ট্রেন কয়টায় ছেড়েছিল? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

ট্রেন বারোটায় ছেড়েছিল।

Najjar Hossain Raju
10 months ago
118

মেজো মামার বিয়ে। ছোটো মামা আর মেজোমামা তাই এসেছেন দাওয়াত দিতে। বাড়ির সবাই বিয়ের তিন, দিন আগে মামাবাড়ি যাবে। শুধু আমিই যেতে পারব না। কারণ, আমার পরীক্ষা। হ্যাঁ, মামার যেদিন বিয়ে ঠিক, তার আগের দিনই আমার পরীক্ষা শেষ হবে।
মেজোমামা পরদিনই চলে গেলেন। শুধু ছোটোমামা রইলেন। তিনি বিয়ের তিন দিন আগে সবাইকে (অবশ্য আমি বাদে) নিয়ে যাবেন।
সেদিন খাওয়ার পর ছোটোমামার সঙ্গে গল্প করছিলাম।
আমি বলছিলাম, 'মেজোমামার বিয়েতে আর যাওয়া হলো না। ইশ! কত দিন ধরে বিরিয়ানি খাইনি। এরকম
চান্সটা মিস হয়ে গেল।'
ছোটোমামা খানিক চিন্তা করে বললেন, 'তুই কিন্তু যেতে পারিস।'
আমি উৎসাহিত হয়ে উঠলাম, 'কীভাবে?'
: তোর পরীক্ষা তো শেষ হবে ষোলো তারিখ, আর বিয়ে হলো গিয়ে সতেরো তারিখ। সুতরাং...
: তুমি তো বলতে চাও যে, আমার পরীক্ষা ঘোলো তারিখ শেষ হবে, তাহলে তো সতেরো তারিখে সহজেই যাওয়া যায় মামাবাড়ি। তুমি মনে করেছ এ কথাটা আমি ভেবে দেখিনি, কিন্তু তিনটের পরে তো আর ট্রেন নেই। মানে পরীক্ষা তো শেষ হবে সেই পাঁচটায়। কিন্তু তখন তো আর মামাবাড়ির কোনো ট্রেন পাব না। রাত্রিতে সেদিনের কোনো ট্রেনই নেই। দিনে মাত্র সাড়ে বারোটা আর তিনটায় দুটো ট্রেনই আছে। সুতরাং ষোলো তারিখেই পরীক্ষা দিয়ে মামার বাড়ি যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যেতে হলে সেই পরের দিন। মানে সতেরো তারিখে সাড়ে বারোটার ট্রেনে যেতে হবে। সেই ট্রেন গিয়ে পৌঁছবে সন্ধ্যা সাতটায়। তাহলে আর গিয়ে লাভ কী, কারণ ততক্ষণে তো মামা বরযাত্রীসহ বিয়েতে রওনা হয়ে যাবেন। যদি মামার সঙ্গে বরযাত্রী হয়ে যেতে না-ই পারলাম, তবে আর গিয়ে লাভটা কী শুনি?
: উঁহু, আমি তা বলছি না।
: তবে?
: তুই যদি সোজা কনের বাড়িতে চলে যাস-
: তার মানে?
: তোর আমাদের বাড়িতে যাওয়ার আর কী দরকার? তুই সতেরো তারিখে সাড়ে বারোটার ট্রেনে সোজা কনের বাড়িতে চলে যাবি। তাহলে তুই সেখানে বরযাত্রীদের সঙ্গে মিলতে পারবি। আর তাহলে তোর বিরিয়ানিটাও মিস যায় না। কী বলিস?
আমি তো লাফিয়ে উঠলাম- থ্রি চিয়ার্স ফর ছোটোমামা। বললাম, 'মার্ভেলাস আইডিয়া।'
