অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।
মন্ত্রি পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মূখ্য শাসক ও সরকার প্রধান। তাকে কেন্দ্র করেই শাসন ব্যবস্থা আবর্তিত হয়। রাষ্ট্রপতির সকল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে পরিচালিত হয়। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের নিয়োগ, রাষ্ট্রের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ইত্যাদি ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তিনি মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন এবং সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। সর্বোপরি বলা যায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের মূল নেতা।
তাবিজয়ের রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি প্রকৃত শাসনকর্তা হিসেবে দেশ শাসনের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ নন। রাষ্ট্রপতি তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। এখানে মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির সেবকমাত্র। রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ বা সাহায্য দান করতে কোনো মন্ত্রিপরিষদ বা উপদেষ্টা পরিষদ থাকতে পারে। মন্ত্রীরা বা উপদেষ্টারা একমাত্র রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুসারেই নিযুক্ত বা অপসারিত হন। তারা সমস্ত কাজকর্মের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। মূলত তারা রাষ্ট্রপতির কর্মচারী হিসেবে কাজ করে থাকেন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিই সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রপ্রধান।
বিজয়ের রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান একই ব্যক্তি। এছাড়া তিনি আইনসভার নিকট দায়বদ্ধও নন যা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার অনুরূপ। তাই বলা যায়, বিজয়ের রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার বিদ্যমান।
হ্যাঁ, বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতির সাথে জয়ের রাষ্ট্রের সরকারের সাদৃশ্য আছে।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বলে। জয়ের রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এরূপ রাষ্ট্রে সরকারপ্রধান আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন।
মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ আইনসভার সাথে সম্পর্কযুক্ত। জয়ের রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশেও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
মন্ত্রিপরিষদের সদ্যসরা একই সময়ে আইনসভারও সদস্য থাকেন।
মন্ত্রীরা আইনসভার আস্থাভাজন থাকেন। কারণ আইনসভার আস্থা হারালে তাদের পদত্যাগ করতে হয়। এই সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এক ব্যক্তি থাকেন না। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা তাদের সকল কাজকর্মের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে বা যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন। মন্ত্রীগণ তাদের নিজস্ব কর্মের ব্যাপারে আইনসভায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।
উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার পদ্ধতির সাথে জয়ের রাষ্ট্রের পুরোপুরি সাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View Allমন্ত্রণালয় হলো সচিবালয়ের একটি প্রশাসনিক শাখা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের - মাপকাঠি হলো সে দেশের বিচার বিভাগ কার্য সম্পাদনে কতটুকু স্বাধীন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। জনগণের মৌলিক অধিকার, সংবিধান এবং আইন সংরক্ষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরি।
উদ্দীপকের আবুল কালামের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী। তিনি হলেন শাসন ব্যবস্থার মধ্যমণি। তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়। তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধান করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারালে কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি একাধারে দলের নেতা, সংসদের নেতা, মন্ত্রিসভার মধ্যমণি, রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা এবং জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংহতির প্রতীক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আবুল কালাম 'Y' রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তিনি এমন এক সূর্য যার চার দিকে রাজনৈতিক গ্রহগুলো আবর্তিত হয়। উদ্দীপকের 'Y' এর মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা পরিচালিত হয়। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদ অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
একটি দেশের জনগণ তাদের সরকারের ওপরই সর্বোতভাবে নির্ভরশীল। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান। এ ব্যবস্থায় জনগণ প্রধানমন্ত্রীকেই তাদের মূল আশ্রয় বলে মনে করে। তার ওপর দেশের উন্নতি, অবনতিত, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন প্রভৃতি অনেকাংশে নির্ভর করে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই প্রধানমন্ত্রী এ দেশের শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যন্ত সব বিষয়ের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট। দেশের উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা তার ওপর বর্তায়। এ কারণে তৃণমূল থেকে জাতীয় সব পর্যায়েই তাকে নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। তিনি জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক সংকট প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণের পাশে দাঁড়ান, সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে ভরসা দেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের মতো সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ফলে জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদটি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন কিংবা শাসন বিভাগের কাজ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা বিচার বিভাগ কর্তৃক পর্যালোচনা করার ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক। সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষাকারী হিসেবে বিচার বিভাগ এর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকে। বিচার বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ, তাহলে তা বাতিল করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তেমনি শাসন বিভাগের কোনো কাজ সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বজায় রাখতে বিচার বিভাগ এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!