ইসলামের বিধি-বিধান, রীতি নীতি, নিয়ম-কানুন, হালাল-হারাম যে শিক্ষা ব্যবস্থায় আলোচনা করা হয় তাই ইসলামি শিক্ষা।
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ইসলামকে বোঝা সম্ভব। তাই ইসলামের জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অনেক। স্বয়ং আল্লাহই নির্দেশ দিয়ে বলেছেন 'পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।' নবি (স) জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ বলেছেন। এ শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে। ইসলামি শিক্ষা অর্জনের প্রচেষ্টা যেকোনো নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। হাদিসে আছে, 'রাতে এক ঘণ্টা জ্ঞানচর্চা করা সারা রাত নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।'
জয়নাল আবেদীন সাহেব কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাথে ইসলাম শিক্ষার বুনিয়াদি ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মক্তব এর মিল রয়েছে। মক্তবে নিরক্ষর শিক্ষার্থী অক্ষরজ্ঞান লাভ করে তার শিক্ষাজীবন শুরু করে। এ জ্ঞান তার সকল জ্ঞানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে। অক্ষর চেনা, ইমানের ধারণা ও ইসলামের মৌলিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখানেই দেওয়া হয়।
ছোট ছেলে মেয়েদের মানসিক বিকাশে মক্তব ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। এটি ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়াবলি শিক্ষা দেওয়ার এক আদর্শ স্থান। এখানে শিশুদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এটি শিশুর প্রথম পাঠশালা। এখান থেকেই ভবিষ্যতের জন্য ভালো কিছু করার এবং বড় হবার প্রেরণা পায়। তার মধ্যে পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। সে নিজেকে যোগ্য ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে। এখানে শিক্ষার্থীকে ইমান শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি ইমানের দাবি অনুযায়ী ইবাদতে অভ্যস্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষা এখানেই দেওয়া হয়, এখান থেকেই সে চিনতে শিখে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভালোমন্দ এবং ইসলামি সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। এ মক্তবের শিক্ষা শিশুকে শৈশবেই নীতিবান করে তোলে। ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক অজু, গোসল, নামাজ, রোজা প্রভৃতির শিক্ষা যেমন এখানে দেওয়া হয় তেমনি সামাজিক আচরণের বিষয়েও এখানেই সে জানতে পারে। মূলত পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশে মক্তব শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে মক্তবের ভূমিকা অপরিসীম। মক্তবে ইসলামের প্রাথমিক মৌলিক ও অতীব প্রয়োজনীয় জ্ঞান, আদব, আখলাক, শিষ্টাচার, সভ্যতা, নম্রতা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ, হালাল-হারাম, পাক-পবিত্রতা ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হয়। শিশুরা পিতা-মাতার কাছ থেকে শিক্ষা লাভের পর মক্তবে গমন করে। সেখান থেকেই আদর্শ শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। ইসলামি শিক্ষায় মক্তবের গুরুত্ব অত্যধিক। জীবনের প্রারম্ভিক সময় থেকে মানুষের মনে নৈতিকতা, শালীনতা, ভদ্রতা ইসলামি আদর্শ গ্রহণের মানসিকতা সৃষ্টি এবং অন্যায় ও অসত্যের প্রতি ঘৃণা তৈরিতে এটি এক অসামান্য ভূমিকা পালন করে।
ইসলাম শিক্ষার প্রাথমিক ও মৌলিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'মক্তব' অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। কেননা এখানে ইমান- আকিদা শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, কুরআন-হাদিস শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, আদব-কায়দা, নিয়ম-শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধ শিক্ষা দেওয়া হয়।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!