১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস।
পরিমাপযোগ্যতা সামাজিক সমস্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
যে পরিস্থিতি পরিমাপ করা যাবে না তা সামাজিক সমস্যা নয়। এটি দৃষ্টিভঙ্গিগত ও পরিসংখ্যানিক উভয় দিক থেকে পরিমাপযোগ্য হতে হবে। ধরা যাক, পাঁচ বছর পূর্বে বেকারত্বের হার ছিল ২০%, বর্তমানে তা ৩৫%। এটি পরিমাপ করে বলা যায়। সুতরাং এটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে গণ্য হবে।
উদ্দীপকে লতার স্বামী-সন্তান মাদকাসক্তি নামক সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বর্তমান সমাজে বিদ্যমান সামাজিক সমস্যাগুলোর অন্যতম হলে মাদকাসক্তি। সাধারণভাবে নেশা বা মাদকাসক্তি হলো মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি। ১৯৮৯ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী মাদকাসক্তি বলতে দৈহিক ও মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা অভ্যাসবশত মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে বোঝায়। মাদকাসক্তি কর্মহীনতা, দরিদ্রতা, অকাল মৃত্যু পারিবারিক ভাঙন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নানা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, লতার স্বামী-সন্তান নেশা জাতীয় দ্রব্যে আসক্ত। আর নেশা জাতীয় দ্রব্যে আসক্তিকে বলা হয় মাদকাসক্তি। এতে বোঝা যায়, উদ্দীপকের লতার স্বামী ও সন্তান সমাজে মাদকাসক্তি সৃষ্টি করছে। ফলে লতার পরিবারে আর্থিক দুরবস্থা দেখা দিয়েছে।
আমি মনে করি উদ্দীপকে নির্দেশিত সমস্যা অর্থাৎ মাদকাসক্তি প্রতিরোধযোগ্য।
সাধারণভাবে বলা যায়, মাদক বা নেশা জাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তিই হলো মাদকাসক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম। এটি আমাদের সমাজে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।,উদ্দীপকে দেখা যায় লতার স্বামী ও সন্তান নেশায় আসক্ত। অর্থাৎ লতার স্বামী ও সন্তান দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাটি হলো মাদকাসক্তি। তবে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে মাদকাসক্তি রোধ করা সম্ভব। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মধ্যদিয়ে মাদক বিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে শিশুকিশোররা সচেতন হবে এবং মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। সুস্থ চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারলে শিশু-কিশোররা মাদক গ্রহণ ও অন্যান্য খারাপ অভ্যাসের দিকে ঝুঁকবে না। 'মাদককে না বলুন' এই প্রতিজ্ঞায় জনগণ বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এবং সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, পোস্টার, বিলবোর্ড, লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে এ সমস্যা বহুলাংশে রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি মাদক উৎপাদন ও পাচার বন্ধ করলে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত সামাজিক সমস্যাটি হলো মাদকাসক্তি। আর উপরোল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা প্রতিরোধ করা যাবে।
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!