায়, এতিম এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ওপর গুরুত্বারোপ করে এইডস বিষয়ে সেভদ্যা চিলড্রেন ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে। ২০১৪ সালে সংস্থাটি HIV/AIDS কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী ১১.৮ মিলিয়ন শিশুকে সহযোগিতা প্রদান করেছে। সুরমার সন্তানের ক্ষেত্রে সংস্থাটি সহযোগিতা করতে পারে।
উদ্দীপকের সুরমা এইডসে আক্রান্ত হওয়ায় তার সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর যেসব শিশু এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাদের সুরক্ষায় সেভদ্যা চিলড্রেন নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। যেহেতু সুরমার সন্তান এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে সেহেতু সংস্থাটি সুরমার সন্তানকে সহযোগিতা করতে পারে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুরমার সন্তানের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্যা চিলড্রেন ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্থায়ী কার্যালয় অবস্থিত নেত্রকোণার বিরিশিরিতে।
ইউএনডিপির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো সংকট প্রতিরোধ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
UNDP বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান সশস্ত্র সংঘাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে কাজ করে। পাশাপাশি সংঘাত ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমেও সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়া UNDP ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারকে ঝুঁকি হ্রাস বিষয়সমূহ নির্ধারণ, ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচির মান নির্ধারণে সহযোগিতা করে থাকে। UNDP নিরস্ত্রীকরণ, সেনা অপসারণ, মাইন অপসারণ, বাস্তুহারা লোকদের পুনর্বাসন এবং নির্যাতন রোধে কর্মসূচি পরিচালনা ইত্যাদি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!