দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণের ফলে যে আসক্তি হয় তাই মাদকাসক্তি।
মাদকদ্রব্য গ্রহণে শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। মাদকদ্রব্য এমন একটি উপাদান যা শরীরে ধীরে ধীরে ক্রিয়া করে মানুষকে মৃত্যুর মুখে পতিত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে শরীরের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। শরীর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং একসময় মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়।
জয়ের প্রতিদিন ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়া এক ধরনের মাদকাসক্তি। কোনো মাদক ক্রমাগত গ্রহণের ফলে যে আসক্তি তৈরি হয় তাকেই মাদকাসক্তি বলে। মাদক এমন একটি পদার্থ যা গ্রহণে দেহের ও মনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় এবং দেহ ও মনের অসুস্থতা বৃদ্ধি পায়। তেমনি কাজে উৎসাহ, শক্তি ও উদ্দীপনা হারিয়ে যায়।
জয় বাবা-মার সান্নিধ্য হতে বঞ্চিত হয়ে ক্রমাগত মানসিক হতাশায় ভুগে। একাকিত্ব ও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়ে এক সময় সে বন্ধুদের পরামর্শে ঘুমের ওষুধ সেবন করে। পরবর্তীতে জয় টাকা যোগাড় করে প্রায়ই ঔষধ কিনে খেতে থাকে। অর্থাৎ জয় ঘুমের ওষুধের প্রতি ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এটি গ্রহণে সে সাময়িক ভালো থাকলেও এটি কোনো সঠিক সমাধান না। কিন্তু বিষণ্ণতা ভুলে থাকার জন্য ও হতাশা কমানোর জন্য সে ঘুমের ঔষুধের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই বলা যায়, জয়ের প্রতিদিন ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়া এক ধরনের মাদকাসক্তি।
তারুণ্যের প্রধান নৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম।
বাবা-মায়ের মধ্যে মনোমালিন্য, পরিবারে সমস্যা, ঝগড়া-বিবাদ, অসফলতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে উপেক্ষিত তরুণেরা সাধারণত মাদকাসক্ত হয়ে।
তরুণেরা বন্ধুবান্ধব অথবা কোনো পরিচিত জনের উৎসাহে মাদকদ্রব্য গ্রহণ শুরু করে এবং পরবর্তীতে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এসব দ্রব্য সম্পর্কে জানা থাকলে তরুণরা সচেতন হবে এবং মাদকদ্রব্য থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। তরুণদের যেসব লোকজন মাদকদ্রব্য সম্পর্কে প্রলুব্ধ করে তাদের এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ বা ঠান্ডাজনিত কোনো ট্যাবলেট বা সিরাপ অনেক সময় নেশা তৈরি। করে। এসব ওষুধ বন্ধু বা কোনো ব্যক্তির পরামর্শ বা চাপে গ্রহণ করা যাবে না। যেসব ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে তাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। বন্ধু নির্বাচনে সচেতন হতে হবে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের শিশুকাল থেকে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন। অসফলতার কারণে নিজেকে বিফল মনে করলে চলবে না। অবসর সময়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যেমন- বাগান করা, বই পড়া বা কোনো সৃজনশীল কাজ করতে হবে।
সুতরাং গণসচেতনতার সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদকমুক্ত থাকার কৌশল হিসেবে বিভিন্ন রকম মাদকবিরোধী পোস্টার তৈরি, র্যালি, সমাবেশ, সেমিনার ইত্যাদির আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখলে মাদকদ্রব্য থেকে তরুণেরা নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে পারবে
Related Question
View Allবয়োবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিপক্বতা অর্জন হচ্ছে তারুণ্য।
সামাজিক অভিযোজন বলতে বোঝায় সামাজিক আচরণ করার জন্য নতুন ধরনের সংগতিবিধান।
সামাজিক অভিযোজন একটি বিকাশমূলক কাজ। সামাজিক অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো- সমবয়সী দলের প্রভাব, সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, বন্ধু নির্বাচনের জন্য নতুন মূল্যবোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি।
তিতলী যে সময়টি পার করছে সেটি হলো তারুণ্য।
তারুণ্য জীবন বিকাশের একটি স্তর। এই স্তরের বয়সসীমা হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ বছর। তিতলী ১৮ বছরের তরুণী। ইদানিং তার মাঝে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি ঘটে নতুন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেগুলো হলো-
তিতলী দৈহিক পরিবর্তন ও যৌন পরিপক্বতা অর্জন করেছে। এই পরিপক্বতা অর্জনের বৈশিষ্ট্যস্বরূপ তার ডিম্বকোষ, জরায়ু, স্তন এবং উচ্চতা ও ওজনের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে সে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা অর্জন করে। অত্যধিক আবেগ প্রবণতা তরুণদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদের সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে থাকে। দেহের পরিবর্তন, মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য তরুণরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারলে তারা নিজেদের মধ্যেই মগ্ন থাকে। তরুণরা 'স্বাধীনভাবে চলতে চায়, কিন্তু দায়িত্ব নিলে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তরুণরা বাবা-মার কাছ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান নিতে চায় না। এরা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মর্যাদা অর্জন করার জন্য পূর্ণবয়স্কদের বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
তিতলীর মাঝে নতুন আচরণগত বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব লক্ষ করা যায়। তরুণ বয়সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের বীজ রোপিত হয়। এসময় শিশু কালীন মনমানসিকতার পরিবর্তন হয় এবং ব্যক্তিত্বের পরিস্ফুটন ঘটে।
তিতলীর আবেগীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এ বয়সে সে নিজ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে, আত্মপরিচিতি অর্জন করে। তার মূল্যবোধেও পরিবর্তন আসে। এছাড়াও তার এ বয়সে অনেক সময়ই বড়দের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তিতলী নিজ লিঙ্গভুক্ত অথবা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীদের কাছে কোন কোন গুণ প্রশংসিত হবে তা বুঝতে পেরে নিজেকে সংস্কার করার চেষ্টা করে। আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিতলী দলীয় আচরণের মানকে গ্রহণ করবে এবং সে মানদন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করবে। দলের স্বীকৃতি অর্জণ ব্যর্থ হলে সে হীনম্নন্যতায় ভুগবে। ফলে ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটবে না। আদর্শ হিসেবে পরিবারের বা পরিবারের বাইরে একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে এবং তার মতো হতে চাইবে। সৃজনশীলতার প্রকাশ তাকে বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে। তার আত্মধারণার ওপর অনুকূল প্রভাব ফেলবে। নিজেকে অধিক যোগ্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারলে তিতলীর আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হবে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, তিতলীর উল্লিখিত পরিবর্তন বয়সের কারণেই ঘটেছে।
যেসব দ্রব্য সেবনে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং দৈহিক কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘস্থায়ী, প্রকট' ও বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই দ্রব্যগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়।
অর্থনৈতিক কারণে তারুণ্যের বিপর্যয় ঘটতে পারে। দারিদ্রকে তরুণদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। অসচ্ছলতার দরুন বাবা-মা সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা সমবয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে সমতা রক্ষা করতে পারে না। তাদের মধ্যে নৈরাজ্যের সঞ্চার হয়, তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং নানা রকম অপরাধে লিপ্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!