যে অনুমান প্রক্রিয়ায় বিশেষ থেকে সার্বিক, নির্দিষ্ট থেকে অনির্দিষ্ট এবং নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে গমন করা হয় তাকে 'সাদৃশ্যমূলক অনুমান' বলে।
নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণকে আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি বলে। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক অবস্থাবলির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ঘটনা পারিপার্শ্বিক অবস্থাসমূহকে যখন সুনিন্ত্রিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তখন তাকে 'নিরীক্ষণ' বলে। পক্ষান্তরে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পূর্বপরিকল্পিত অবস্থাবলির কৃত্রিমভাবে 'সৃষ্ট ঘটনাসমূহ নিরীক্ষণ করা হয় তখন তাকে বলে 'পরীক্ষণ'।
উদ্দীপকে জিতুর অসুস্থতা সম্পর্কে বহু কারণবাদের প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। বহুকারণবাদ অনুযায়ী একাধিক কারণ একই কার্য উৎপাদন করে। বহুকারণবাদের ব্যাখ্যায় যুক্তিবিদ মিল বলেন, "একথা সত্য নয় যে, একটি কাজ একই কারণ বা শর্তের সমষ্টির সাথে সকল সময় আবশ্যিকভাবে জড়িত থাকবে, অথবা প্রতিটি ঘটনা কেবল একইভাবে উৎপন্ন হবে। কতগুলো স্বতন্ত্র উপায়েও প্রায় একই ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ একটি কাজের ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বহুকারণবাদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তিবিদ বেইন বলেন, “কার্যকারণ নিয়ম অনুযায়ী একটি কারণ সর্বদা একই কার্য উৎপন্ন করে, কিন্তু বিপরীতক্রমে নয়, অর্থাৎ, একটি কার্য সকল ক্ষেত্রে একই কারণ দ্বারা উৎপন্ন হয় না, একটি কার্যের বহুবিধ কারণ থাকতে পারে। কার্ডেথ রীডের ভাষায়, "একই কার্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অগ্রবর্তী ঘটনার দ্বারা সংঘটিত হতে পারে; বস্তুত একটি কার্যের বিভিন্ন বিকল্প কারণ থাকতে পারে।” অর্থাৎ যুক্তিবিদগণ বিভিন্নভাবে একটি বুঝাতে চেয়েছেন যে, একটি কাজ কেবল একটি কারণ দ্বারা নয়, বহুকারণ ছারাও সৃষ্টি হতে পারে। এখানে আমরা লক্ষ করেছি যে, জিতুর অসুস্থতার পিছনে বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। এসব কারণসমূহ হলো- নারী পাচরকারীদের খপ্পরে পড়া, ভীতি, জিনের সর্দার কর্তৃক শারীরিক কষ্ট ইত্যাদি। এসব কারণের বা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার আক্রান্ত হওয়া। একানে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহ হলো ঘটনাটির কারণ আর এর অব্যবহিত পরবর্তী ঘটনা। অসুস্থতা হচ্ছে কার্য। এভাবে উদ্দীপকে প্রদত্ত জিতুর অসুস্থতার পিছনে বহুকারণবাদের প্রয়োগ ব্যাখ্যা করা যায়।
একজন সমাজসংস্কারক প্রচলিত অর্থে না হলেও বাস্তব বিবেচনায় একজন মহান যুক্তিবিদ। এখানে উদ্দীপকে প্রদত্ত কামাল সাহেবের ভূমিকার আলোকে আমরা এ বক্তব্যের স্বার্থকতা নিরূপণ করতে পারি। এখানে আমরা দেখি বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অপরাধ ও কুসংস্কারের অত্যাচারের নির্মম শিকারে পরিণত হয়েছে জিতু। এমতাবস্থায় সুবিবেক প্রসূত সচেতন ব্যক্তি কামাল সাহেব জিতুর অবস্থা লক্ষ করে তাকে এই অত্যাচারের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, জিতুর যে সমস্যা হয়েছে তা কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ। এজন্য তিনি তাকে নিয়ে মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। আমাদের সমাজের এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। প্রচলিত অর্থে বা সামাজিক দৃষ্টিতে তাদের তেমন কোনো মর্যাদা নেই। তবে বাস্তবিক পক্ষে সমাজের এইসব সচেতন বিবেক জ্ঞান, চিন্তাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই বাস্তব বিবেচনায় একজন মহান যুক্তিবিদ। এসব ব্যক্তিদের জন্য সমাজের অনেক মানুষ জ্ঞান বা যুক্তির আলোকে নিজেদের আলোকিত করে সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
Related Question
View Allকোনো কার্যকে ঘটানোর জন্য যে সকল পূর্ববর্তী ঘটনার প্রয়োজন হয় তাদের সমষ্টিকে 'কারণ' বলে।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে, সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করাই হলো 'নিরীক্ষণ'। আর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো পরীক্ষণ। পরীক্ষণ এক ধরনের নিরীক্ষণ। পৃথিবীতে অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। এগুলো নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ করা। যায় না। পরীক্ষণের ক্ষেত্র কেবল গবেষণাগারে কিন্তু নিরীক্ষণের ক্ষেত্র সর্বত্র। এজন্য নিরীক্ষণের ব্যাপকতা পরীক্ষণ থেকে বেশি।