আনন্দে একবারে আকাশে যাওয়ার জোগাড় করছি। কিন্তু সেই মুহূর্তে ছোটোমামা যে-কথাটা বললেন, তাতে আমি আকাশে উঠতে উঠতেই ধপ করে পড়ে গেলাম। তিনি বললেন, 'কিন্তু একটা কথা কী জানিস ফোকলা?'
: কী?
: স্টেশনের নামটাই যে আমার মনে নেই।
: স্টেশনের নাম। কোন স্টেশনের?
: ওই কনের বাড়ি যেখানে সেখানকার স্টেশনের নামই ভুলে গেছি।
: অ্যাঁ, স্টেশনের নামই জানো না! তবে যাব কী করে? আমাদের বাসার কেউ জানে না?
: না বোধ হয়। শুধু মেজোভাইয়াই জানতেন। কিন্তু তিনি চলে গেছেন।
: তাহলে?
: আমি অবশ্য একটা উপায় বাতলে দিতে পারি।
: কী উপায়?
ছোটোমামা মনে মনে কী যেন একটা হিসাবে করলেন। তারপর বললেন,
: হ্যাঁ, কনের বাড়ির স্টেশন হলো ঢাকা থেকে বারোটা স্টেশনের পর। তুই যদি গুনে গুনে বারোটা স্টেশন পর নামতে পারিস, তাহলেই চলবে।
: নিশ্চয়ই পারব।
: স্টেশনে নেমে তুই একটা রিকশা নিয়ে বলবি যে, 'চৌধুরীদের বাড়িতে যাব'। ব্যস, তাহলেই চলবে। চৌধুরীরা ওখানকার নামকরা লোক। সবাই ওঁদের চেনে।
: আমি নিশ্চয়ই যেতে পারব।
মেজোমামার বিয়ের তিন দিন আগে বাড়িসুদ্ধ সবাই চলে গেল। শুধু আমিই রইলাম। যাওয়ার সময় সবাই উপদেশ দিয়ে গেল ভালো করে পরীক্ষা দিতে।
আমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। আজ সতেরো তারিখ। আজই সাড়ে বারোটার ট্রেনে বিয়ে বাড়ি যাব। অপেক্ষা করে করে আর তর সইছে না। শেষ পর্যন্ত সাড়ে এগারোটায় বাড়ি থেকে বের হলাম। তারপর ধীরে-সুস্থে স্টেশনে উপস্থিত হলাম। ভেবেছিলাম গাড়ি ছাড়তে এখনও দেরি। ওমা! গিয়ে দেখি, গাড়ি চলতে আরম্ভ করেছে। লাফ দিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠলাম। আমি যে কামরাতে উঠলাম, সে কামরায় অবশ্য ভিড় বেশি নেই। একজন ভদ্রলোক আমাকে বললেন, 'এই যে এখানে বসো খোকা, এখানে বসো।'
আমি তাঁর পাশেই বসে পড়লাম। হঠাৎ তাঁর ঘড়ির দিকে নজর পড়তেই আশ্চর্য হলাম, আরে এ যে মোটে বারোটা বাজে! গাড়ি ছাড়ার কথা তো সাড়ে বারোটায়! আমি একটু আমতা আমতা করে বললাম, 'আপনার ঘড়িটা কি- বন্ধ, মানে বলছিলাম কি আপনার ঘড়িটা ঠিকমতো চলছে তো?'
: কী বললে?
: আজ্ঞে আপনার ঘড়িটার কথা বলছিলাম।
