পাকিস্তানে মাত্র একবার জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্ট্রোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
উদ্দীপক অনুযায়ী আমি মনে করি, মি. জেমস স্টিফেন-এর রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত আছে।
কারণ গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থাতেই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছেই দায়িত্বশীল থাকে। রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সরকারব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। বিশ্বের প্রায়। প্রত্যেকটি দেশেই গণতন্ত্র ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। সাধারণভাবে গণতন্ত্র বলতে বোঝায়, যে শাসনব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা মুষ্টিমেয় লোকের হাতে না থেকে রাষ্ট্রের সব জনসাধারণের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং জনগণই সরকার গঠন করে। গণতন্ত্র হলো এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে মেয়াদ শেষে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকার, একাধিক রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ, জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও কল্যাণ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্দীপকের জেমস স্টিফেনের দেশে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত রয়েছে। তার দেশের সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকেই ইঙ্গিত করছে।
অতএব পরিশেষে আমি বুঝে নিতেই পারি যে, মি. স্টিফেনের দেশে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সরকারব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দ্বারা গঠিত বলে সংখ্যালঘুদের মতামত ও স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। এখানে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার দোষের কথা বলা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশকিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিও আছে। প্লেটো ও এরিস্টটল গণতন্ত্রকে মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিও শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে উপযুক্ত লোকের অভাবে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না এবং শাসনকার্য পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাস্তবে গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে পরিণত হয়। সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকে। গণতন্ত্রে বহু পরস্পরবিরোধী মত ও ধারণা দেখা যায়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ হলে জাতি দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র অকার্যকর রূপ নেয়। অনুন্নত দেশগুলোতে সরকারি দল নিজ দলের স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে। ফলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়।
পরিশেষে বলা যায় গণতন্ত্রে যেমন গুণ রয়েছে তেমনি দোষও রয়েছে। এ দোষগুলো যদি সংশোধন করা যায় তবে আমি মনে করি, গণতন্ত্র হবে একটি উৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা।
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!