জ্বালানি নিরাপত্তা বলতে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে ন্যায্য মূল্যে, নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানির (যেমন: গ্যাস, তেল, কয়লা ও বিদ্যুৎ) সহজলভ্যতা ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। বাংলাদেশের জন্য এই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রধান দুটি কার্যকর উপায় হলো:
প্রথমত, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বিকল্প শক্তির উৎসগুলোর সমন্বয়ে একটি 'এনার্জি মিক্স' বা জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ নীতি বাস্তবায়ন করা যা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে।
এবং দ্বিতীয়ত, আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ও খনিজ তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রের বিশাল ব্লু-ইকোনমি জোনে আধুনিক ত্রিমাত্রিক ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম জোরদার করা।
Related Question
View Allবাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ মার্চ ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ঐ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ সালে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। বর্তমানে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৫০টি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় বীরত্বসূচক খেতাব ছিল মোট ৪টি। সেগুলো হলো:
বীরশ্রেষ্ঠ: সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব (৭ জন)।
বীর উত্তম: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব (৬৮ জন)।
বীর বিক্রম: তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব (১৭৫ জন)।
বীর প্রতীক: চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব (৪২৬ জন)।
ম্যানগ্রোভ বন বা লোনা পানির বন বলতে সমুদ্র উপকূলীয় এমন এক বিশেষ ধরনের বনভূমিকে বোঝায় যা নিয়মিত জোয়ার-ভাটার লোনা পানিতে প্লাবিত হয় এবং যেখানে বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ভিদ (যেমন: শ্বাসমূল ও ঠেসমূলযুক্ত গাছ) জন্মে থাকে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এই শ্রেণির অন্তর্গত, যা মূলত খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা জুড়ে প্রায় ৬,০১৭বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। যেখানে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া ও গরানের মতো মূল্যবান বৃক্ষের এক বিশাল সমারোহ রয়েছে। এই বন কেবল বিলুপ্তপ্রায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলই নয়, বরং এটি বঙ্গোপসাগর থেকে আসা সিডর বা আইলার মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের গতিবেগ কমিয়ে দেশের উপকূলীয় জনপদকে রক্ষায় এক শক্তিশালী প্রাকৃতিক দেয়াল বা 'বায়ো-শিল্ড' হিসেবে কাজ করে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে প্রচুর পরিমাণে কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষের প্রথম সোপান, যা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ছাড়িয়ে একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া 'সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ'- এর বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সফল গণবিস্ফোরণ, যা আমাদের জাতীয় জীবনে এক সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি প্রথম অনুধাবন করে যে, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত নয়। ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট এই রাজনৈতিক সচেতনতাই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয় নিশ্চিত করে এবং পরবর্তীকালে ১৯৬৬ সালের 'বাঙালির বাঁচার দাবি' ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রকৃতপক্ষে, একুশের রাজপথে ঝরা রক্তই বাঙালির মনে যে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বীজ বপন করেছিল, তার চূড়ান্ত ফসল ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন। সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ত্যাগের বিনিময়ে নিজস্ব ঐতিহ্য রক্ষা করা যায় এবং এরই বিশ্বজনীন স্বীকৃতিরূপে আজ একুশে ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে, যা বিশ্বের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীকে তাদের আপন ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এক অপরাজেয় ও চিরন্তন প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!