জাহানারা ইমামের বড় ছেলে রুমী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে আমেরিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বুমী তার মাকে জানায় দেশের এই দুর্দিনে সে চলে গেলে, দেশ স্বাধীন হলে সে কীভাবে দেশে ফিরবে? তখন নিজেকে চির অপরাধী মনে হবে। তাই সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। জাহানারা ইমামও ছেলেকে দেশের জন্য কোরবানী করে দেন। রুমী দেশের জন্য চির অমর হয়ে আছে।

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

শ্যামা জন্মদে-এর অর্থ শ্যামল জন্মভূমি।

উত্তরঃ

দেশমাতার স্মৃতিতে চিরস্মরণীয় হওয়ার অভিপ্রায়ে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

কবি তাঁর প্রিয় স্বদেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। মা যেমন সন্তানকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে বুকে আগলে রাখেন ঠিক তেমনিভাবে কবি চান মাতৃভূমি যেন তাঁকে আগলে রাখেন, স্মরণে রাখেন। তাই কবি দেশমাতাকে মিনতি করে আলোচ্য কথাটি বলেছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের দিকটি কবির অনুভূতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসাই দেশপ্রেম। একজন দেশপ্রেমিকের কাছে তার জীবন অপেক্ষা দেশ বড়। দেশের প্রয়োজনে সে নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হয় না। এই কারণে প্রবাসে গেলেও মানুষ স্বদেশকে ভুলে থাকতে পারে না।

উদ্দীপকে জাহানারা ইমামের বড় ছেলে রুমীর দেশপ্রেমের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। রুমী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য আমেরিকা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশের দুর্দিনে দেশের মানুষের পাশে থাকাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতি তার এই ভালোবাসা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় প্রতিফলিত স্বদেশের কবির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও প্রবাস জীবনে তাঁর প্রিয় জন্মভূমিকে গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন। তিনি জন্মভূমিকে 'মা' বলে সম্বোধন করে নিজেকে দাস বলে নিবেদন করেছেন। তিনি জন্মভূমির স্নেহের পরশে অমরতা লাভ করতে চেয়েছেন। কবি বসন্ত, শরতে মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকতে চেয়েছে। উদ্দীপকের রুমীও দেশের জন্য জীবন দিয়ে বাংলার মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

উত্তরঃ

"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার চেতনাগত দিক অভিন্ন।" মন্তব্যটি যথার্থ।

স্বদেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। দেশের জন্য মানুষ গভীর টান অনুভব করে। তাই প্রবাসে গেলেও মানুষ দেশকে ভুলে থাকতে পারে না। একজন দেশপ্রেমিক নিঃস্বার্থভাবে তার দেশকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে।

উদ্দীপকে প্রবাসের শিক্ষা জীবন ফেলে স্বদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আত্মোৎসর্গকারী একজন মুক্তিযোদ্ধার কথা বলা হয়েছে। তিনি জাহানারা ইমামের বড় ছেলে রুমী। দেশের দুর্দিনে তিনি প্রবাস জীবন ছেড়ে প্রিয় দেশে ফিরে এসে শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও তাঁর এই দেশপ্রেম এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় প্রতিফলিত কবির দেশপ্রেম একসূত্রে গাঁথা। কবিও প্রবাস জীবনে স্বদেশের কথা ভেবে ব্যাকুল হয়েছেন। দেশকে মা কল্পনা করে নিজেকে তার সন্তান ভেবেছেন। দেশকে ভালোবেসে তিনি দেশের বুকে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য দেশমাতার কাছে প্রার্থনা করেছেন। উদ্দীপকের রুমী আমেরিকা থেকে ফিরে এসে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিতে তার মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন।

'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রতিটি চরণে কবির স্বদেশপ্রেম ধ্বনিত হয়েছে। স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসার জন্য তার ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের রুমীও ব্যাকুল হয়ে স্বদেশের মাটিতে ফিরে এসে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। কবিতায় দেশের জন্য কবির যে ভালোবাসা ও স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের বিষয়ের সঙ্গে ভিন্ন। কিন্তু দেশের প্রতি গভীর আবেগের দিকটি অভিন্ন। এই দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

