জোহান বাংলার ইতিহাস পাঠ করতে গিয়ে দেখল, একজন শাসকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজ করেছে। এই অরাজকতা প্রায় শতবর্ষব্যাপী চলছিল। এসময় হঠাৎ 'ক' নামক একজন শাসক এসে এই অরাজকতা দূর করেন

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

খড়গ বংশের রাজাদের রাজধানী ছিল কর্মান্ত-বাসক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

স্বীয় রাজ্য গৌড়ের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য গৌড়রাজ শশাংক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।

রাজা শশাংক গৌড় অধিকার করে প্রতিবেশী অঞ্চলে (দণ্ডভুক্তি, উৎকল, কঙ্গোদ ইত্যাদি) রাজ্য বিস্তারের মাধ্যমে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। উত্তর ভারতে এ সময় দুজন শক্তিশালী রাজা ছিল। একটি পুষ্যভূতি রাজবংশের অধীনে থানেশ্বর এবং অন্যটি মৌখরী রাজবংশের অধীনে কান্যকুব্জ। থানেশ্বরের রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা রাজশ্রীর সাথে কনৌজের মৌখরী রাজা গ্রহবর্মণের বিয়ে হলে কনৌজ-থানেশ্বর জোট গড়ে ওঠে। এ জোটের ফলে বাংলার নিরাপত্তা বিপন্ন হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে স্বীয় শক্তি বৃদ্ধির জন্য শশাংক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায় সময়কালের কথা বলা হয়েছে।

শশাংকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। উত্তর ভারতের সম্রাট হর্ষবর্ধন ও কামরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের হাতে গৌড় রাজ্য ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে উঠেছিল। এসময় বাংলার সবল অধিপতিরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করছিল। কারণ শক্ত হাতে কেন্দ্রীয় শাসন পরিচালনার মতো কেউ ছিল না। অরাজকতার এ সময়কালকেই পাল তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 'মাৎস্যন্যায়' হলো পুকুরের বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো পরিস্থিতি। অর্থাৎ জোর যার মুলুক তার এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা। দীর্ঘ একশ বছরব্যাপী বাংলায় এ অবস্থা চলতে থাকে।

উদ্দীপকের জোহান বাংলার ইতিহাস থেকে জানতে পারে, একজন শাসকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজ করছিল এবং তা শতবর্ষব্যাপী চলছিল। উদ্দীপকের জোহানের জানা এ অবস্থার সাথে প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায় অবস্থার মিল রয়েছে। যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মাৎস্যন্যায় সময়কালের কথা বলা হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

শাসক 'ক' দ্বারা রাজা গোপালকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি মাৎস্যন্যায় অবস্থা দূর করার পাশাপাশি পাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।

রাজা গোপালের পূর্ব জীবন সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তার পিতার নাম বপ্যট এবং পিতামহ ছিলেন দয়িতবিষ্ণু। তাদের নামের আগে কোনো রাজকীয় উপাধিও দেখা যায় না। এতে ধারণা করা হয়, তারা সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। গোপালের সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে বাংলায় পাল বংশের রাজত্ব শুরু হয়।

রাজা গোপাল সিংহাসনে আরোহণ করেন ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন তখন বাংলায় এক অরাজক অবস্থা বিরাজ করছিল। কেননা দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। পুকুরের বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে ফেলে এ সময়ে বাংলার অবস্থা ছিল ঠিক তেমন। এ কারণে এ সময়কালকে পাল তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ সময় বাংলার সবল অধিপতিরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করছিলেন। এ অবস্থা চলে প্রায় একশ বছর ব্যাপী। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে গোপাল সিংহাসনে আরোহণ করে এ অবস্থার অবসান ঘটান। পরবর্তীতে গোপাল রাজ্য বিস্তারে মনোযোগ দেন। তিনি বাংলার উত্তর এবং পূর্ব অংশের প্রায় সব অঞ্চলই রাজ্যভুক্ত করেন। কার্যত রাজা গোপাল অরাজকতা সৃষ্টিকারী শক্তিসমূহকে সমূলে উৎপাটিত করে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনে সক্ষম হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক সাফল্যের কারণে তিনি জনসমর্থনও লাভ করেছিলেন।

উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে শান্তি স্থাপন রাজা গোপালের এক অনন্য কীর্তি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
152

মৌর্য শাসনের অবসান ও গুপ্ত শাসনের শেষের দিকে গুপ্ত রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে বাংলায় অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উত্থান ঘটে। এরমধ্যে গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী। রাজা শশাঙ্কের কোনো স্থায়ী শক্তিশালী উত্তরাধিকার ছিল না। ফলে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশো বছর বাংলায় অরাজকতা বিরাজমান ছিল। এরপর পাল রাজবংশ ক্ষমতায় এসে প্রায় চারশো বছর রাজ্য শাসন করে। পালদের পতনের পর ভারতের কর্ণাটক থেকে আগত সেন বংশ পূর্ব-বাংলায় রাজ্য স্থাপন করে। তেরো শতকের প্রথম দশকে ১২০৪ সালে মুসলিম শক্তির কাছে সেন শাসনের অবসান ঘটে। শুরু হয় বাংলার ইতিহাসের নতুন অধ্যায়- মধ্যযুগ ।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
♦ প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশ ও তাঁদের শাসনকাল সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;

♦ প্রাক-পাল যুগের বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারব;

♦ প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক চর্চায় তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশসমূহের অবদান সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতে সক্ষম হব;

♦ গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করে প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে জানতে সমর্থ হব;

♦ দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার রাজ্যসমূহ সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;

♦ প্রাচীন বাংলার শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
262
উত্তরঃ

উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।

বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।

উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
894
উত্তরঃ

বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।

বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।

তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
642
উত্তরঃ

শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
336
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews