জয়পতাকা মহাপ্রভু এক ধর্মসভায় বলেছিলেন, সব ধর্মেরই কিছু কিছু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থে মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের কথা লেখা থাকে। আর এসব গ্রন্থকেই বলা হয় ধর্মগ্রন্থ। হিন্দুধর্মেও বেশকিছু ধর্মগ্রন্থ আছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বেদ। যা অপৌরুষেয় নামে পরিচিত।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

বেদ হচ্ছে প্রাচীনকালের ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান।

উত্তরঃ

ঋষিদের গভীর ধ্যানের বাণী বা কবিতাগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঋষিরা বলেছেন তাঁরা বেদ দর্শন করেছেন কোনো পুরুষ তা সৃষ্টি করে নি। সেজন্য বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়।

উত্তরঃ

বেদ হচ্ছে ঈশ্বরের বাণী। এ বাণী প্রাচীনকালের মুনিঋষিগণের নিকট প্রতিভাত হয়েছিল। বেদ অপৌরুষেয়। কোনো পুরুষ তা রচনা করেন নি। সত্য ও পবিত্র জ্ঞানের লিপিবদ্ধ সংস্করণ হচ্ছে বেদ। বেদ হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। বেদ চার ভাগে বিভক্ত; যথা- ঋক্, সাম, যজু ও অথর্ব। বেদের এ শাখাগুলোতে একেক রকমের জ্ঞান পাওয়া যায়। ঋগ্বেদের মাধ্যমে আমি আমার সাধনায় স্তব-স্তুতির মাধ্যমে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারব। সামবেদের মন্ত্রগুলোকে সুর করে গাওয়ার মাধ্যমে আমি আমার সুরকে আয়ত্ত করতে পারব। যজুর্বেদের মাধ্যমে আমি যজ্ঞ সম্পর্কিত পুরোপুরি ধারণা আর অথর্ববেদের মাধ্যমে আমি সকল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা আয়ত্ত করতে পেরে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলব।

উত্তরঃ

ঋক্' শব্দের অর্থ হচ্ছে স্তুতিগান। তাই ঋগবেদ হচ্ছে স্তুতিগানের। জ্ঞান। আর তার সংকলন হলো ঋগবেদ সংহিতা। ঋষি গৃৎসমদ্ বিশ্বামিত্র, বামদেব, অত্রি ভরদ্বাজ, বশিষ্ঠ, কম্ব ঋগ্বেদ দর্শন করেছিলেন। অগ্নি, ইন্দ্র, বিষ্ণু, বরুণ, পুরুষ, ঊষা ইত্যাদি দেবতার প্রসঙ্গে ঋক্ রচনা করা হয়েছে। ঋগ্বেদ দুটি পদ্ধতিতে বিভক্ত; যথা- ১. মণ্ডল পদ্ধতি ও ২. অষ্টক পদ্ধতি। নিচে এ দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

১. মন্ডল পদ্ধতি: ঋগ্বেদে ১০,৪৭২টি ঋগ্‌ বা মন্ত্র সংকলিত আছে। কয়েকটি মন্ত্রের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে সূক্ত বা পর্যায়। ঋগ্বেদে মোট সূক্ত রয়েছে ১,০২৮টি। কয়েকটি বুক্ত এর এক-একটি ভাগের নাম। তৈরি হয়েছে একটি অনুবাক্ এবং কয়েকটি অনুবাক্ নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি মন্ডল। ঋগবেদ ১০টি মন্ডলে বিভক্ত।

২. অষ্টক পদ্ধতি ঋগ্বেদ ৮টি সমান ভাগে বিভক্ত। এর এক একটি ভাগের নাম অষ্টক। প্রতি অষ্টক ৮টি অধ্যায়ে এবং
২০০০ বর্গে বিভক্ত।
সুতরাং বৈদিক জ্ঞান হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান। এ জ্ঞান আহরণ করা প্রত্যেকের কর্তব্য। কারণ এ জ্ঞানের মাধ্যমেই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ সম্ভব।

