সঠিক পরিমাণে সুষম খাবার না খাওয়াই জিতুর দুর্বলতার কারণ। প্রতিটি মানুষের, দৈনিক আহারে ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফল, দুধ ইত্যাদি গ্রহণ করা উচিত। এতে যথাযথ পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। শরীর কর্মক্ষম ও রোগমুক্ত থাকে।
জিতু ও রিতু সমবয়সী। তাদের মধ্যে রিতু ঘরে রান্না করা খাবার খায়। সে নিয়মিত মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি খায়। অপরদিকে জিতু বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে। সে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পছন্দ করে। কিন্তু এগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও সুষম নয়। ফলে তার দেহে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না। এতে তার শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। তার শরীরের গঠন ঠিকমতো হয় না এবং কর্মশক্তি কমে যায়। ফলে সে অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে ও দুর্বলতা অনুভব করে। তাই বলা যায়, সুষম খাদ্য গ্রহণ না করাই জিতুর দুর্বলতার কারণ।
Related Question
View Allযে খাবারে দেহের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেকটা পুষ্টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে তাই সুষম খাদ্য।
খাদ্য পিরামিড বলতে বোঝায় একটা নির্দেশিকা। যার দ্বারা কোন ধরনের খাদ্য কী পরিমাণে খাওয়া উচিত তা চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ কোন ধরনের খাবার কতটুকু পরিমাণে গ্রহণ করলে খাদ্য। সুষম হবে তার ধারণা পাওয়া যায় এই পিরামিড থেকে।
৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া সুমার দৈনিক খাদ্যাভ্যাস থেকে ধারণা পাওয়া যায় তার শারীরিক গঠন ভালো এবং সে সুস্থ। খাদ্যের কোনো একটি উপাদান বাদ পড়লে খাদ্য সুষম হয় না।
সুমা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ছয়টি পুষ্টি উপাদান যথাঃ শর্করা, আমিষ, স্নেহ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি গ্রহণ করে। অর্থাৎ সে সুষম খাদ্য গ্রহণ করে। ফলে তার পুষ্টি চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ হচ্ছে। তাই তার শারীরিক গঠন হবে সুস্থ-সবল, কর্মঠ ও প্রাণবন্ত। সুমার কৈশোরকালীন শারীরিক বৃদ্ধির কারণে শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে তার বর্ধন ভালো হবে। এমনকি তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
কণার খাদ্যাভ্যাস তার সুস্থ দৈহিক বর্ধনে সহায়ক নয়। কারণ সে সুষম খাদ্য গ্রহণ করে না।
কণা একজন কিশোরী। এ বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্রুত গতিতে শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। ফলে সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এ সময় প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। শুধু একটি বা দুটি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করলে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে। তাই ছয়টি উপাদানই পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা দরকার। এ সময় আমিষের ঘাটতি হলে বর্ধন ব্যাহত হয়। আবার হাড়ের এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম ও জিংক প্রয়োজন। এছাড়া রক্ত গঠনের জন্য লৌহ প্রয়োজন। কিন্তু কণার খাদ্যাভ্যাস থেকে দেখা যায় তার খাদ্য তালিকায় মাছ মাংসের পরিমাণ কম ও দুধ নেই। এসব কারণে তার খাদ্য সুষম হয় না এবং দেহের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। তাই তার দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। সুতরাং, কণার খাদ্যাভ্যাস তার সুষ্ঠু বর্ধনের জন্য যথেষ্ট নয়।
খাদ্যের শক্তি পরিমাপের একক কিলোক্যালরি।
সাধারণত বয়স, পরিশ্রমের প্রকৃতি ও লিঙ্গভেদে শক্তির চাহিদায় তারতম্য ঘটে।
কৈশোরকালীন সময়ে ছেলেমেয়েরা বেশি পরিশ্রম ও খেলাধুলা করে। তাই তাদের, খাদ্য শক্তির চাহিদা বেশি হয়। শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৈশোরে শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!