জ্ঞান-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো পণ্যকে অন্য পণ্যে রূপান্তর এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়াকে প্রক্রিয়াজাতকরণ বলা হয়।
দেড় কোটি টাকার কম মূলধন খাটে যে কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলা হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্ষুদ্র শিল্প বেশি দেখা যায়। এ শিল্পের মধ্যে চাল কল, ছোট ছোট জুতা বা প্লাস্টিক কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প অন্যতম।
সালেহার কর্মরত কারখানাটি বৃহৎ শিল্পের অন্তর্গত।
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প। দেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। এসব কারখানায় অসংখ্য মানুষ কাজ করে যাদের অধিকাংশই নারী। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
উদ্দীপকে টঙ্গীর একটি কারখানায় সালেহাসহ প্রায় ১২০০ শ্রমিক কাজ করে, যাদের অধিকাংশই নারী। সেখানে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করেছে। উৎপাদন না থাকায় মালিকপক্ষ তাদের কারখানা বন্ধ রাখছে এবং আটকে যাচ্ছে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা। সুতরাং বলা যায়, সালেহার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সাদৃশ্য রয়েছে যা বৃহৎ শিল্পের অন্তর্গত।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকের মতো বৃহৎ শিল্পের গুরুত্ব ও অবদান অপরিসীম।
বৃহৎ শিল্পগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, দেশের নাগরিকদের চাহিদা পূরণ এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের একটি মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে পোশাক খাত থেকে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নেও তৈরি পোশাক খাতের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকের সালেহাসহ প্রায় ১২০০ শ্রমিক টঙ্গীর একটি শিল্প কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের জনগণের চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View AllSAFTA-এর পুরো নাম 'South Asian Free Trade Area' বা দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা।
মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্পকে বোঝায়, যেখানে দেড় কোটি টাকার অধিক মূলধন খাটানো হয়।
মাঝারি শিল্পের উদাহরণ হলো হাল্কা ইঞ্জিনিয়ারিং, সিল্ক, সিরামিক, কোন্ড স্টোরেজ বা হিমাগার ইত্যাদি। দেশের চাহিদা পূরণ ও অনেক লোকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ ধরনের শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তমিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলির আওতাভুক্ত।
সাধারণত যেসব অর্থনৈতিক কাজের জন্য মজুরি নির্ধারিত নেই, করের আওতায় আনা কঠিন এবং যা সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় না তাকে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ বলে। যেমন- নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করা, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি, দিনমজুরি ইত্যাদি। আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা এসব কাজকে অর্থনীতির প্রথাগত খাতও বলে থাকেন।
উদ্দীপকের তমিজ উদ্দিন ও তার ছেলেরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। আবার অবসর সময়ে তিনি একটি মুদির দোকান চালান। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, তমিজ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজের আওতাভুক্ত। কারণ তাদের এ কাজের জন্য কোনো নির্ধারিত মজুরি নেই, তা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিতও নয়।
তমিজ উদ্দিনের মতো মানুষের কাজ তথা অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে- বক্তব্যটি যথার্থ।
বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অনানুষ্ঠানিক খাত অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের একজন কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করেন। তাদের এ অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। f এমনিভাবে কামার-কুমোরের কাজসহ বিভিন্ন কুটিরশিল্প, মুদির দোকান ও অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসাও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইভাবে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী স্বল্প ও মাঝারি আয়ের অনেক মানুষও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থেকে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
সামগ্রিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পরও আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিতে প্রথাগত বা অনানুষ্ঠানিক কার্যাবলি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলতে এমন অর্থনৈতিক কাজকে বোঝায়, যা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক যাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় না।
আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা একে 'প্রথাগত খাত' হিসেবেও অভিহিত করেন। এ ধরনের কাজের উদাহরণ হচ্ছে-নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!