: ঘড়িটার কথা? তা আমার ঘড়িটা যেই দেখে সেই কিছু না বলে পারে না। আমার ছেলে মিউনিখে থাকে কিনা, তাই সেখান থেকেই ঘড়িটা পাঠিয়েছে। খুব ভালো ঘড়ি। যে দেখে সে-ই প্রশংসা করে। ঘড়িটা তোমার কাছে ভালো লেগেছে নাকি? চেনটা দেখছ তো! কী সুন্দর! এখানে এসব জিনিস টাকা ছাড়লেও পাবে না।
: আজ্ঞে আমি সে কথা বলছি না।
: তবে কী বলছিলে?
: মানে আপনার ঘড়িটা ঠিকমতো টাইম দেয় তো!
: হুঁ, হুঁ, হাসালে দেখছি। এ ঘড়ি যদি ঠিকমতো টাইম না-দেয় তবে কোন ঘড়িতে ঠিকমতো টাইম পাওয়া যাবে বলতে পারো?
: তা তো বটেই, তা তো বটেই।
: তবে?
: আপনার ঘড়ি তো ঠিকমতো টাইম দেবেই, নিশ্চয়ই দেবে, দেওয়া তো উচিত। তবে ঘড়িটা যদি মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়, কী বলে, সেটা যদি না চলে, কিংবা বলতে পারেন আপনি যদি ঘড়িটা না চালান-
: আমি ঘড়ি চালাতে যাব কেন? ঘড়িটা নিশ্চয়ই ঘোড়া নয়, তাহলে ঘড়ি চালানোর প্রশ্নই ওঠে না। ঘোড়ার পিঠে না-হয় বসা যায়, কিন্তু ঘড়িটা তো আমার পিঠেই, থুরি আমার হাতেই অবস্থান করে। আর এখন তো ঘোড়ার চেয়ে মোটর চালনাই ভালো, কিংবা ঘোড়ার বিকল্প বাইকেও চাপতে পারো।
: আজ্ঞে আমি বাইকে চাপতেও পারি না, আর ওসবে চড়ার ইচ্ছাও নেই। আর ঘোড়াকে তো মোটেই পছন্দ করি না। আমার মনে হয়, ঘোড়াও আমাকে নিশ্চয়ই পছন্দ করে না। কারণ, একবার ঘোড়ার পিঠে চাপতে গিয়ে ঘোড়াও এরকম রেগে গিয়েছিল যে আমার মনে হলো ওর পিঠে চড়াটাই ঘোড়া বোধ হয় পছন্দ করল না। আর তার ফলে রেগে গিয়েও যে ব্যাপার ঘটাল তাতে আমার সাড়ে তেত্রিশ ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়েছিল। তাই বুঝতেই পারছেন ওসব ঘোড়া-টোড়া চড়া আমি মোটেও পছন্দ করি না।
: তা বাপু তুমি যেটায় চড়তে পছন্দ করো না সেটায় আমায় চড়তে বলছ কেন?
: কই, আমি তো আপনাকে ঘোড়ায় চড়তে কখনো বলিনি, শুধু আপনার ঘড়ির টাইমটা-
: জানতে চেয়েছিলে! তা তো দেখতেই পাচ্ছ বারোটা বেজে এই দু-তিন মিনিট।
: হ্যাঁ, তা তো দেখতেই পাচ্ছি, তবে গাড়ি তো ছাড়ে সাড়ে বারোটায়। তাই ভাবছিলাম, আপনার ঘড়িটা বোধ হয় চলছে না।
: না তো, গাড়ি তো বারোটায় ছাড়ে। আমি এ গাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করি, আমি ভালো করেই জানি এ গাড়ি বারোটায় ছাড়ে।
আমি ভাবলাম কী জানি, ছোটো মামাই হয়তো গাড়ির টাইম বলতে ভুল করেছে। ভাগ্যিস, তাড়াতাড়ি এসেছিলাম। নইলে ট্রেনটা মিস হয়ে যেত। ভদ্রলোক আবার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তা তুমি কোথায় নামবে?'
