"জৈতুন বিবির মতো অসংখ্য নারীর আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ফলক উন্মোচিত করেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পাকিস্তানিদের অকথ্য ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার বাঙালিরা ১৯৭১ সালে মুক্তির প্রেরণায় গর্জে ওঠে। আর এই গর্জে ওঠার ফলেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। যাঁরা এই মুক্তিযুদ্ধে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন তাঁদের নাম ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।
উদ্দীপকে কাকন বিবির সাহসী পদচারণা দেখা যায়। তিনি নারী হয়েও মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর সামনে হাজারো বিপদ এলেও তিনি পিছপা হননি। মুক্তিযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বাংলাদেশের হাজারো সাহসী নারীর অবদানের প্রতীক। 'তোলপাড়' গল্পে জৈতুন বিবি ১৯৭১ সালে শহর থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের সেবা করতে তৎপর হয়েছে। নিজের ছেলেকেও আদেশ দিয়েছে সেবা করতে। গল্পে আরও দেখা যায়, স্বামীহারা তিনজন বিধবা নারী, যাদের স্বামীকে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করেছে।
উদ্দীপকের কাকন বিবি যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হাজারো নারীর আত্মত্যাগের বিষয়কে নির্দেশ করেছেন তেমনি 'তোলপাড়' গল্পের জৈতুন বিবির ত্যাগ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নারীর ত্যাগ ও বীরত্বের স্মৃতি বহন করে। তাই বলা যায়, জৈতুন বিবির মতো অসংখ্য নারীর আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ফলক উন্মোচিত করেছে।
Related Question
View Allসাবুর মায়ের নাম জৈতুন বিবি।
মুক্তিযুদ্ধে বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছু করতে না পারলে দেশপ্রেমিক সাবুর অস্বস্তি বোধ হয়।
পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারের মাত্রা অনুধাবন করে সাবুর মধ্যে দেশের প্রতি মমতা জেগে ওঠে। আগে ফাই-ফরমাশ খাটতে সে বিরক্তি বোধ করত। আর এখন মানুষের দুর্দিনে তাদের জন্য কিছু করতে না পারলে সে অস্বস্তি বোধ করে।
উদ্দীপকে 'তোলপাড়' গল্পের মিসেস রহমানের নিঃস্বার্থ সেবা পাওয়ার ঘটনার মিল রয়েছে।
মানুষ একে অন্যের বিপদে সাহায্য করে। বিপদ থেকে মুক্ত হওয়ার পর কেউ তা ভুলে যায়, অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ করে। আবার অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের আমিন সাহেব রিকশার ধাক্কায় ভীষণ ব্যথা পেলে ফারুক তাকে মুক্তিযোদ্ধা জেনে শ্রদ্ধাভরে বন্ধুদের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আমিন সাহেব সুস্থ হয়ে ফারুককে কৃতজ্ঞতা জানান। আমিন সাহেব তাকে বকশিশ দিতে চাইলে সে জানায় মুক্তিযোদ্ধার সেবা করতে পারাই তার কাছে বড় বকশিশ। অন্যদিকে 'তোলপাড়' গল্পের মিসেস রহমান ঢাকায় ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনারা আক্রমণ চালালে সেখান থেকে গ্রামের দিকে যান। পথে পিপাসার্ত হয়ে পানি চাইলে সাবু তাকে পানি পান করায়। মিসেস রহমান তাকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পাঁচ টাকার নোট দিতে চান। সাবু তাকে জানায় এই টাকা সে নিতে পারবে না। কারণ সে মনে করে মানুষ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করার বিনিময়ে কিছু নেওয়া অন্যায়। মূলত উভয় জায়গায় নিঃস্বার্থভাবে সেবা লাভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচ্য গল্পের মিসেস রহমানের নিঃস্বার্থ সেবা পাওয়ার ঘটনার মিল রয়েছে।
"উদ্দীপকের ফারুকের ভূমিকা 'তোলপাড়' গল্পের সাবুর ভূমিকারই প্রতিচ্ছবি"- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত।
দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা শুধু বড়দেরই থাকে না, ছোটদের মধ্যেও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিলক্ষিত হয়। তারা বিভিন্নভাবে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
'তোলপাড়' গল্পের সাবু সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে বিপদগ্রস্ত মানুষকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার দেখে তাদের প্রতি ঘৃণা জন্মেছে। দেশের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বিপদ মোকাবিলা করতে চেয়েছে। এই সাবুর ভূমিকার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় উদ্দীপকের ফারুকের ভূমিকার মাঝে। ফারুকও এদেশকে যাঁরা স্বাধীন করেছেন সেসব মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধায় আমিন সাহেবকে সাহায্য করেছে এবং বিনিময়ে কিছুই নেয়নি, মুক্তিযোদ্ধার সেবা করাকেই বড় বলে মনে করেছে।
'তোলপাড়' গল্পের সাবু বিপদগ্রস্ত মানুষকে সেবা করাটাই বড় মনে করেছে, বিনিময়ে প্রতিদান আশা করেনি। আর সাবুর এই ভূমিকা উদ্দীপকের ফারুকের মধ্যে প্রতিফলিত। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করেছে, বিনিময়ে সেবা করাটাই বড় বখশিশ বলে মনে করেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সাথে আমি একমত।
সাবু চিৎকার করে তার মাকে ডাকছিল।
নিজের মায়ের আত্মসম্মানবোধ সম্পর্কে সাবু আলোচ্য কথাটি বলেছে।
পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে পলায়নরত মিসেস রহমানকে সাবু পানি পান করায়। এর জন্য তিনি সাবুকে কিছু কিনে খাওয়ার জন্য পাঁচ টাকা দিতে চান। কিন্তু সাবু তা নিতে অসম্মতি জানায় এবং বলে যে সে যদি টাকা নেয় তবে তার মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে। তখন তিনি সাবুকে বলেন যে তার মা কিছু বলবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাবু আলোচ্য কথাটি বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
