BADC-এর পূর্ণরূপ হলো- Bangladesh Agricultural Development Corporation.
এআইসিসি (AICC) হলো Agricultural Information and Communication Centre.
এটি ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হওয়া কৃষি তথ্য ও সেবাকেন্দ্র। এখান থেকে কৃষকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য পেয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে কৃষককে প্রশিক্ষণ তথ্য, দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ব-প্রস্তুতি, বাজার পরিস্থিতি, কৃষি আমদানি ও রপ্তানি তথ্য, ই- মেইলের মাধ্যমে কৃষি তথ্য বিনিময় ইত্যাদি কার্যাবলি সম্পাদন করা হয়।
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ক্ষুদ্র সেচ উইং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফসলে সেচ প্রদানের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিএডিসি বেশ কিছু কৌশল গ্রহণ করেছে, যা নিম্নরূপ-
i. বর্তমানে সেচের আওতাধীন ৫৫.৫৮ লাখ হেক্টর এলাকা টেকসই করা এবং আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আরো ১০ লাখ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা।
ii. সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানি সম্পদের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যে লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ ও সুসংহত করার উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ।
iii. ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস এবং এর মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানির নিম্নগামিতা রোধকরণ।
iv. সেচ দক্ষতা ৩৫% থেকে ৫০% এ উন্নীতকরণ।
v. কৃষির উন্নয়ন ও পরিবেশের বিরূপ প্রভাব থেকে কীভাবে কৃষিকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করা।
vi. ধানের ফলন পার্থক্য (Yield gap) ২০২১ সালের মধ্যে ৩ টন/হেক্টর থেকে কমিয়ে ১ টন/হেক্টর এ নিয়ে আসা।
উল্লিখিত আলোচনার আলোকে বলা যায়, বিএডিসির গৃহীত কৌশলগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে বোরো মৌসুমে সেচ প্রদানের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন আশানুরূপ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
জুবায়ের সাহেবের আশানুরূপ ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ উইং বিভাগের কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বোরো ধান একটি সেচ নির্ভর ফসল। কিন্তু কৃষকের অদক্ষ সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে পানির অধিক অপচয় হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব।
বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ উইং বিভাগের কর্মকর্তা জুবায়ের সাহেবকে পানি সাশ্রয়ের আধুনিক প্রযুক্তি এডব্লিওডি (AWD) বা পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো (Alternate wetting and Drying) পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে একবার সেচ দিলে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত আর সেচের প্রয়োজন হয় না। সেচের পানি অপচয়ের আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে সেচ নালা। আমাদের দেশের কৃষকগণ যে সেচ নালা ব্যবহার করেন তাতে সেচের পানির ৩০ ভাগ নষ্ট হয়। সেচের পানি এমন স্থানে জমা হয় যা কোনো কাজে আসে না। বিএডিসির কর্মকর্তা জুবায়ের সাহেবকে সেচের পানির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পাকা সেচ নালা, ভূ-নিম্নস্থ সেচ নালা এবং কাদার প্রলেপযুক্ত সেচ নালা ব্যবহার করতে বলেন। তাছাড়া ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টি ও বন্যার পানি সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে খাল- নালা পুনঃখননের পরামর্শ দেন।
জুবায়ের সাহেব বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ উইং বিভাগে, যোগাযোগ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার পরামর্শ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেন। ফলে সেচের পানির অপচয় রোধ হয় ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। তাই বলা যায়, জুবায়ের সাহেবের আশানুরূপ ফলন প্রাপ্তিতে বিএডিসির কর্মকর্তার ভূমিকা যথার্থ।
Related Question
View Allবঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় অর্থাৎ লোনা পানিতে যেসব মাছ বাস করে সেগুলোকে লোনা পানির মাছ বলে।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের জন্য গাছে ফুল আসার পূর্বে লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
ধৈঞ্চা ও শনপাট জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যোগ করে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি হয় যা মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ফসলের গ্রহণোপযোগী করে তোলে। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা ও শনপাটকে জমিতে সবুজ সার হিসেবে উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত ফসল হলো মাঠ ফসল। যে সকল ফসল সাধারণত উন্মুক্ত মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য হলো-
i. সাধারণত বড় জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠের সমস্ত ফসলকে একত্রে বা সমষ্টিগতভাবে যত্ন নেওয়া হয়।
iii. তুলনামূলকভাবে কম যত্নের প্রয়োজন হয়।
iv. মাঠের সমস্ত ফসল একত্রে পরিপক্ক হয় বলে একত্রে সংগ্রহ করতে হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)।
v. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না (ব্যতিক্রম- রাস্তার পাশের জমি)।
vi. মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকে।
vii. সেচ না দিয়েও অনেক ফসল চাষ করা যায়।
viii. একবর্ষজীবী ফসল (ব্যতিক্রম- চা)।
ix. নিচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
Χ. ফসলের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেশি।
xi. ফসল শুকিয়ে মাড়াই করে ব্যবহার করা হয় (ব্যতিক্রম- পাট, আখ ইত্যাদি)।
xii. আকারে খাটো ও ছোট হয় (ব্যতিক্রম- আখ, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি)।
অর্থাৎ মাঠ ফসলের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কৃষি শিক্ষকের বর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, গবাদিপশু, পোল্ট্রি, সামাজিক বনায়ন ও মৎস্য।
বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত। কৃষি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। নিচে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় উপরে বর্ণিত উপাদানসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
i. খাদ্যের সিংহভাগ আসে কৃষি হতে। যেমন- চাল, ডাল, গম, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি।
ii. কৃষি হলো বস্ত্র তৈরির প্রধান কাঁচামালের উপাদান যেমন- পাট, তুলা, রেশম ইত্যাদির উৎস।
iii. গৃহ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন- কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপাতা প্রভৃতির উৎস হলো কৃষি। আসবাব তৈরির মূল উপকরণ আসে বন হতে।
iv. বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কোকেন এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ভিদ হতে প্রস্তুত করা হয়।
V. শিক্ষার উপকরণ যেমন- কাগজ, পেন্সিল ইত্যাদি আসে কৃষির উপাদান হতে।
vi. জ্বালানি হিসেবে বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজে ও ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি হতে আসে।
vii. এ দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪০.৬ ভাগ কৃষি হতে আসে।
viii. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ১১% কৃষিজ পণ্য রপ্তানির ফলে আসে।
ix. মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবৃহত হয়।
x. মাছের কাঁটা, আঁইশ, বিষাক্ত মাছ ইত্যাদি শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করলে ফসফরাসের অভাব দূর করা যায়।
অতএব, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় উদ্দীপকের উপাদানসমূহের গুরুত্ব অনেক।
ই-বুক হলো এক ধরনের ইন্টারএকটিভ ডিজিটাল বই যাতে কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সমন্বিত আকারে থাকে।
স্বল্প পরিসরে প্রতিটি উদ্ভিদের আলাদা যত্ন করার মাধ্যমে বাগানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে। ফুল, ফল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভূক্ত। সাধারণত বসতবাড়ি সংলগ্ন উঁচু জমিতে উদ্যান ফসলের আবাদ করা হয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উদ্যান ফসল থেকে। উদ্যান ফসল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!