: স্টেশনের নাম জানি না, তবে ঢাকা থেকে বারোটা স্টেশন পরে নামব।
: বারোটা স্টেশন পরে!
ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মনে মনে যেন একটা হিসাব করলেন। তারপর হঠাৎ উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন, 'আরে আমি যে স্টেশনে নামছি তুমিও তাহলে সেই স্টেশনেই নামছ।' ভদ্রলোক আমাকে স্টেশনের নামটি বললেন।
এমনি সময় সে গাড়ি কোনো স্টেশনে যেন থামল। তারপরই আমাদের কামরায় চেকার এল। সবার কাছে টিকিট চেয়ে আমার কাছেও টিকিট চাইল। আমি সেই ভদ্রলোকের কাছ থেকে স্টেশনটির নাম জেনে নিয়েছিলাম। তাই আট আনা ফাইন দিয়ে চেকারের কাছ থেকে ওই স্টেশনের টিকিট করে নিলাম।
গাড়ি কিছুক্ষণ পরেই চলতে আরম্ভ করল। ভদ্রলোক আমায় জিজ্ঞাসা করলেন, 'তা তুমি সেখানে কোথায় যাবে?'
: সেখানে চৌধুরী বাড়ি যাব।
: বলো কী- এ্যাঁ! আমিও তো চৌধুরীদের বাড়ির লোকই। চৌধুরী সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই। তা চৌধুরীদের তুমি কী হও?
: আজ্ঞে আমি অবশ্য কিছু হই না। তবে আমার মামার সঙ্গে আজ চৌধুরী সাহেবের মেয়ের বিয়ে। তাই সেখানে চলেছি।
: কিন্তু বিয়ে তো আজ নয়।
: আজ নয়?
: না। আজ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারিখ বদলে দেওয়া হয়েছে। কাল বিয়ে হবে। তুমি কি একাই এসেছ?
: হ্যাঁ, আমি একাই এসেছি। আজ বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তাই আমি সোজা ঢাকা থেকে কনেপক্ষের বাড়ি যাচ্ছি, কথা ছিল সেখানেই বরপক্ষের সঙ্গে মিলিত হব।
: তা ভালোই করেছ, একদিন আগে এসে জায়গাটা ভালো করে দেখে-টেখে যেতে পারবে।
আমি একটু আগ্রহের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলাম, 'দেখার কোনো জিনিস আছে?'
: তা থাকবে না কেন? মাইল তিনেক ভিতরে গেলেই পদ্মবিল। বিরাট বিল। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আছে সেখানে।
যত ইচ্ছে শিকার করতে পারো। শহরের পশ্চিমে বিরাট মাঠ। সেখানে ছেলেরা খেলাধুলা করে। তারপর ওদিকে আবার একটু জঙ্গলের মতো আছে। আগে অবশ্য ঘন জঙ্গলই ছিল। তবে এখন সেই জঙ্গল আর নেই। পাতলা দু-একটা ঝোপঝাড় যা আছে। এখন ছেলেরা ওখানে পিকনিক করতে যায়। তারপর উত্তর দিকে...

