তিনটি গ্রন্থি মিলে পরিপাক গ্রন্থি হয়।
কিছু খাবার খাওয়ার পর খুব দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ না বাড়লেও সেই খাবারগুলো পরিমাণে বেশি খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় তাই সেই খাবারগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের হিসাব করে খেতে হবে। যেমন ভাত, রুটি, চিড়া, মুড়ি, খৈল, বিস্কুট, আলু, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, দুধ, ছানা, পনির, মাংস, মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম, মিষ্টি ফল যেমন কলা, পাকা আম, পাকা পেপে ইত্যাদি।
জাহিদ সাহেব কিছুদিন যাবত অনুভব করছেন তার মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা করে, ভালো ঘুম হয় না। তার এ সকল শারীরিক লক্ষণ দেখে বোঝা যায় তিনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।
জাহিদ যেহেতু উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাই তাকে খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
মাসুম সাহেব যে সমস্ত খাদ্য খেতে পারেন তা হলো বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল, বিশেষ করে টকজাতীয় ফল যেমন- লেবু, জাম্বুরা, কমলা, আনারস ইত্যাদি। কচি ডাবের পানি, সাদা আটা ও সাদা চালের পরিবর্তে লাল চালের ভাত ও ভুসিসহ আটার রুটি তার জন্য বেশি উপকারী। তার মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস ও ডিম প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাওয়া উচিত। তিনি ডাল, বাদাম খেতে যেতে পারেন। ননী তোলা দুধ ও এই দুধের তৈরি টক দই তিনি খেতে পারেন। তার রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ খাওয়া যাবে না। তার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য শক্তি গ্রহণ করা যাবে না। জাহিদ সাহেব যদি উপরের তালিকা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করেন তবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থেকে অনেকটা রক্ষা পেতে পারেন।
সুতরাং বলা যায়, খাদ্য গ্রহণে সতর্কতাই জাহিদ সাহেবকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।
রহমান সাহেবের ইদানিং ঘন ঘন পিপাসা লাগা, শরীর দুর্বল লাগা, প্রচুর খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার এ ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের বিকল্প নেই। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের জন্য আলম সাহেবকে নিয়মিত ও পরিমাণমতো সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী খাবার বড়ি অথবা ইনসুলিন ইনজেকশন গ্রহণ করতে হবে। পায়ের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে এবং রিপোর্ট সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় যথাসম্ভব নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে হবে। শারীরিক যেকোনো জরুরি অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এসকল নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে রহমান সাহেব তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
Related Question
View Allসুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন।
সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের ফলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। জীবনের দীর্ঘতা বা আয়ু বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।
মিসেস শীলা অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করেন এবং তার খাদ্যাভ্যাসও ত্রুটিপূর্ণ। ফলে তার ওজন বেড়ে যাচ্ছে এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় তার খাদ্যাভ্যাস যেরূপ হওয়া দরকার তা হলো-
১. চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের ছয়টি উপাদান সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২. যথাযথ সময় পরিকল্পনা করতে হবে। খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হবে। খাওয়ার কমপক্ষে দু ঘণ্টা পর ঘুমাতে যেতে হবে।
৩. পরিমিত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
৪. ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অতিরিক্ত ক্যালরি এবং ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।
৫. দৈনিক কিছু শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
৬. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্য গ্রহণে সচেতন থাকতে হবে।
৭. খাদ্য সম্পর্কিত কুসংস্কার পরিহার করতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়মে খাদ্য গ্রহণ করলে মিসেস শীলা খুব সহজেই তার স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।
মিসেস শীলার জীবনপ্রণালি সংশোধন না করলে তার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
মিসেস শীলার বয়স ৪৫ বছর। এই বয়সে সাধারণত মানুষের প্রোটিন ও ফ্যাটের চাহিদা হ্রাস পায় এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময় প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য তার খাদ্য তালিকা থেকে কমাতে হবে এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মিসেস শীলা পরোটা, মাংস, মিষ্টি, ডিম ইত্যাদি বেশি, পরিমাণে গ্রহণ করেন। এসকল খাদ্য গ্রহণের ফলে তার দেহে অতিরিক্ত ফ্যাট সঞ্চিত হয়ে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া তার সময় ব্যবস্থাপনায়ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। তিনি সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমান। দুপুরে খাওয়ার পর ২ ঘণ্টা ঘুমান, আবার রাতে খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েন। এই ধরনের জীবনযাপনের ফলে তার গৃহীত খাদ্য পরিপাকে সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং মিসেস শীলার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণের জন্য তার জীবন প্রণালির সংশোধন আবশ্যক।
বিপাকজনিত একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস।
স্বাস্থ্যরক্ষায় আঁশ জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে। এছাড়া আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে পিত্তথলির রোগ, মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ্ব, এ্যাপেন্ডিকস, হৃদরোগ, স্থূলতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রোগের প্রকোপ কমে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!