উদ্দীপকে বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞতার জগতের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণ সব সময় অ-ভ্রান্ত হয় না, ভ্রান্ত নিরীক্ষণও হয়। ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বা নিরীক্ষণ জাতীয় অনুপপত্তিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। ১. সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি, ২. নঞর্থক জাতীয় অনুপপত্তি। সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। এটি দুই ধরনের- ১. ব্যক্তিগত, ২. সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কারণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ হলো তাই যা- যখন কোনো বস্তু যেরূপ তাকে সেভাবে না দেখে ভিন্নরূপে দেখা। ইকবাল বাঁশঝাড়কে বাঁশঝাড়রূপে না দেখে ভিন্নরূপ ভূত বলে মনে করে চিৎকার করে। এটি ব্যক্তিগত কারণ নিরীক্ষণে কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় প্রযোজ্য দেখা যাচ্ছে যে দুজন একসঙ্গে যাচ্ছেলো কিন্তু ইকবাল 'ভূত' বলে চিৎকার করলেও তামিম সে ভুল করেনি। অর্থাৎ ইকবালের সে ভ্রান্ত ধারণা।
উদ্দীপকে তামিম এবং ইকবাল দুজনেই ভ্রান্ত ধারণা বা ভ্রান্ত নিরীক্ষণের শিকার। তামিমের ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং ইকবালের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
নিরীক্ষণ হলো- যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি। নিরীক্ষণজনিত ভুল হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কোনো বস্তু বা ঘটনাকে যেভাবে দেখার কথা সেভাবে না দেখে ভিন্নভাবে বা ভুলভাবে দেখা হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবাল অন্ধকারে বাঁশঝাড় দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠে ভূত ভূত বলে। আসলে সেটি ভূত যে নয়, সেটি বাঁশঝাড় ছিল। তামিম, ইকবালকে সেটাই দেখালো এবং তাঁর ভুল ভাঙালো। ইকবালের এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল ব্যক্তিগত। দুজন একসঙ্গে থেকেও ইকবাল বাঁশঝাড়কে ভূত মনে করলেও তামিম তা করেনি। সুতরাং ইকবালের বাঁশঝাড় সম্পর্কে যে ভুল ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। তামিম, ইকবালের ব্যক্তিগত ভুল ভাঙালো কিন্তু সে যে ভুল করলো সেটা হলো সর্বজনীন ভুল। যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় নয় বরং সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটা মূলত সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। উদ্দীপকে তামিমের মতো প্রায় সবাই বলে যে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে যার ফলে সন্ধ্যা হয়। সূর্য কখনো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে না বরং পৃথিবী যেহেতু সূর্যের চারদিকে ঘুরে, সেহেতু একটা সময় আসে যখন পৃথিবীর একটা অংশ সূর্য থেকে আড়াল হয় এবং অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সুতরাং, তামিম ও ইকবালের ধারণা বা নিরীক্ষণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবালের ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং তামিমের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ তা হলো সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
যা কিছুকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা-কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি তাই হলো নিরীক্ষণ।
পরীক্ষণের সকল ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ সম্ভব। নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ সম্ভব নয়। কোনো বিষয় বা ঘটনাকে পরীক্ষণ করতে গেলে নিরীক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ পরীক্ষণ নিরীক্ষণের উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষক পরীক্ষা কার্য চালাতে গেলে আগে নিরীক্ষণ করতে হয়। নিরীক্ষণ সুষ্ঠু ও নিশ্চিত হলেই কেবল পরীক্ষণকার্য সত্য হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!