জায়েদ হোসেন তার গ্রামের বাড়িতে বেঙ্গল নামে একটি টেক্সটাইল মিল স্থাপন করেন। একই সাথে তিনি কয়েকটি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পও স্থাপন করেন। তিনি লক্ষ করলেন, বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলটিতে উৎপাদন করতে গিয়ে মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব ইত্যাদি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন সেগুলো ক্ষুদ্র কুটির শিল্পতে অনুপস্থিত।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে চা শিল্প গড়ে উঠেছে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতির ৩টি বৈশিষ্ট্য হলো-

১. বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৬৩ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

২. শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ৩৫.১৪ ভাগ। উদ্যোক্তার অভাব, মূলধনের অভাব, দক্ষ কারিগরের অভাব প্রভৃতি কারণে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯]

৩. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় বিনিয়োগ কম এবং কৃষি। অনুন্নত বিধায় বেকারত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে আলোচিত জায়েদ হোসেনের গ্রামের বাড়ির বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলটি হলো একটি বৃহদায়তন শিল্প।

যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান অধিক মূলধন, বেশি সংখ্যক শ্রমিক, উন্নত ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বেশি পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদনে সক্ষম সেগুলো হলো বৃহদায়তন শিল্প। এ শিল্পগুলো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বলে তা বহুলাংশে পুঁজি নির্ভর। এ ধরনের শিল্পে বিভিন্ন ব্যয় সংকোচনের ফলে গড় উৎপাদন ব্যয় কম হয়। উৎপাদন ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও শ্রম বিভাগ প্রবর্তন করার ফলে উৎপাদিত দ্রব্য গুণে ও মানে সমৃদ্ধ হয়।

'উদ্দীপকে দেখা যায়, জায়েদ হোসেন তার প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলে উৎপাদন করতে গিয়ে অধিক মূলধন, দক্ষ শ্রমিক প্রভৃতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। এ সকল উপকরণ বৃহদায়তন শিল্পে প্রয়োজন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত মিলটি বৃহদায়তন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তরঃ

জনাব জায়েদ হোসেনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ স্বল্প পুঁজি ও উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তির দেশ। বৃহদায়তন শিল্পোৎপাদনের জন্য যে অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় তা এদেশে নেই। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ সীমিত হওয়ায় দেশের মানুষের প্রয়োজন মিটিয়ে শিল্পের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে বেশি বেশি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প গড়ে তোলা উচিত। এ শিল্প মূলধন সাশ্রয়ী এবং এতে কম বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশে বিগত কয়েক দশক ধরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ দেশে শিল্পোন্নয়নের প্রচেষ্টা চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনো পাওয়া যায় নি। দেশটিতে শিল্পোন্নয়নের গতি এখনও মন্থর। মূলত মূলধনের স্বল্পতা, দক্ষ শ্রমিক ও শক্তি সম্পদের অভাব এ অবস্থার জন্য দায়ী। বাংলাদেশে পাট, বাঁশ, বেত, চামড়া, কাঠ ও অন্যান্য কৃষিজ উপকরণ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সম্পদের সদ্ব্যবহার সম্ভব। এছাড়া এদেশের বেকার ও অবহেলিত মহিলা জনগোষ্ঠীকে কর্মে নিয়োজিত করতে হলে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের বিকল্প নেই।

কাজেই, জায়েদ হোসেনের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা উচিত।

155

জনাব রতন একজন ধর্মী কৃষক। গত কয়েক বছর ধরে তাঁর জমিতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করার অধিক ফসল উৎপাদিত হয়। পারিবারিক ব্যয় বহন করার পর উদ্বৃত্ত অতিরিক্ত অর্থ জনাব রতন সংসার করেন। গত বছর তিনি একটি ছোট তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন, যা তাঁর স্ত্রী জয়ন্তী পরিচালনা করেন। সেখানে তাঁর গ্রামের নারী শ্রমিকেরা কাজ করে। তাঁরা তাদের একমাত্র ছেলে রুনীকে একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করেন। রনী অসুস্থ হলে তাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের পরামর্শমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপরিউক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের একটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, যেমন : কৃষি, শিল্প এবং সেবা।

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে

249
উত্তরঃ

আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণের আয় খুব কম হওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও কম, ফলে উচ্চহারে পুঁজি গঠন করা সম্ভব হয় না

আয় ও ভোগ ব্যয়ের পার্থক্য থেকে সঞ্চয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের সম্পূর্ণ বা বেশির ভাগ অর্থই ভোগ্য পণ্য ক্রয়ে ব্যয় করতে হয়। ফলে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করে পুঁজি তথা মূলধন গঠন করতে পারে না। তাছাড়া সঞ্চয় সংগ্রহের অসুবিধা, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি কারণেও এদেশে মূলধন গঠনের হার কম।

368
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'A' খাত বলতে কৃষি খাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে বোঝায় কোনো দেশের জাতীয় আয়ের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া। বাংলাদেশের জিডিপিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বর্তমানে (২০১৮-১৯ অর্থবছরে) দেশের GDP-তে কৃষি খাত (ফসল, বন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার এদেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্যের

চাহিদা পূরণেও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন হবে ৪১৫.৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রা), যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৪১৩.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। তাহলে অচিরেই আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করতে সমর্থ হবে। যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার যোগানে সহায়তা করবে। তাছাড়া কৃষি খাত উন্নত হলে অন্যান্য খাত যেমন- শিল্প, সেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামাল আসে কৃষি খাত থেকে। আবার এ যাত বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে। [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
কাজেই আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কৃষি ৩. খাতের উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।

211
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' খাত কৃষি খাত এবং 'B' খাত হলো শিল্প খাত।
কৃষি ও শিল্প খাত পরস্পর নির্ভরশীল। কৃষি খাতের উন্নতি ও আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম ও সারের যোগান দেয় শিল্প খাত। তেমনি শিল্পের প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করে কৃষি খাত

কৃষি ও শিল্প খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অনেক কারণ রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প যেমন- পাট, চিনি, সার, কাগজ, বস্ত্র প্রভৃতি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বিভিন্ন শিল্পের প্রসারের ফলে কাঁচামালের বর্ধিত চাহিদার কারণে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য দাম পায়, ফলে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়। তাছাড়া কৃষি শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত করে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প খাতের অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য দুটি খাতের
একই সঙ্গে উন্নতি একান্তভাবে কাম্য। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন পরস্পর নির্ভরশীল এবং একে অপরের পরিপূরক।

172
উত্তরঃ

প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ কাঁচামালকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুতপ্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে।

173
উত্তরঃ

এদেশের সিংহভাগ গ্রামীণ জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষির অগ্রগতির সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষিকে কেন্দ্র করে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি কৃষির অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

211
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews