চাঁদ ডাবের মতো ঠান্ডা ও গোলগাল।
ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিল থরথর।"- এখানে 'থরথর' দ্বারা সৌন্দর্য ও আবেগকে বোঝানো হয়েছে।
শহর সাধারণত কোলাহলপূর্ণ হয়। মানুষের কোলাহল আর চিৎকারে শহরের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় না। কিন্তু রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন শহর স্থির শান্ত হয়ে যায়। আর প্রকাশিত হয় শহরের আসল সৌন্দর্য। ঘুমন্ত শহরের এ প্রবল সৌন্দর্য ও আবেগ বোঝাতেই কবি 'থরথর' শব্দটা ব্যবহার করেছেন।
উদ্দীপকে 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকৃতিই একমাত্র পারে মানুষকে প্রকৃত আনন্দ দিতে। মানুষ আনন্দ পেতে প্রকৃতির দ্বারস্থ হয়। আর প্রকৃতি কখনই মানুষকে হতাশ করে না।
উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক ও নির্ভরতা। দুটি সত্তা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি পারে অপরটিকে পরিপূর্ণতা দান করতে। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ঠিক অনুরূপ সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পেরে নিজেকে আর তার থেকে দূরে রাখতে পারেননি। ছুটে গেছেন প্রকৃতিকে নিজের সঙ্গে এক করে নেওয়ার জন্য। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্কের দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
জীব ও জড় উভয়ই প্রকৃতির একটি গভীর প্রগাঢ় সম্পর্কে আবদ্ধ।- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতি এবং মানুষের মাঝে রয়েছে অজানা ও অলিখিত একটি সম্পর্কের বলয়। যে বলয় থেকে চাইলেও কেউ নিজেকে অনেক দূরে গুটিয়ে নিতে পারে না। বারবার ফিরে আসতে হয় সেই চিরচেনা প্রকৃতির মাঝে।
উদ্দীপকে প্রকৃতির সঙ্গে জীব ও জড়ের অবিচ্ছেদ্য ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। জীব ও জড় উভয়ই প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এদের একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় জীব ও জড় দুই মিলেই প্রকৃতি এবং দুইয়ের মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে। জীব ও জড় দুই-ই প্রকৃতির অংশ এবং প্রকৃতিও তাদের পরম যত্নে আগলে রাখে। যেমন গাছ, জোনাকি ইত্যাদি জীব এবং দিঘি, মিনার, পাহাড় ইত্যাদি জড়। তারপরেও তারা প্রকৃতির অংশ এবং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে জীব ও জড়ের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কের গভীরতার কথা বলা হয়েছে। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায়ও জীব ও জড়ের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক ও একে অপরের প্রতি নির্ভরতার দিকটি ব্যক্ত হয়েছে। তাই বলা যায়, জীব ও জড় উভয়ই প্রকৃতির একটি গভীর প্রগাঢ় সম্পর্কে আবদ্ধ।
Related Question
View Allআমার পঠিত 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় রক্তজবার ঝোপের কাছে আজ কাব্য হবে।
করি আল মাহমুদের দৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে মানুষের পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির নিসর্গপ্রেম গভীর মমত্বের সঙ্গে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। কবির দৃষ্টিতে প্রকৃতি যেন মানুষের পরম আত্মীয়।
কবিতাংশ দুটিতে পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতির বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয় এই পৃথিবীতে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি পরম মমতায় পল্লি-প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে লালদিঘির পাড় ঘেঁষেই পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু সামনে এগুলেই থোকায় থোকায় জোনাক পোকা দেখা যায়। আর দিঘির কালো জল যেন কলকলিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কবিতাংশেও পল্লি-প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায় বাঁশবাগান, তার মাঝখান দিয়ে আধখানা চাঁদ ঝুলে রয়েছে। ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায়।
'কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গ-প্রেম ফুটে উঠেছে'-উক্তিটি যথার্থ।
প্রকৃতির আশ্রয়ে মানুষ বেড়ে ওঠে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষকে সাহায্য করে। কখনো আনন্দের কখনো দুঃখের সাথি হয় প্রকৃতি। আবার নতুন কোনো কাজের উৎসাহও মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে কবি পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সযত্নে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই কবি প্রকৃতির - রূপ উপস্থাপন করেছেন। লালদিঘির পাড়ে পাহাড়, জোনাক পোকার দল, দিঘির কালো জলের শব্দ- সবকিছু প্রকাশেই কবির নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও কবি' নিসর্গের বর্ণনা দিয়েছেন। বাঁশবাগান, চাঁদ, জোনাক পোকার আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ানো এগুলো কবির নিসর্গপ্রেমকেই প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কবি 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় নিসর্গপ্রেম বলতে প্রকৃতির প্রতি তাঁর মমত্ব ও প্রেমের কথা বুঝিয়েছেন।
বাংলাদেশের লোকজ জীবন ও পল্লিপ্রকৃতি আল মাহমুদের কবিতার প্রাণ। পল্লির স্নিগ্ধ-শ্যামল রূপ তাঁর কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির এই নিসর্গপ্রেমের প্রগাঢ় পরিচয় পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!