131

যে গ্রন্থে অতি প্রাকৃতিক সত্তা (ভগবান, ঈশ্বর ইত্যাদি) ও কল্যাণকর জীবন যাপন সম্পর্কে আলোচনা, উপদেশ ও উপাখ্যান লেখা থাকে, তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীচন্ডী, প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ। আমরা জানি, বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। এ অধ্যায়ে সংক্ষেপে বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • ধর্মগ্রন্থের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সাধারণ পরিচয় ব্যাখ্যা করতে পারব
  • জীবনাচরণে বেদের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত শ্রীকৃষ্ণের কয়েকটি বাণী ব্যাখ্যা করতে পারব
  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

গভীর চিন্তায় ডুবে যাওয়া বা নিমগ্ন হওয়াকে ধ্যান বলে। ধ্যানে সত্যকে উপলব্ধি করা যায়।

182
উত্তরঃ

প্রাচীনকালে যারা সত্য বা জ্ঞান এবং স্রষ্টার মাহাত্ম্য দর্শন বা উপলব্ধি করতে পারতেন, তাঁদের বলা হতো ঋষি। বেদ হচ্ছে এ ঋষিদের ধ্যানলব্ধ পবিত্র জ্ঞান। ধ্যানের মাধ্যমে ঋষিগণ সেই সত্য দর্শন করে তাকে ভাবের আবেগে প্রকাশ করেছেন। এজন্যই বলা হয়, বেদ সৃষ্ট, নয়, দৃষ্ট। অর্থাৎ বেদ কেউ সৃষ্টি করেন নি, উপলব্ধি করেছেন মাত্র।

215
উত্তরঃ

উদ্দীপকের রমেশ বাবু বেদ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সে বেদের যে অংশ থেকে জ্ঞান নিয়ে এ কাজটি করেন সেই অংশটি হচ্ছে অথর্ববেদ। এ অথর্ববেদে প্রাচীনকালের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে। এ আলোচনা অধ্যয়ন করলে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে জনসাধারণের সেবা প্রদান করা যায়।

270
উত্তরঃ

রমেশ বাবু যে গ্রন্থ অধ্যয়ন করে সে গ্রন্থখানা হচ্ছে বেদ। বেদ পাঠ করলে স্রষ্টা, বিশ্ব প্রকৃতি ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ হয়।

প্রত্যেকটি বেদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আমরা ঋগ্বেদের মধ্য দিয়ে দেব-দেবীর স্তুতি বা প্রশংসা করতে শিখি। যজুর্বেদের যজ্ঞের মন্ত্রের সংগ্রহ। এ থেকে জানতে পারি সেকালের উপাসনা পদ্ধতি কেমন ছিল। যজুর্বেদ অনুসরণে বিভিন্ন সময়ে যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষপঞ্জি বা ঋতু সম্পর্কে ধারণা জন্মে। বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন সময়ব্যাপী যজ্ঞানুষ্ঠান করা হতো। যজ্ঞের বেদী নির্মাণের কৌশল থেকেই জ্যামিতি বা ভূমি পরিমাপ বিদ্যার উদ্ভব ঘটেছে। সামবেদ থেকে সেকালের গান ও রীতি সম্পর্কে জানতে পারি। অথর্ববেদ হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল। এ বেদ থেকে আমরা নানা রকমের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে থাকি। সুতরাং বেদের সমস্ত অংশ অধ্যয়নের মাধ্যমে পরমাত্মা, বৈদিক দেব-দেবী, যজ্ঞ, সংগীত, চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ের জ্ঞানলাভ করে জীবনকে সুন্দর, সুস্থ ও পরিপাটি করে তোলা সম্ভব। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।

203
উত্তরঃ

বেদ হচ্ছে প্রাচীনকালের ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান।

283
উত্তরঃ

ঋষিদের গভীর ধ্যানের বাণী বা কবিতাগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঋষিরা বলেছেন তাঁরা বেদ দর্শন করেছেন কোনো পুরুষ তা সৃষ্টি করে নি। সেজন্য বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়।

150
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews