সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
সুশাসনের অন্যতম একটি সমস্যা হলো দুর্নীতি তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
বর্তমান সময়ে দুর্নীতি একটি প্রচলিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দুর্নীতিকে দেখা হয় অভিশাপ হিসেবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যদি দুর্নীতি প্রবেশ করে তবে সেখানে ন্যায়পরায়ণতাআইনের শাসন সুদূরপরাহত বিষয়ে পরিণত হয়। সুশাসনের পক্ষে সরাসরি বাধা হিসেবে কাজ করে দুর্নীতি। শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি জনসাধারণকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।
তালহা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার যে বিষয়গুলো উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে তা হলো সুশাসনের গুণাবলি।
নিচে সুশাসনের ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো-
উন্নয়নশীল দেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি আমলারা নিজেদেরকে জনগণের প্রভু মনে করে থাকে। রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বাইরে থাকেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। জনগণের নিকট কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় অনেক সময় প্রশাসন স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক এরূপ ব্যবস্থায় সুশাসন মরীচিকায় পরিণত হয়। এছাড়াও সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় আনুগত্য দোষের কিছু নয়। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় যদি নোংরামির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা অবশ্যই ভয়ের কারণ। সুশাসনের অনুপস্থিতি যেসব দেশে দেখা যায় সেসব দেশে এর পেছনে রাজনৈতিক হানাহানিও অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে।
বর্তমান বিশ্বে তালহার এরূপ শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব সর্বাধিক। তার কারণ তালহা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর সুশাসনের গুরুত্ব বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক। নিচে সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-..
প্রথমত, আইনসভা দেশের শাসনব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রণকারী। আইনসভার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আইনসভা প্রদত্ত ক্ষমতা ও বিধানমতো যাতে সরকারি সংস্থাসমূহ চলতে-পারে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত আইনসভাই নিতে পারে।
তৃতীয়ত, নারীর ক্ষমতায়ন ও সর্বত্র নারী-পুরুষের সমানাধিকার ব্যতীত সুশাসন অধরাই থেকে যায়। রাষ্ট্রীয় জীবনে লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে এবং নারীর ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করতে হবে।
চতুর্থত, দুর্নীতি সুশাসনের অন্তরায়। দুর্নীতি দমনের জন্য সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত।
Related Question
View AllকUNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development
Programme |
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।
ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।
সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর।
কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন
নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!