ব্রেক গাড়ির ওপর ঘর্ষণ বল প্রয়োগ করে, যা এক প্রকার স্পর্শ বল
যখন কোনো দেয়াশলাইয়ের কাঠিকে দেয়াশলাইয়ের বাক্সের পাশে টানা হয়, তখন দেয়াশলাইয়ের কাঠির মাথা এবং অমসৃণ তলের মধ্যকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপের দ্বারা দেয়াশলাইয়ের কাঠির মাথার রাসায়নিক দ্রব্যাদি জ্বলে ওঠে এবং আমরা আগুন পাই।
রাহাত ছেড়ে দেয়ার পর বেলুন হতে সবেগে বাতাস বের হতে থাকবে। এর ফলে বেলনুটি সামনের দিকে তীব্র বেগে এগিয়ে যাবে। নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র ব্যবহার করে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করা যায়।
বেলনুটিকে ফোলানোর সময় এর আকৃতির পরিবর্তন করা হয়েছিল, তাই বেলনুটি সর্বদা সংকুচিত হতে চায় বলে এটি অভ্যন্তরের বাতাসের ওপর বল প্রয়োগ করতে থাকবে। কিন্তু হাত দিয়ে শক্ত করে মুখ বন্ধ করে ধরে রাখার ফলে ভেতরের বাতাস বের হবার সুযোগ পাবে না। এ অবস্থায় বেলুনটি ভেতরের বাতাসের ওপর চতুর্পাশ হতে একই মানের বল প্রয়োগ করায় ভেতরের বাতাসের ওপর সর্বমোট ক্রিয়া বলের মানও শূন্য হবে।
কিন্তু ছেড়ে দেয়ার ফলে বেলুনের মুখ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে এখন বেলুন কর্তৃক বাতাসের ওপর প্রযুক্ত নেট বা সর্বমোট ক্রিয়া বলের মান শূন্য হবে না এবং বাতাস সবেগে বেলুনের মুখ দিয়ে বের হতে থাকবে। বের হয়ে যাবার সময় বাতাসও বেলুনের উপর সমমানের কিন্তু বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করবে যার দরুণ বেলুনটি সামনের দিকে সবেগে এগিয়ে যাবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত পরীক্ষণ হতে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা হলো, 'প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে'। কারণ বেলুনটি অভ্যন্তরস্থ বাতাসের ওপর ক্রিয়াবল প্রয়োগ করায় বাতাস বের হয়ে 'যাবার সময় বেলুনের উপর তথা ভেতরের অবশিষ্ট বাতাসের ওপর প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে।
বাস্তব জীবনে এই অভিজ্ঞতা জেট বিমানে এবং রকেটের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। জেট বিমান এবং রকেটে যখন উচ্চহারে জ্বালানি পোড়ানো হয়, তখন সৃষ্ট গ্যাস বিমান ও রকেটের পেছন দিয়ে সবেগে বের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সদ্য সৃষ্ট গ্যাস পূর্বে সৃষ্ট গ্যাসের উপর ক্রিয়াবল প্রয়োগ করে। কিছুটা পূর্বে সৃষ্ট গ্যাস যখন রকেটের পেছন দিয়ে বের হয় তখন সদ্য সৃষ্ট গ্যাস তথা রকেটের উপর প্রযুক্ত ক্রিয়াবলের বিপরীত দিকে অর্থাৎ গ্যাস নির্গমনের দিকের বিপরীতে সমমানের প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে বলে জেট বিমান এবং রকেট সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সমর্থ হয়। এক্ষেত্রে রকেটটি কত বেগে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তা নির্ভর করে কী হারে জ্বালানি পোড়ানো হচ্ছে তার উপর।
Related Question
View Allযে বল কেবল দুটি বস্তুর ভৌত সংস্পর্শে এসে পরস্পরের উপর ক্রিয়া করে তাকে স্পর্শ বল বলে।
আমরা জানি যে, কোনো বস্তুই নিজে থেকে এর অবস্থান পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তু স্থির থাকলে চিরকাল স্থির থাকতে চায়, গতিশীল থাকলে চিরকাল গতিশীল থাকতে চায়। বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বাইরে থেকে কিছু একটা প্রয়োগ করতে হয়, যা বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করে তাকেই বল বলা হয়।
অর্থাৎ বল হলো সেই ভৌত রাশি যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়।
ধরি, বাসটির উপর ক্রিয়াশীল বলের মান F
এখানে, বাসের ভর, m- ১৪০০ কেজি
ত্বরণ, এ ৪ মি/সে
বল F=?
আমার জানি, F = ma
= ১৪০০ কেজি × ৪ মি/সে' ৫৬০০ নিউটন
সুতরাং বাসটির ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান ৫৬০০ নিউটন।
বস্তু তার গতির যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে জড়তা বলে।
স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
গতিশীল বাস যখন থেমে যায় তখন যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ বাসের সাথে থেমে যায়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকার কারণে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গতি জড়তার কারণে হঠাৎ গাড়িটি থামালে চলন্ত গাড়ির যাত্রীগণ সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পক্ষান্তরে বাসটি পুনরায় চলতে শুরু করলে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ গাড়ির সাথে চলতে শুরু করে, কিন্তু উপরের অংশ বাস সংলগ্ন না হওয়ায় তা পেছনের দিকে হেলে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে স্থিতি।
জড়তার কারণে স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
সুতরাং যাত্রীরা প্রথমে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও পরবর্তীতে পিছনে হেলে পড়ার কারণ হলো- যাত্রীদের উপর প্রথম ক্ষেত্রে গতি জড়তা কাজ করলেও পরের ক্ষেত্রে স্থিতি জড়তা কাজ করে।
নিউটনের গতি বিষয়ক দ্বিতীয় সূত্রটি হলো 'বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই হয়।'
বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা। স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাঁওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!