আমি আর কিছু বললাম না। সন্ধ্যার দিকেই গন্তব্যস্থানে পৌঁছে গেলাম। ভদ্রলোক আমাকে নিয়ে চৌধুরীদের বাড়িতে গেলেন। আমি বৈঠকখানায় বসলাম। তিনি ভিতরে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে আরও একজন ভদ্রলোক (মনে হয় ইনিই সেই চৌধুরী সাহেব) ও আমার সমবয়সি কয়েকটি ছেলে সেখানে এল। সেই ভদ্রলোক আমাকে দেখিয়ে বললেন, 'বুঝলে হে চৌধুরী, এই হলো তোমার জামাইয়ের ভাগনে।'
চৌধুরী সাহেব আমার দিকে চেয়ে বললেন, 'তা খোকা তুমি এখানে বসে রয়েছ কেন? ভিতরে এসো, ভিতরে
এসো।'
ভদ্রলোক আমাকে নিয়ে ভিতরে গেলেন। তারপর চৌধুরী সাহেব হেঁকে বললেন, 'কই তোমরা সব গেলে কোথায়? দেখে যাও কে এসেছে।'
কিছুক্ষণ পরেই একজন ভদ্রমহিলা সেখানে এলেন। চৌধুরী সাহেব বললেন, 'আরে দেখেছ, আমাদের জামাইয়ের ভাগনে।'
: বলো কী?
তারপর ভদ্রমহিলা আমার দিকে চেয়ে বললেন, 'তা ভাই তোমার আসতে তো কষ্ট হয়নি?'
: জ্বি না।
আমি একেবারে বিনয়ে বিগলিত।
ভদ্রমহিলা বললেন, 'ওমা, তোমরা ওকে এখনও কিছু খেতে দাওনি? এসো, এসো!' বলে তিনি আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে চললেন। তারপর যা ভূরিভোজন হলো। বিয়ের খাওয়াকে যা হার মানায়।
যাক, সে রাত্রি ভালোভাবেই কাটল। পরদিন সকালে নয়টার দিকে দুটি ছেলে এল। এ বাড়িরই ছেলে। একজনের নাম বুলু, অপরজনের নাম টুলু। তারা আমাকে এসে বলল, 'চলো আজ পদ্মবিলে শিকার করতে যাই।'
আমি আঁতকে উঠলাম। বলে কী! আমি যাব শিকার করতে! তাহলেই সেরেছে। শিকারে যাওয়ার ব্যাপারটাকে আমি তাই সরাসরি অস্বীকার করলাম। কিন্তু ছেলে দুটোও নাছোড়বান্দা। তারা আমাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেই। আমি যতই অস্বীকার করি, তারাও ততই শিকারে নিয়ে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করে। আমি যুক্তি দিয়ে বুঝাই, 'শিকার জিনিসটা ভালো নয়, খামাখা কয়েকটি প্রাণীহত্যা।'
ওদের কাছে হার মানতেই হলো।
বিরাট পদ্মবিল, স্থানে স্থানে শাপলা রয়েছে। অবশ্য পদ্মফুলের নামগন্ধও দেখলাম না কোনোখানে। সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে আসছে। শিকার করার জায়গাই বটে!
বুলু-টুলুরাই শিকার করছে। কিন্তু ওরা যে হঠাৎ আমাকেই পাকড়াও করে বসবে তা কে জানত। ওরা চার-পাঁচটা বক মারার পর আমার হাতে বন্দুক দিয়ে বলল, 'তুমি একটা শুট করো!'
আমি কী করে বলি যে, বন্দুক ছুড়তে জানি না। কিন্তু ওরাও আমাকে ছাড়বে না। বলে, 'শিকারে এসে যদি একটাও শুট না করো তবে এলে কী জন্যে?'
