পৌরনীতি মূলত নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান।
পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Civis ও Civitas শব্দ হতে এসেছে। Civis ও Civitas শব্দ দুটির অর্থ যথাক্রমে নাগরিক ও নগররাষ্ট্র। সুতরাং শব্দগত অর্থে পৌরনীতি হলো নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের কার্যাবলি ও আচরণসংক্রান্ত বিজ্ঞান। সংস্কৃতিতে 'নগরকে' পুর বা পুরী এবং নগরের অধিবাসীকে 'পুরবাসী' বলা হতো। এ কারণে নাগরিক জীবনের অপর নাম হিসেবে 'পৌরজীবন' এবং নাগরিক সম্পর্কিত শাস্ত্রকে 'পৌরনীতি' বলা হতো।
আকাশ ও আলিফের আলোচিত পৌরনীতি বিষয়টি নাগরিক জীবনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নানা বিষয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতি নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান। অতীতে বিভিন্ন রাষ্ট্রে নাগরিক জীবনের ধরন কেমন ছিল, বর্তমানে কীরূপ পরিগ্রহ করছে এবং অতীত ও বর্তমানের আলোকে নাগরিকের ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কেও পৌরনীতি সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন নাগরিকের ভূমিকা ও অবস্থান কী হবে সে সম্পর্কেও পৌরনীতি আলোচনা করে। এ প্রসঙ্গে ই. এম. হোয়াইট বলেন, "পৌরনীতি হলো জ্ঞানের সেই শাখা, যা নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।" নাগরিক জীবনের পরিসর যত ব্যাপকতর পৌরনীতির আলোচনার ক্ষেত্রও তত প্রসারিত। তাছাড়া বর্তমানে নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে, যার সমাধান পৌরনীতির মূলে নিহিত। এ কারণে পৌরনীতির জ্ঞান ব্যতীত নাগরিক জীবন পরিপূর্ণতা পায় না।
উদ্দীপকে আকাশ ও আলিফ পৌরনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তু ব্যাপকতর ব্যাপারে একমত পোষণ করে। নাগরিক হিসেবে
মানুষের জীবন ও কার্যাবলি যতদূর বিস্তৃত, পৌরনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তুও ততদূর বিস্তৃত। উত্তম ও শান্তিপূর্ণ নাগরিক জীবন গঠনের জন্য পৌরনীতি নাগরিকতা সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন-নাগরিক, নাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণারলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, ইত্যাদি বিষয়গুলো পৌরনীতির অন্তর্ভুক্ত। পৌরনীতি মানুষের সমাজবদ্ধ জীবনের প্রাথমিক সংগঠন তথা পরিবার হতে শুরু করে সমাজ, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক পরিবর্তন রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও বিকাশ, রাষ্ট্রের কার্যাবলি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রভৃতি মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পৌরনীতির আলোচ্য বিষয়। আধুনিক নাগরিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত নানা বিষয় যেমন- পরিবেশ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও এর থেকে উত্তরণের উপায় যেমন- ইভটিজিং, দুর্নীতি, সুশাসন ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতির বিষয়বস্তু এর পরিধিকে সম্প্রসারিত করেছে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, সমাজ জীবনের বিভিন্ন দিক, রাজনৈতিক ঘটনাবলির আলোচনা, শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতি ও বিকাশসহ নানা বিষয়ে পৌরনীতি বিশদভাবে আলোচনা করে থাকে। সর্বোপরি বলা যায়, পৌরনীতি একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান। গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে পৌরনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তু প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ সুশাসন, ই-গভর্ন্যান্স, জনসেবা ইত্যাদি নতুন করে পৌরনীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে উদ্দীপকে আকাশ ও আলিফ পৌরনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তুর উপরিল্লিখিত বিষয়ে একমত হয়েছিল।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!