ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গতানুগতিকতা পরিহার করে বিজ্ঞান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার বিশ্লেষণের আলোকে সংঘবদ্ধ জ্ঞানের প্রয়োগকেই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বলে।
আদেশের ঐক্য নীতির মূলকথা হলো একজন অধস্তন কর্মীকে শুধু একজন নির্বাহী কার্যাদেশ দিবে।
আদেশের ঐক্য নীতি অনুযায়ী একজন কর্মী প্রত্যক্ষভাবে শুধু একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে আদেশ গ্রহণ করবে এবং কাজের রিপোর্ট ঐ ঊর্ধ্বতনের কাছেই প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। নির্দেশ সর্বদা উপর স্তর হতে নিম্ন স্তরের দিকে নেমে আসে। এ নীতিকে 'আদেশের ঐক্য' বলা হয়। ফেয়লের এ নীতির ফলে কর্মীদের দ্বৈত - আদেশ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে কর্মীদেরকে একটি কাজের জন্য একাধিক ঊর্ধ্বতন নির্বাহীর আদেশ পালন করতে হয় না। ঊর্ধ্বতন বা আদেশদাতা একাধিক হলে কর্মীর পক্ষে সকলের আদেশ অনুসরণে সমস্যা হয় এবং প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ নীতির বক্তব্য হলো একজন কর্মী একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য মাত্র একজন ঊর্ধ্বতন থেকে আদেশ গ্রহণ করবেন। একজন অধস্তন কর্মীর কাছে একাধিক ঊর্ধ্বতনের কাছ থেকে আদেশ এলে কর্মী কোন আদেশ পালন করবে তা স্থির করতে পারে না।
উদ্দীপকে জুবলী নিটওয়ারের ব্যবস্থাপনার পারিশ্রমিকের নীতিটির ব্যত্যয় ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা কর্মীর কাজের প্রকৃতি, মেধা, যোগ্যতা ইত্যাদি বিবেচনায় উপযুক্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নীতিকে ব্যবস্থাপনায় পারিশ্রমিকের নীতি বলে।
উদ্দীপকে জুবলী নিটওয়ারের লক্ষ্য ও নীতি প্রণয়নের সাথে জড়িত। তার কাজে জুবলী নিটওয়ারের মালিকপক্ষও অত্যন্ত খুশি। কারণ তিনি অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কর্মীদের কার্যঘণ্টা পূর্বের চেয়ে ২ ঘণ্টা বৃদ্ধি করলেন। এক্ষেত্রে ২ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় কাজ করায় কর্মীরা কোনো সুবিধা পাবে না যা পারিশ্রমিকের নীতির পরিপন্থি। পারিশ্রমিকের নীতি অনুযায়ী কর্মীদের কার্যের প্রকৃতি ও ধরন, সংখ্যা ও পরিমাণ, কর্মীদের যোগ্যতা ইত্যাদি বিবেচনায় এনে ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করতে হয়। পারিশ্রমিক প্রদান পদ্ধতি ও পরিমাণ সন্তোষজনক ও স্বচ্ছ হলে কর্মীরা কাজে উৎসাহ বোধ করে। তাই বলা যায়, জুবলী নিটওয়ারের ব্যবস্থাপনার পারিশ্রমিকের নীতিটির ব্যত্যয় ঘটেছে।
উদ্দীপকে সাজিদ একজন প্রশাসক। তাঁর সাথে আমি একমত। ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে প্রশাসক বলে। আর তাদের কর্মপ্রয়াস বা প্রচেষ্টাকে প্রশাসন বলে।
উদ্দীপকে সাজিদ জুবলী নিটওয়ারের একজন কর্মকর্তা। তিনি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও নীতি প্রণয়নের সাথে জড়িত এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের নিকট জবাবদিহি করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের অধিক মুনাফার লক্ষ্যে কর্মীদের কার্যঘণ্টা পূর্বের চেয়ে ২ ঘণ্টা বৃদ্ধি করেছেন। তার কাজে জুবলী নিটওয়ারের মালিকপক্ষও অত্যন্ত খুশি। অর্থাৎ তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে শুধু মানসিক শ্রম ব্যয় করে যা প্রশাসকের কাজের সাথে সংগতিপূর্ণ। এরা শুধু মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের নিকট জবাবদিহি করেন এবং অধিক চিন্তাশীল হন। এরা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশাসন প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তরে অবস্থান করে। প্রশাসনে যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের প্রশাসক বলা হয়। প্রশাসনে নিয়োজিত থেকে প্রশাসক সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করেন। সুতরাং উদ্দীপকের সাজিদ একজন প্রশাসক।
Related Question
View Allফ্রেডরিক উইনসলো টেলর (Frederick Winslow Taylor)
ফ্রেডরিক উইনসলো টেলর (Frederick Winslow Taylor)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!