বাধ্য হয়েই আমাকে বন্দুক হাতে নিতে হলো। হাত কাঁপতে লাগল। ট্রিগারে টিপ দিলাম। আমার সামনেই বাঁ পাশে কিছু দূরে মোটরকারটা দাঁড় করানো ছিল। আমার গুলি ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোটরের পিছনের চাকাটা সশব্দে ফেটে গেল। বুল-টুলু দৌড়ে গেল গাড়ির কাছে। তারপর গাড়ির পিছন থেকে বাড়তি চাকাটা এনে অনেক কসরত করে লাগাল। অবশেষে বাড়ি ফিরলাম।
আজ বিয়ের দিন। তাই বাড়ি সরগরম। কোনোমতে দিনটা কেটে সন্ধ্যা হলো। বর আসার অপেক্ষায় আমরা সবাই বসে রয়েছি। এমন সময় রব উঠল, 'বর এসেছে, বর এসেছে।' কিছুক্ষণের মধ্যেই বরযাত্রীসহ বর এলেন। আমি আনন্দিত হয়ে মামার কাছে গেলাম। কিন্তু কোথায় মামা! বর তো আমার মেজোমামা নয়। এদিকে চৌধুরী সাহেব এসে বরকে বললেন, 'এই যে বাবাজি, তোমার ভাগনে কালই এখানে এসে গিয়েছে।' বর আশ্চর্য হয়ে বললেন, 'ও তো আমার ভাগনে নয়। আর একে তো আমি চিনিই না।'
: এ্যাঁ, বলো কী?
চৌধুরী সাহেব হতভম্ব। আশেপাশে যে ছেলেরা ছিল তারা খেপে উঠল।
চৌধুরী সাহেব তাদের থামালেন। তারপর আমার দিকে চেয়ে বললেন, 'তুমি কি তাহলে মিথ্যে বলেছ?'
আমি বললাম, 'জ্বি না, আমি তো ব্যাপার কিছুই বুঝছি না। আমার মামা তো এখানেই আসতে বলে দিয়েছিলেন।'
চৌধুরী সাহেব বললেন, 'ঠিক আছে তুমি আজ এখানে থাকো। তোমার মামার বাড়িতেই টেলিগ্রাম পাঠাচ্ছি। সেখান থেকে কোনো লোক এসে তোমাকে নিয়ে যাবে। তোমার মামার বাড়ির ঠিকানা কী?'
আমি ঠিকানা বললাম। তিনি টেলিগ্রাম করতে লোক পাঠালেন।
রাতটা নির্বিঘ্নেই কাটল। পরদিন ছোটোমামা এসে হাজির। তিনি টেলিগ্রাম পেয়ে ছুটে এসেছেন। এদিকে চৌধুরী সাহেব এবং ওই ভদ্রলোকও এসেছেন। ছোটোমামার সঙ্গে তাঁরা অনেকক্ষণ আলাপ করার পরই ব্যাপারটা খোলাসা হয়ে গেল।
আসলে ব্যাপারটা হয়েছে এরকম:
ছোটোমামা আমাকে হিসাব করে বলেছিলেন বারোটি স্টেশন পরে নামতে। তিনি আমাকে চিটাগাং লাইনের গাড়িতে চড়েই বারোটা স্টেশন পরে নামতে বলেছিলেন; কিন্তু আমি ভুলে ময়মনসিংহ লাইনে এসে পড়েছি। কারণ ছোটোমামা আমাকে সাড়ে বারোটার ট্রেনে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু বারোটার সময় ময়মনসিংহ লাইনের একটা গাড়ি ছিল। আমি যখন স্টেশনে আসি, তখন ওই ময়মনসিংহের গাড়িটাই ছাড়ছিল। আর ভুল করে আমি তাতেই উঠে পড়েছিলাম। তারপর ময়মনসিংহ লাইনেই বারোটা স্টেশন পরে নেমে পড়লাম। ভাগ্যক্রমে সেখানেও চৌধুরী সাহেব নামে একজন লোক ছিলেন এবং তাঁরও মেয়ের বিয়ে আমার মেজোমামার বিয়ের পরদিনই ঠিক হয়েছিল। তাই ভুল করে আমি এটাকেই আমার মেজোমামার শ্বশুরবাড়ি মনে করেছিলাম!
ব্যাপারটা খোলাসা হতেই সবাই আমরা হো হো করে হেসে উঠলাম। ছোটোমামা চৌধুরী সাহেবকে বললেন, 'এ যে দেখি রীতিমতো একটা অ্যাডভেঞ্চার। বারোটার ট্রেনটাই যত গন্ডগোলের মূল'- বলেই আবার সবাই হো হো করে হেসে উঠলেন।