58

রেখো, মা, দাসেরে মনে,      এ মিনতি করি পদে।
                           সাধিতে মনের সাধ
                           ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো।           তব মনঃকোকনদে।
                         প্রবাসে, দৈবের বশে,
                         জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,          নাহি খেদ তাহে।
                         জন্মিলে মরিতে হবে, 

                       অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর,               হায় রে, জীবন-নদে?
                      কিন্তু যদি রাখ মনে,
                     নাহি, মা, ডরি শমনে;

 মক্ষিকাও গলে না গো        পড়িলে অমৃত-হ্রদে।
                     সেই ধন্য নরকুলে,
                  লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা             সেবে সর্বজন
                কিন্তু কোন গুণ আছে, 

                  যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি,            কহ, গো, শ্যামা জন্মদে।
                  তবে যদি দয়া কর,

                  ভুল দোষ, গুণ ধর
অমর করিয়া বর            দেহ দাসে, সুবরদে! !
                ফুটি যেন স্মৃতি-জলে, 

                 মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরসকী          বসন্ত, কী শরদে

Related Question

View All
উত্তরঃ

কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর জন্মভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনিও চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি যেন তাকে মনে রাখেন, হৃদয়ে স্থান দেন। দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি অমরতা লাভ করতে চান। কবি আকুলভাবে তাঁর স্বদেশের কাছে সেই বর প্রার্থনা করেন।

450
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতিতে কবির অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'ফুটি যেন স্মৃতি-জলে' চরণটির মধ্য দিয়েও এ কথাই প্রকাশ পায়।

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশের প্রতি রয়েছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা। বাংলা-মায়ের কোলে তাই সব বাঙালি অনন্তকাল স্থান পেতে চায়।

উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের কবি মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হলে মানুষ অথবা শঙ্খচিল-শালিকের বেশে বাংলা-মায়ের কোলে ফিরে আসার আকুতি প্রকাশ করেছেন। কবির এ আকুতির মধ্য দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে অমরতা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম। কবির এই স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ও অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন বাংলা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে চেয়েছেন, অন্যজন বাংলা-মা যেন তাঁকে মনে রাখে এবং তিনি যেন মায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকতে পারেন অনন্তকাল সেই মিনতি জানিয়েছেন।

148
উত্তরঃ

"দ্বিতীয় কবিতাংশ এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার মূল সুর একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।

আমাদের জন্মভূমি বিচিত্র উপাদানে সজ্জিত। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তেমনই এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।

'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাত্মতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। স্বদেশের প্রতিটি বস্তু তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই কবি বাংলা-মাকে আকুতি জানিয়েছেন তিনি যেন ছেলেকে ভুলে না যান। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন চির স্মরণীয় হওয়ার এবং দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্ম ফুলের মতো ফুটে থাকার। উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও দেশ বা পৃথিবীর প্রতি কবির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি দেশ, দেশের মানুষের মাঝে তথা এ সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতি এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে চান না।

দেশমাতৃকার প্রতি উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েরই টান সীমাহীন। উভয় জায়গায়ই দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং মানবহৃদয়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার আকুলতা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

142
উত্তরঃ

সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন চলমান বলে জীবন-নদের নীর স্থির নয়।

জাগতিক নিয়মে জীবন বয়ে চলে। কখনো জীবনে দুঃখ এসে ভর করে, কখনোবা আবার সুখের স্রোতে ভেসে চলে। নদীর ধারা যেমন প্রতিনিয়ত বয়ে চলে, জীবনও তাই। প্রকৃতির নিয়মেই রাতের শেষে
দিন হয়, আবার দিনের শেষে রাত আসে। জীবনেও এমন দুঃখ-দুর্দশায় মেঘ ঘনিয়ে অন্ধকার রাত হয়, আবার হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এভাবে প্রকৃতির নিয়মেই জীবন-নদের নীর স্থির নয়।

169
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews