তাত্ত্বিক মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির এমন এক ধরনের বিশ্বাস যা অভিজ্ঞতামূলক, সমালোচনামূলক বা বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক অথবা দার্শনিক তথ্য, তত্ত্ব বা দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে সমাজ তার লক্ষ্য অর্জন করে থাকে বিধায় মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়।
মূল্যবোধ সামাজিক ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লেখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।
নবীনের মধ্যে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ দেখা যায়।
অর্থনৈতিক মূল্যবোধের ব্যক্তিরা আগাগোড়াই বাস্তববাদী। এ ধরনের মূল্যবোধ ব্যক্তির অর্থনৈতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ধরনের মূল্যবোধে ব্যক্তি তার অর্থ উপার্জন, অর্থ সঞ্চয় ও মিতব্যয়িতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক প্রবণতার মাধ্যমে সঞ্চয় করে। তার আগ্রহ নির্দিষ্ট সম্পদের সঞ্চিতকরণ, সুখ্যাতির সুসজ্জিতকরণ এবং বাস্তব পরিকল্পনার দিকে অগ্রসরমান হওয়া। ব্যক্তির অর্থনৈতিক মূল্যবোধের দ্বারাই তার ব্যবসায়-বাণিজ্য বা পেশা নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা 'অনেকক্ষেত্রেই নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে।
উদ্দীপকের নবীন ব্যবসায় বাণিজ্যে খুবই আগ্রহী। সে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হতে চায়। নবীনের জীবনদর্শন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনৈতিক মূল্যবোধের মূল বিষয়গুলো তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, নবীন অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি।
জুনায়েদের মূল্যবোধ গঠনে প্রভাব বিস্তারকারী মাধ্যমগুলো হলো পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমবয়সী দল।
একটি শিশু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তার মূল্যবোধ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পারিবারিক পরিবেশে ব্যক্তি তার চিন্তা, আবেগ ও কর্মপ্রচেষ্টার রীতিও শেখে। পরিবারের মধ্যেই শিশুর প্রথম মানসিক জগত প্রস্তুত হয়। পিতা-মাতার মধ্যে সম্পর্ক, পরিবারের ধারা, সেখানে কী ধরনের প্রথা ও রীতিনীতি প্রচলিত- এসবের উপর ভিত্তি করে শিশুর জীবনভঙ্গি গড়ে ওঠে। পরিবারের পরই মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলা, স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি শিক্ষা অর্জন করে। শিক্ষকের আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারা শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। এছাড়া শিশুর মূল্যবোধ গঠনে সহপাঠীরা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। এখানেই সে ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বগুণ অর্জন করে। অধিকতর আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। সমবয়সী দলের প্রভাবেই শিশুর পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, সততা, ন্যায়নীতি প্রভৃতির বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের জুনায়েদ একজন আলোকিত মানুষ। সে সৎ, নির্ভীক' এবং দেশপ্রেমিক। তার মা-বাবা, শিক্ষক ও সহপাঠীরা এ ধরনের ব্যক্তিত্ব গঠনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। অর্থাৎ পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমবয়সী দল এই মাধ্যমগুলো জুনায়েদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের ইচ্ছার একটি বিশেষ মানদণ্ড যার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। এই মূল্যবোধ গঠনে পরিবার, বিদ্যালয় ও সহপাঠীরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
Related Question
View Allমূল্যবোধ গঠনের প্রধান মাধ্যম পরিবার।
মূল্যবোধ সমাজের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার মাধ্যমে সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
মূল্যবোধ সামাজিক ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লিখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।
জনাব সালাম তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি।
তাত্ত্বিক মূল্যবোধের ব্যক্তি নিজেকে বাস্তব প্রয়োগ, সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন ও সৃজনশীল বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে। এরা জ্ঞানমূলক মনোভাব গ্রহণ করে, সত্য আবিষ্কারের প্রতি তাত্ত্বিক আগ্রহ রয়েছে এবং আধিপত্য বিস্তারে ব্যাপক আগ্রহ থাকে। ব্যক্তির তাত্ত্বিক মূল্যবোধ তার মনোভাবের সাথে জড়িত। তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সত্যানুসন্ধানী, সত্যকে আবিষ্কার করাই এদের প্রধান লক্ষ্য। এরা সুবিন্যস্ত জ্ঞান ও সুসংহত নিয়মের প্রতি আবদ্ধ থাকতে চায়। তাত্ত্বিক মূল্যবোধের ব্যক্তিরা অনেকটা বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিকের মতো।
উদ্দীপকে জনাব সালাম ব্যতিক্রমধর্মী এবং গবেষণাধর্মী কাজে আগ্রহবোধ করেন। জ্ঞান অন্বেষণে তিনি প্রবল উৎসাহী ও মনোযোগী। সুতরাং বলা যায়, জনাব সালামের মধ্যে তাত্ত্বিক মূল্যবোধের উপস্থিতি রয়েছে।
জনাব রহমানের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ লক্ষণীয়।
সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক আচরণবিধির সাথে সম্পৃক্ত। সমাজের যেসব আচরণের প্রতি অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে সে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সহজেই সকল ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। মানুষের প্রতি এদের প্রবল ভালোবাসা থাকে। এরা দয়ালু, পরোপকারী, সহানুভূতিশীল এবং নিঃস্বার্থ হয়ে থাকে।
এরা কখনো নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেন না। অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং তার সান্নিধ্য অর্জনে নির্ধারিত আচরণ প্রকাশ করা। এ মূল্যবোধ মূলত সৃষ্টিকর্তা ও কিছু ধর্মীয় বিধি-বিধানভিত্তিক বিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব রহমান খুবই মিশুক এবং পরোপকারী। তিনি অত্যন্ত সৎ এবং কর্তব্যপরাযণ। এ ধরনের গুণাবলি জনাব রহমানের সামাজিক মূল্যরোধের পরিচায়ক। আবার তিনি পরকালীন কল্যাণ কামনায় ইহকালীন সুখ বিসর্জন দিতে সদা তৎপর। ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা এ ধরনের বিমূর্ত ধারণার অধিকারী হন। তার এ ধরনের ধারণা ধর্মীয় মূল্যবোধকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব রহমানের মধ্যে একাধিক অর্থাৎ সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিদ্যমান।
Edward Spranger মূল্যবোধকে ছয় ভাগে ভাগ করেছেন।
মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে সমাজ তার লক্ষ্য অর্জন করে থাকে বিধায় মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়।
মূল্যবোধ সামাজিক. ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ওস্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লিখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!