Related Question

View All
উত্তরঃ

গল্পকথক অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

গল্পকথকের মেজ মামার বিয়ের দিন ঠিক হয় তার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরের দিন। কিন্তু পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনোভাবেই তার পক্ষে বিয়ে বাড়িতে যাওয়া সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় ছোট মামা গল্পকথককে একটি বুদ্ধি দেন। পরীক্ষা শেষ করে যেহেতু সে মামাবাড়ি গিয়ে বিয়েতে উপস্থিত হতে পারবে না, তাই বিয়ের দিন ট্রেনে করে কনের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি বিয়েতে উপস্থিত হতে হবে। ছোট মামার এমন পরামর্শে গল্পকথক অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং আলোচ্য উক্তিটি করে।

Najjar Hossain Raju
10 months ago
110
উত্তরঃ

যাত্রার পরিবহন হিসেবে ট্রেনের দিকটির সঙ্গে উদ্দীপক ও 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।

যাত্রাপথে আমরা নানা ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে থাকি। তার মধ্যে অন্যতম হলো ট্রেন। ট্রেনে ভ্রমণ সত্যিই খুবই আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য উদ্দীপকে ট্রেনের ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে। রাত-দুপুর ট্রেন শুধু ছুটতেই থাকে। তার কোনো বাড়িঘর নেই, তাই তার ছোটারও শেষ নেই। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে যাত্রার যে দৃশ্য আমরা দেখতে পাই, ট্রেনের কথা বলা হয়েছে। ট্রেনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা হাস্যরসাত্মকভাবে গল্পে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, যাত্রার পরিবহন হিসেবে ট্রেনের দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকও গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।

Najjar Hossain Raju
10 months ago
110
উত্তরঃ

"সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিই 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের একমাত্র বিষয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

যাত্রাপথে অবশ্যই আমাদের অনেক সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কেননা সামান্য অসাবধানতার কারণে অনেক বড় ভোগান্তি হতে পারে। আর সেখান থেকে নানা রকমের বিপদও ঘটে অনেক সময়।

উদ্দীপকে প্রতিনিয়ত ট্রেনের ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে। যেন রাত-দুপুর কোনো সময়ই ট্রেন স্থির থাকে না। মনে হয় ট্রেনের কোনো বাড়িঘর নেই; তাই তার চলার কোনো শেষ নেই। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে ট্রেনের ছুটে চলার দিকটি প্রকাশ পেলেও মূলত সামান্য ভুলের জন্য মানুষের কী পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয় তা প্রকাশ পেয়েছে। হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়নে অনেক দিক খেয়াল রাখা প্রয়োজন। গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে এ দিকটি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকে শুধু ট্রেনের ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে সামান্য ভুলের কারণে গল্পকথকের ভোগান্তি এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের কুফল ব্যক্ত হয়েছে। তাই ট্রেনের ছুটে চলার দিকটির সঙ্গে উদ্দীপক ও গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও সেটি গল্পের মূল বিষয় নয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
10 months ago
96
উত্তরঃ

আলোচ্য উক্তিটি ট্রেনের ভেতরের ভদ্রলোক গল্পকথককে ভুল বুঝে করেছেন।

গল্পকথক ভুলবশত অন্য ট্রেনে উঠে পড়েন। যে বগিতে গল্পকথক উঠেছিলেন, সে বগিতে আরও একজন, ভদ্রলোক ছিলেন। তাকে গল্পকথক ঘড়ির সময় ঠিক আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। কারণ লেখক যে ট্রেনে যাওয়ার কথা ছিল তার সময়, আর তিনি যে ট্রেনে যাচ্ছেন সেই ট্রেনের সময় মিলছে না। তাই ঘড়ির সময় ঠিক আছে কিনা এই প্রসঙ্গে নানান কথা হয়। একপর্যায়ে ভদ্রলোক লেখকের কথা ভুল বুঝে আলোচ্য উক্তিটি করেন।

Najjar Hossain Raju
10 months ago
125
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের ট্রেনে যাত্রাপথে-গল্পকথকের সঙ্গে ভদ্রলোকের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনার চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

অনেক সময় আমরা অন্যের কথা না বুঝেই বিরূপ মন্তব্য করি। কিন্তু আগে মানুষের সম্পূর্ণ কথা শুনে বোঝার চেষ্টা করতে হয় তারপর মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হয়।

উদ্দীপকে একজন পথিক জল পাওয়ার কথা অর্থাৎ কোথায় পানি পাওয়া যাবে সেই কথা জানতে চেয়েছে। কিন্তু ঝুড়িওয়ালা না বুঝেই তার প্রতিক্রিয়া পেশ করে, যা সম্পূর্ণ ভুল মন্তব্য বলে প্রতীয়মান হয়। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে ট্রেনে যাত্রাপথে গল্পকথকের সঙ্গে এক ভদ্রলোকের পরিচয় হয়। তাকে তার ঘড়ির সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সেও সম্পূর্ণ ভুল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তর দেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গল্পের এ বিষয়টির চিত্র ফুটে উঠেছে।

Najjar Hossain Raju
10 months ago
109
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews